এক ব্যক্তির অপতৎপরতায় অতিষ্ট সিলেটের হবিনন্দী এলাকাবাসী ও স্বজনরা, সুবিচার দাবি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

এক ব্যক্তির অপতৎপরতায় অতিষ্ট সিলেটের হবিনন্দী এলাকাবাসী ও স্বজনরা, সুবিচার দাবি

প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৬

এক ব্যক্তির অপতৎপরতায় অতিষ্ট সিলেটের হবিনন্দী এলাকাবাসী ও স্বজনরা, সুবিচার দাবি

ovjug৩০ অক্টোবর ১৬. রবিবার: নগরীর দক্ষিণ সুরমার ২৭ নং ওয়ার্ডের হবিনন্দি এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এক ব্যক্তির অসামাজিক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী তৎপরতায় অতীষ্ট হয়ে উঠেছেন স্থানীয় জন সাধারণ। তারা বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এবং ১৭ মে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইতিমধ্যে অবগত করে রেখেছেন। সর্বশেষ ৩০ অক্টোবর রোববার এলাকাবাসী সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রোকন উদ্দিনকে অবহিত করে এসব অপতৎপরতা থেকে পরিত্রাণ পেতে সহযোগিতা কামনা করেছেন। এসময় এলাকা বাসীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ইরান, সাধারণ সম্পাদক ছয়েফ খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ, সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, ২৭নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি গোলজার আহমদ জগলু, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাক খান, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ফয়েজ উদ্দিন পলাশ, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ময়না মিয়া, আব্দুল বাছিত, জুনেদ আহমদ, সাবু মিয়া, শামীম আহমদ, নাজমূল আলম রাজনসহ এলাকার বাসিন্দারা।
এর আগে তার অপতৎপরতা থেকে বাঁচতে ১৩মে এলাকার দু’শতাধিক ভূক্তভোগীদের স্বাক্ষর যুক্ত স্মারকলিপি এসএমপি কমিশনারের বরাবরে প্রদান করেছিলেন। এর পর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে আত্মীয় স্বজন সহ এলাকার নিরপরাধ মানুষদের জড়িয়ে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু উক্ত মামলার কোন সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। প্রমাণিত হয়েছে তিনি নিজে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করে স্থানীয় কিছু আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীর উপর দোষ চাপিয়ে মামলা করেছেন। ওয়াজ মাহফিলের মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে মসজিদের ইমাম সাহেব ও স্থানীয় লোকজনের সাথে অশালীন আচরনেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আলোচিত এই ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম ফোকন। তিনি দক্ষিণ সুরমার পশ্চিমভাগ নোয়াগাঁওয়ের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হবিনন্দী এলাকায় তাওহীদ একাডেমী নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে উক্ত নজরুল ইসলাম ফোকন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নাই বললেই চলে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ও গাড়ীতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে তিনি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে যাচ্ছেন। এঅবস্থা থেকে বাদ যাননি তার আপন বোন নাজমিন বেগমও। তিনি ১৩ এপ্রিল তার ভাই ফোকনের সন্ত্রাসী হামলা ও লুঠপাটের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা (নং ০৩/৪২) দায়ের করেন। উক্ত মামলায় ২১ দিন জেল খাটেন তিনি। তাছাড়াও গাড়ি ভাংচুর মামলায়ও তিনি চার্জশীটভুক্ত আসামী ছিলেন। নানা অপকর্ম চালিয়ে গেলেও প্রতিবাদ করে স্থানীয় লোকজন রেহাই পাচ্ছেননা। প্রতিবাদীদের জড়িয়ে দিচ্ছেন মিথ্যা মামলায়। তার আক্রোশ থেকে বাদ যাননি এলাকার গণ্যমাণ্য মুরব্বিয়ান মসজিদের মোতাওয়াল্লী ও ইমাম সাহেব। তার বিরুদ্ধে অশালীন ব্যবহার ও সামাজিক বিচারাচার উপেক্ষায় অভিযোগ আছে। স্থানীয় লোকজন জানান তাওহীদ একাডেমিতে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিন চার জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক নিয়ে আড্ডায় মেতে উঠেন। উচ্চস্বরে গান বাজানো সহ মাদকদ্রব্য সেবন করে অসংলগ্ন আচরণ করে থাকেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় তার সাথে এলাকার মানুষের কোন বিরোধ ছিলো না। ফোকনের মা ও খালাদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিলো। আপোষনামা সম্পাদনের মাধ্যমে সেই বিরোধ নিষ্পত্তি করে জমিজমা ভাগবাটোয়ারা করে দেন স্থানীয় মুরব্বিয়ানরা। তার মায়ের অনুরোধে মুরব্বিয়ানরা নিষ্পত্তি করে দিলেও ফোকন তা মেনে নেন নি। এর পর তাওহীদ একাডেমী নামের একটি নামমাত্র স্কুল প্রতিষ্ঠা করে নানা অভিযোগে ১৩ এপ্রিল এলাকার লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে অসত্য তথ্য সরবরাহ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকেন। তার বিরুদ্ধে কথা বললে মামলা দিয়ে জেল খাটানোর হুমকি দিয়ে থাকেন তিনি।
২৭ জুন এলাকার ফারুক মিয়া থানায় একটি জিডিতে (নং ৯৮৬ তাং ২৭/০৬/১৬) উল্লেখ করেন ফোকন মাতাল হয়ে নিজের গাড়ি ভেঙ্গে পতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তাছাড়া নিজেকে জখমি করে অন্যকে ফাঁসাতেও তিনি পিছপা হন না।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল