এক বছরে সিলেটবাসী হারিয়েছেন ১০ আলেমকে – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

এক বছরে সিলেটবাসী হারিয়েছেন ১০ আলেমকে

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

এক বছরে সিলেটবাসী হারিয়েছেন ১০ আলেমকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামের দ্যুতি ছড়ানো প্রখ্যাত উলামাদের হারাচ্ছে সিলেট। গত এক বছরে সিলেটবাসী হারিয়েছে ১০ সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমকে। তারা একেক জন ছিলেন সিলেটের ইসলামিক শিক্ষার বাতিঘর। একেক জন গড়ে তুলেছিলেন একেকটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সিলেটে ইসলামিক শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। তাদের হারিয়ে শোক বিরাজ করছে সিলেটের আলেম সমাজেও। তাদের মতে চিরতরে চলে যাওয়া আলেমরা ছিলেন সিলেটের খুঁটি। তাদের নেতৃত্বে সিলেট অঞ্চলে ইসলামিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার লাভ করেছিলো।

সর্বশেষ গত ৫ই জানুয়ারি সিলেটবাসী হারিয়েছে প্রখ্যাত আলেম আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জীকে। তার জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল হবিগঞ্জে। সিলেট সহ গোটা দেশের আলেম সমাজের প্রতিনিধিরা তার জানাজায় অংশ নিতে হবিগঞ্জ ছুটে যান। সিলেটে বহুল পরিচিতি তার। আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী ছিলেন উপমহাদেশের শীর্ষ হাদিস বিশারদ। তিনি জামেয়া আরাবিয়া উমেদনগর টাইটেল মাদ্রাসা হবিগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস। এ ছাড়া হবিগঞ্জে মাদানীনগর মহিলা মাদ্রাসাও প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

সিলেটের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ মাদ্রাসার প্রবীণ মুহাদ্দিস মাওলানা খলীলুর রহমান ২৪শে ফেব্রুয়ারি সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি দরগাহ মাদ্রাসায় হাদিসের খেদমতের পাশাপাশি হযরত শাহ পরান (রহ.) মাজার মসজিদের খতিবও ছিলেন। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গত ১১ই মার্চ ইন্তেকাল করেন দেশের অন্যতম ফিকাহ বিশারদ আলেম ও সিলেটের জামিয়া দরগাহে হযরত শাহজালালের মোহতামিম মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া। মুফতি যাকারিয়া ছিলেন ইসলামী আইন শাস্ত্রে সমকালীন সিলেটের তুলনাহীন ব্যক্তিত্ব। যে কেউ যেকোনো সময় তার কাছ থেকে যেকোনো ধরনের মাসআলা, সরাসরি হোক কিংবা মোবাইলফোনে জেনে নিতে পারতেন। দরগাহ মাদ্রাসার মুহতামিমের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বেশ কিছু বছর ধরে দরগাহ মসজিদের ইমাম ও খতিবও ছিলেন তিনি। ছিলেন দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের সিলেট জেলার আমীর।

জামিয়া মাহমুদিয়া ইসলামিয়া সোবহানীঘাট সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা শফিকুল হক আমকুনী ২০শে এপ্রিল ইন্তেকাল করেছেন। বরেণ্য এ আলেম সিলেট নগরীর সোবাহানীঘাট জামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম, সোবহানীঘাট মসজিদের মুতওয়ালি ও খতিব হিসেবে আজীবন দায়িত্ব পালন করে গেছেন। সিলেট নগরের আলীম সমাজের একজন অভিভাবক ছিলেন।

সিলেটের প্রাচীনতম দীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার শায়খুল হাদিস মাওলানা শিহাবুদ্দীন গত ১লা জুন ইন্তেকাল করেন। আল্লামা শিহাবউদ্দীন সিলেটের শীর্ষস্থানীয় অন্যতম হাদিস বিশারদ ছিলেন। জামেয়া রেঙ্গায় একাধারে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও অধিক কাল তিনি শায়খুল হাদিস হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের আঞ্চলিক শিক্ষাবোর্ড আযাদ দ্বীনি এদারার নাজিমে ইমতেহান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।

বরেণ্য আলেম সদর উপজেলার জামেয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া দনুকান্দি মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা ফখরুদ্দীন সাদিক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাক করে ২০শে জুন মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিয়ানীবাজার উপজেলার সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সিলেট বিভাগের ঐতিহ্যবাহী ইসলামী বিদ্যাপীট জামেয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর থেকে প্রথম দাওরায়ে হাদিস কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেন। তিনি ঢাকা উত্তর রানাপিং আরাবিয়া হোসাইনিয়া জামেয়া কাসিমূল উলুম মেওয়া মাদ্রাসাসহ সিলেটের বিভিন্ন মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ও মুহাদ্দিস হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।

আল্লামা ফুলতলী (রহ.) এর খলিফা আল্লামা শুয়াইবুর রহমান বালাউটি হুজুর ৩রা অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। কর্মজীবনে তিনি ১৯৬২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাদেদেওরাইল ফুলতলী দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। আট গ্রামের আমজাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায়ও তিনি সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি জালালপুর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন।

গত ১৫ই ডিসেম্বর শনিবার বৃহত্তর সিলেটের বিশিষ্ট আলেম গহরপুরী (রহ.)এর খলিফায় মাওলানা নুরুল ইসলাম বিশ্বনাথী নগরীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। নুরুল ইসলাম বিশ্বনাথী আতাপুর মাদ্রাসা, কালিগঞ্জ মহিলা মাদ্রাসা, বাগিচা বাজার মাদ্রাসা বিশ্বনাথ-এর মোহতামিম ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি খেলাফত মজলিস বিশ্বনাথ উপজেলার সাবেক সভাপতি ছিলেন।

একই দিনে ওসমানীনগর থানাধীন জামেয়া দারুসসুন্নাহ গলমুকাপন মাদ্রাসার সাবেক নাজিমে তালিমাত (শিক্ষা সচিব) মাওলানা আবদুল খালিক (কিয়ামপুরী হুজুর) ইন্তেকাল করেন সিলেটের প্রখ্যাত আলেম নগরীর রেলগেইট জামে মসজিদের প্রধান খতিব মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান ইন্তেকাল করেন ২৫শে ডিসেম্বর। তিনি উপমহাদেশে ওলীকুল শিরোমনি শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী (রহ.) অন্যতম খলিফা ছিলেন।

বৃহত্তর সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় তার ভক্ত ও আশেকান রয়েছেন। তিনি জালালপুর আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষক, ওসমানীনগর গোয়ালাবাজার খাদিমপুর কাঠালখাইড় হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্টসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল