এক যুবরাজের গল্প – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

এক যুবরাজের গল্প

প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৭

এক যুবরাজের গল্প

জনাব তারেক রহমান হচ্ছেন বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। যার নামের শেষাংশটি এসেছে তার পিতা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম থেকে।

শিক্ষা জীবন :
জনাব তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর। তার পিতা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং মাতা দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তারেক ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ হতে মাধ্যমিক ও নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। তবে অন্যান্য সুত্রে জানা যায়, তারেক রহমান রাজধানীর বিএফ শাহীন স্কুলে লেখাপড়া করলেও ১৯৮১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেন গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে। ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে আইন বিভাগে ও পরে লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পেশা হিসেবে ব্যবসাকে বেছে নিয়ে বস্ত্রশিল্প ও নৌ-যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ করেন। বর্তমানে তারেক রহমান লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশাস্ত্র পড়ছেন বলে জানা যায় ।

রাজনৈতিক জীবন :
পিতা জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বগুড়া কমিটির সদস্য হিসেবে যোগদান করে জনাব তারেক রহমান তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা করেন। আনুষ্ঠানিক ভাবে সংগঠনে যোগ দেয়ার পূর্বেই তারেক রহমান রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমান তার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহচর হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তারেক রহমান মা বেগম জিয়ার প্রচারণা কার্যক্রমের পাশাপাশি পৃথক পরিকল্পনায় দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। মূলত ২০০১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তার অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে তারেক রহমানের সক্রিয় আগমন ঘটে l

২০০২ সালে তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির ১ম যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্মপ্রাপ্ত হন। দলের উর্দ্ধতন পর্যায়ে নিয়োগ লাভের পরপরই তারেক রহমান দেশব্যাপী দলের মাঠপর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। মূল সংগঠন সহ সহযোগী সংগঠন যেমন জাতীয়তাবাদী যুব দল, জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ইত্যাদি আয়োজিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন ও মাঠপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেন। মূলত এই জনসংযোগ কার্যক্রমের ফলে দলের নেতাকর্মীদের তরুণ অংশটির মাঝে তারেক রহমান শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিত থেকে বেরিয়ে এসে দলের একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর ধ্বংসাত্বক কর্মকান্ডের কারণে দেশে বিশৃংখল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ জানুয়ারী, ২০০৭ তারিখে নিয়মতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অপসারণ করে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয় যার প্রধান ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ এবং সেনাপ্রধান ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পরে জেনারেল হিসেবে অবসর নেন) মঈন উদ্দীন আহমেদ। ১২ জানুয়ারী উপদেষ্টা পরিষদ নাম্নী একটি মন্ত্রীসভা গঠিত হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ মামলা দায়ের করা হয়। ৭ মার্চ, ২০০৭ তারিখে একটি দূর্নীতি মামলার আসামী হিসেবে তারেক রহমানকে তার ঢাকা ক্যান্টমেন্টস্থ মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আরও ১৩টি দূর্নীতির মামলা দায়ের করা হয় ও তাকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়।


আটকাবস্থায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ :

গ্রেপ্তারের কিছুদিন পর জনাব তারেক রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য তার আইনজীবিরা আদালতে অভিযোগ করেন যে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে তারেক রহমানের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে চিকিৎসকদের একটি দল পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর আদালতকে জানায় যে তারেক রহমানের উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ যুক্তিযুক্ত। এই পর্যায়ে আদালত রিমান্ডে নেয়ার আদেশ শিথিল করে তা কমিয়ে ১ দিন ধার্য করেন ও জিজ্ঞাসাবাদকারীদের সাবধানতা অবলম্বনের আদেশ দেন। এরপর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিবর্তে ঢাকার শাহবাগস্থ পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।২৫ আগস্ট, ২০০৭ তারিখে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে জনাব তারেক রহমান তার হাসপাতাল কক্ষে পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা দেয়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

মুক্তিলাভ :

২০০৮ এর আগস্টে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো আদালতে গতি লাভ করে। প্রায় আঠারো মাস কারান্তরীণ থাকার পর ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখে সবগুলো মামলায় তারেক রহমানের জামিন লাভ করেন ও পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি লাভ করেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগগুলো এই মুহুর্তে জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে আছে। কোন কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সন্দেহ পোষণ করেছেন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ অনেকাংশেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত।

চিকিৎসা ও লন্ডনে অবস্থান :

১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখে বিশেষ কারাগার থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পিজি হাসপাতালে পুত্র তারেক রহমানকে দেখতে যান। সেদিন রাতেই তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বর্তমানে লন্ডনের সাউথ ওয়েলিংটন হসপিটাল ও লন্ডন হসপিটালে তার চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসার সুবিধার্থে তিনি কিংস্টনে সপরিবারে বসবাস করছেন।

জনাব তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করায় তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বর্তমানে অমীমাংসীত অবস্থায় রয়েছে। সিঙ্গাপুরে অর্থপাচার মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তার করা আবেদনের প্রেক্ষিতে, ২০১৩ সালের মে মাসে ঢাকার একটি আদালত তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারী করে। এর প্রতিবাদে বিএনপি দেশের বিভিন্ন এলাকায় হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল :

৮ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। উক্ত কাউন্সিলে তারেক রহমানের একটি ধারণকৃত বক্তব্য উপস্থিত জনসমাবেশের উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়। বক্তব্যটিতে তারেক রহমান জানুয়ারী ২০০৭-এ ক্ষমতায় আসা অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতে তার অন্যায় গ্রেপ্তার ও বন্দী অবস্থায় নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে আপাতদৃষ্টিতে মনে হওয়া বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার আড়ালে তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তারেক রহমান তার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দেন ও জানান তার চিকিৎসা সম্পন্ন হতে আরও সময় প্রয়োজন। এই বক্তব্য প্রচারিত হওয়ার সময় উপস্থিতদের কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

উক্ত কাউন্সিলে আরও বক্তব্য রেখেছেন ব্রিটিশ সংসদ সদস্য জর্জ গ্যালোওয়ে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমূখ।

দ্বিতীয় বারের মত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত :
২০২৬ সালের ৬ মার্চ জনাব তারেক রহমান দ্বিতীয় বারের মত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । এইদিন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এ নির্বাচনের জন্য গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এ ঘোষণা দেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল হক, ইসির সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে তারেক রহমানের ভিডিওতে ধারনকৃত ভাষন প্রচারিত
হয় ।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব উত্তরাধিকার, অর্জন ও বৈধতা

তাত্ত্বিক ও ফলিত রাজনীতি বিজ্ঞান আলোচনায় নেতৃত্ব সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচিত হয়। নেতৃত্ব সাহিত্যে উত্তরাধিকার, অর্জন, সম্মোহন ইত্যাদি ধরনের নেতৃত্বের আলোচনা রয়েছে। যিনি মানবকল্যাণের লক্ষ্যে স্থিরকৃত লক্ষ্যার্জনের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভের পথ মানেন, সে লক্ষ্যে নিজেকে এবং সংগঠিত অনুসারীদের পরিচালনায় সক্ষম তিনিই হচ্ছেন সফল রাজনৈতিক নেতা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট জর্জ পম্পিডু বলেছিলেন : রাজনীতিক জাতিকে তার সেবায় নিয়োজিত রাখেন। আর রাষ্ট্রনায়ক জাতির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন।
সমকালীন বাংলাদেশের যুব রাজনীতিতে তারেক রহমান সবচেয়ে আলোচিত নাম। আগামী দিনের বাংলাদেশ-রাজনীতির কাণ্ডারি হিসেবেও তিনি হন বিবেচিত। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তিনি উত্তরাধিকারভিত্তিক আত্মতুষ্টির যেমনি অংশীদার, তেমনি নিজ যোগ্যতা ও সাধনার বলে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী ও উদার ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী আপামর জনতার কাছে এরই মধ্যে সংগ্রামী ও ত্যাগী নায়ক হিসেবে গ্রহণীয় হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, স্বাতন্ত্র্য ও আধিপত্যবাদবিরোধী জনতার সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অবিসংবাদিত ভবিষ্যত্ নেতা হিসেবেও তার আসন এরই মধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে।
সব যুগে সব দেশের রাজনীতিতে উত্তরাধিকার নানাভাবে কমবেশি কাজ করে থাকে। এ প্রভাব থেকে আধুনিক ও উন্নত দেশগুলোও সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে তো উত্তরাধিকার এখনও নেতৃত্বের অন্যতম নির্ধারক। উপমহাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে উত্তরাধিকারের জয়জয়কার চলছে। অনুন্নত বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজনীতি তখনই টেকসই ও গ্রহণীয়তা পায় যখন এর সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যক্তিগত যোগ্যতা, শ্রম আর সাধনা। নেহরু, বন্দরনায়েকে ও ভুট্টো পরিবারের সন্তানরা উত্তরাধিকার ও যোগ্যতার সমন্বয়ে দেশবাসী ও অনুসারীদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। সাধারণের কাছে নেতৃত্বের এ আবেদন ও জনপ্রিয়তা নেতাকে এনে দেয় বৈধতা। আর গণতান্ত্রিক সমাজে নির্বাচিত বৈধ নেতৃত্বই জনগণের কাছে স্বাভাবিকভাবে বরণীয় হয়ে দেশ ও দশের কল্যাণ সাধনে সক্ষম হন।
অবারিত সুযোগ থাকলেও উত্তরাধিকার তারেক রহমানের রাজনীতির একমাত্র পাথেয় হয়নি। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করে দল ও দেশের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে পর্যায়ক্রমে তিনি হয়ে উঠেছেন জননেতা। তার পিতা বীর উত্তম জিয়াউর রহমান যেমনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে কিংবদন্তিসম গৌরবময় ভূমিকাকেন্দ্রিক জনপ্রিয়তা অবলম্বন করে রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নেননি, বরং জাতির ক্রান্তিকালে বাধ্য হয়ে রাজনীতিতে এসেছেন—তেমনি তারেক রহমানও কেবল উপর থেকে আয়োজিত নেতা না হয়ে পর্যায়ক্রমে অনুসারীদের দ্বারা অনুরুদ্ধ হয়ে দল ও দেশের প্রয়োজনে সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন। এ বাস্তবতা তারেক রহমানের মতো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রেও ছিল সমাধিক প্রযোজ্য। শহীদ জিয়ার অবর্তমানে দল ও দেশের এক দুঃসময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও রাজনীতিতে আবির্ভূত হতে হয়েছে। রাজনীতিতে তাদের পদচারণা যেমনি সময়ের দাবি ছিল, ঠিক তেমনি সময়কেও পরবর্তীকালে নিয়ন্ত্রণে তারা হয়েছেন সক্ষম।


তারেক রহমান শহীদ জিয়ার আদর্শানুসারী একমাত্র রাজনীতিক, যিনি রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার সাধনায় নিয়োজিত। ‘আমার শিক্ষক’ নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘যে সময় একজন কিশোরের পথ চলতে শেখার জন্য দরকার তার জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শিক্ষককে, অর্থাৎ তার বাবাকে; কিন্তু আমার এই শিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি বেশি কিছু শেখার অবকাশ হয়নি। তার প্রধান কারণ, আমাদের এই শিক্ষকের কাঁধে ন্যস্ত ছিল সেই সময়ে সমগ্র দেশ ও জনগণের গুরুদায়িত্ব। তাই পরবর্তী সময়ে আমাদের শিখতে হয়েছে এই শিক্ষকের রেখে যাওয়া সততা থেকে, শিখতে হয়েছে তার রেখে যাওয়া আদর্শ থেকে এবং সেসব কর্ম থেকে, যা তিনি একজন পিতা হিসেবে আমাদের দিয়ে করিয়েছেন, বলেছিলেন করতে, তা থেকে। তারই ছোট ছোট অনেক ঘটনা রয়েছে। ঘটনাগুলো বিচার করলে এর প্রভাব আমাদের জীবনে অনেক।’

শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ সম্পর্কে বেগম খালেদা জিয়ার অভিমত হচ্ছে : পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মুসলিম লীগ নেতৃত্ব দিয়েছিল, কিন্তু পরে তারা যুগের চাহিদা মেটাতে পারেনি। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পুরোভাগে আওয়ামী লীগ ছিল। কিন্তু পরে তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে সফল হতে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতার পটভূমিতেই বিএনপির জন্ম। একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী রাজনীতি করার অঙ্গীকারে, সঙ্কটে, শান্তিতে, সংগ্রামে এ দল গত ৩১ বছরে নতুন রাজনীতির ধারা তৈরি করেছে। অনেক অভিজ্ঞতায় এ দল শিক্ষিত। অনেক শহীদের রক্তে আমাদের প্রতিজ্ঞা অটল হয়েছে। দ্বন্দ্ব-বিভাজন-সংঘাতের বিপরীতে আমরা জাতীয় ঐক্যের পতাকা উড্ডীন রেখে চলেছি। আমরা সব ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী-পেশার মানুষ সাম্প্রদায়িকতাকে রুখে দাঁড়াব। বিশ্ব পরিসরে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সবার দিকে বাড়িয়ে দেব বন্ধুত্বের হাত। থাকব অনড়, অটল। ডান কিংবা বামপন্থী আমরা নই। আমাদের ডানে যাদের অবস্থান তারা ডানপন্থী, আমাদের বামে যাদের অবস্থান তারা বামপন্থী। আমাদের অবস্থান ডানপন্থীর বামে এবং বামপন্থীদের ডানে। আমাদের অবস্থান কেন্দ্রে এবং এদেশের রাজনীতির কেন্দ্র আমরাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলই এ দেশের মূলধারা-বিএনপিই বাংলাদেশের জাতীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান’ (‘ডানপন্থীর বামে বামপন্থীর ডানে’)।
শহীদ জিয়ার মতো তারেক রহমানও বিশ্বাস করেন, আদর্শনিষ্ঠ ও প্রশিক্ষিত নেতাকর্মীই রাজনৈতিক দলের প্রাণ। এ প্রসঙ্গে জিয়াউর রহমান লিখেছেন, ‘দলের আদর্শকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সর্বক্ষেত্রে কর্মসূচি এবং সেই কর্মসূচির বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলের জন্য অপরিহার্য। কারণ সংগঠন ছাড়া রাজনীতি করা যাবে না। কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে না। সংগঠনের ভিত্তি হবে তার আদর্শ। তাই পার্টির সংগঠনে যারা থাকবেন তাদের পার্টির আদর্শ অবশ্যই জানতে হবে। কেবল জানলেই চলবে না, সেটা সম্পূর্ণভাবে বুঝতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে। আমাদের দলে যারা রয়েছেন কর্মকর্তা, নেতৃবৃন্দ, যারা রয়েছেন কর্মী তাদের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শ জানতে হবে, বুঝতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে এবং সেই বিশ্বাসে অনুভূত হয়ে আদর্শকে বাস্তবায়িত করতে হবে’ (প্রশিক্ষিত কর্মীই রাজনৈতিক দলের প্রাণ)।


আদর্শনিষ্ঠ ও প্রশিক্ষিত নেতাকর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান বহু কর্মী-প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করেছিলেন। মেধাবী, সৎ ও যোগ্য লোকদের দেশ গড়ার রাজনীতিতে উৎসাহী করতে গৃহীত হয়েছিল বহু কার্যক্রম। জিয়ার উত্তরসূরি তারেক রহমানও এ লক্ষ্যেই আয়োজন করেছেন বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয় তৃণমূল সম্মিলন ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভা। এভাবে তারেক রহমানও শহীদ জিয়ার পথ ধরে কেন্দ্র থেকে প্রান্তে ছুটে গিয়েছেন বাংলাদেশকে জানতে—বাংলাদেশকে গড়তে। চেয়েছেন প্রান্ত দ্বারা কেন্দ্রকে করতে প্রভাবিত।
জিয়ার ন্যায় ‘ভিশন’ ও ‘মিশন’ অনুসারী তারেক রহমান তার স্বপ্নের বাংলাদেশকে দেখেছেন নিম্নোক্তভাবে : ’৭১-এর তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। শতকরা হিসেবে এই বৃদ্ধির হার যাই দেখানো হোক না কেন, ২০ বছর পরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২৫-৩০ কোটিতে পৌঁছতে পারে। ফলে বাড়তে পারে বেকার সমস্যা। মানুষ হয়তো বঞ্চিত হতে পারে খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিত্সার সমান সুযোগ থেকে। কমে যাবে চাষাবাদের জমি, অনেকের বসবাস করার মতো জায়গা থাকবে না। কিন্তু সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এজন্য প্রথমেই দরকার শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার। শিক্ষিত বেকার সৃষ্টির পরিবর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বেরিয়ে আসবে কর্মঠ ও উপার্জনক্ষম তরুণ সমাজ। এদের মধ্য থেকে অনেকে যাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রায় সমৃদ্ধ হবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের যে গ্রাম আমি কল্পনা করি তাতে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থাকবে। গ্রামবাসী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে নয়, বরং কাছাকাছি বাস করবে। যার ফলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোনসহ সব পরিষেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়। আমাদের শহর বা গ্রামের বাড়ি-ঘর ভার্টিক্যালি তৈরির জন্য সচেতনতা সৃষ্টি প্রয়োজন। এক বর্গমাইলের মধ্যে পাঁচটি বাড়ি না করে ৫শ’ গজের মধ্যে ৫০টি বাড়ি গড়ে তোলা উচিত। ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশের মানুষ বসবাসের এ অভ্যাস গড়ে তোলে তাহলে সব উন্নত সামাজিক সুবিধা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব। ফলে শহরের ওপর চাপ কমে আসবে। …ভূমির পরিমাণ কম হওয়ায় এদেশে বেশিসংখ্যক শিল্পস্থাপন করার তাগিদ রয়েছে। বস্তুত শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। …আমাদের সম্ভাব্য সমৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করছে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর আর বঙ্গোপসাগরের পানির নিচে থাকা সম্ভাব্য তেল সম্পদের ওপর। পরিকল্পিতভাবে আমাদের এসব সম্পদের সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। …একটি বিকল্প হিসেবে আমি সূর্যালোক ও বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুত্ উৎপাদনকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় মনে করি। এ প্রসঙ্গে সার্ক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ওপর তাগিদ দিতে চাই। …পানির অপর নাম জীবন। পানিসম্পদের ব্যাপারে সতর্ক পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন। …আমাদের সীমান্তের বাইরে বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশে পানিসম্পদ বিপন্ন হতে চলেছে। বর্ষা মৌসুমে আমাদের অবশ্যই পানি ধরে রাখতে হবে। এবার আমি রাজনৈতিক প্রসঙ্গে আসতে চাই। কারণ কঠিন সত্য হলো ভেতরে যদি স্থিতিশীলতা না থাকে তাহলে কোনো ক্ষেত্রেই আশানুরূপ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য পরিচালিত দুই-দুটি যুদ্ধে বিজয় অর্জন করলেও বাংলাদেশ যে সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, …আমার বিশ্বাস, ২০২৫ সালের বাংলাদেশ হবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, অর্থনৈতিকভাবে সফল, উন্নত গণতান্ত্রিক একটি দেশ, যাকে অন্যরা শ্রদ্ধা করবে, যার দিকে বিশ্ববাসী সম্মানের সঙ্গে তাকাবে। এই হচ্ছে আমার এবং আমার প্রজন্মের সব বাংলাদেশী তরুণ-তরুণীর বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্ন (দৈনিক মানবজমিন আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় তারেক রহমান প্রদত্ত বক্তব্য। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৫)।

পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা গেছে যে, যুগে যুগে জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে নানাভাবে জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে চরম বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। তারেক রহমানও এর ব্যতিক্রম নন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, স্বাতন্ত্র্য ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় নিবেদিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঐক্যের প্রতীক জিয়া পরিবারকে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে ১/১১-পূর্ব ও পরবর্তীকালে ষড়যন্ত্রের নানা জাল বোনা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও দেশপ্রেমিক জনগণের সহায়তায় জিয়া পরিবার আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে সবলভাবে। দেশপ্রেমিক জনগণের প্রত্যাশা তারেক রহমান নিজ যোগ্যতায় হয়ে উঠবেন আরও উজ্জ্বলতর। জিয়া পরিবারের হিতৈষী এবং তারেক রহমানের শিক্ষক অকাল প্রয়াত প্রফেসর এ.ইউ.বি রাজিয়া আকতার বানু ১/১১-পরবর্তীকালে তারেক রহমান সম্পর্কে লিখেছেন : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে শারীরিকভাবে ধ্বংস করে চিরদিনের জন্য রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিতাড়নের চেষ্টা হয়েছিল। শুধু তারেক রহমান নয়, যে কোনো মানুষের জীবনের জন্যেই এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। …জাতীয়তাবাদী রাজনীতি কোনোভাবেই একজন সফল ও বলিষ্ঠ তরুণ সংগঠকের সেবা বঞ্চিত হতে পারে না। তারুণ্য ২০০৯-এর নির্বাচনে যথেষ্ট অবদান রেখেছে। বিএনপিকে ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনের সুষ্ঠু প্রস্তুতির জন্য তারেক জিয়ার উপস্থিতি জরুরি। …সবচেয়ে বড় কথা হলো, বর্তমান বিএনপি নেত্রী যিনি জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের প্রতীক, যিনি বিএনপিকে সংগঠিত করে এতদূর নিয়ে এসেছেন তিনি সব ধরনের সহায়তা স্বচ্ছন্দে তারেকের কাছ থেকে পেতে পারেন। …মাস্টারদের সমস্যা হলো সবাইকে ছাত্র মনে করা (তারেক আসলেই আমার ছাত্র) এবং কিছু উপদেশ দান করা। …যদি স্বাস্থ্য অনুমোদন করে তাহলে এই সুযোগে সে বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবনী ও রাজনৈতিক তত্ত্ব পড়ে ফেলতে পারে। …নেহরু, ম্যান্ডেলা, জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিঙ্কন এমনকি ওবামা, গান্ধী, এডমন্ড বার্ক, প্লেটো, এরিস্টটল, হবস, লক, রুশোর লেখনী একজন রাজনীতিকের জ্ঞানকে অনেক সমৃদ্ধ করে। তার দূরদৃষ্টি চার দেয়ালের বাইরে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয়, তাকে জ্ঞানসম্পন্ন করে এবং সুশাসনে উদ্বুদ্ধ করে। তাকে কৌশলী হতে হবে যেন অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি না হয়। পরিবর্তিত, পরিশীলিত, জ্ঞানী, ধৈর্যশীল এক তারেক জিয়ার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন ঘটুক এটা বিএনপি ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য শুভ সংবাদ (জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও তারেক জিয়া)।
পৃথিবীর সব মানুষ সব যোগ্যতা ও সব সুযোগ সব সময় লাভ করে না। তারেক রহমান উত্তরাধিকার ভিত্তিতে প্রাপ্ত সুযোগ ও অর্জিত যোগ্যতার ওপর ভর করে এরই মধ্যে জাতীয়তাবাদী শক্তির আগামীদিনের বৈধ নেতার আসন অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও অভিজ্ঞ ও বিকশিত তারেক রহমান বাংলাদেশ গণতন্ত্রকে আরও উদার ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দানে সফল হবেন—তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধী ও স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাবে—এটিই দেশপ্রেমিক দেশবাসীর প্রত্যাশা।
ডালিয়া লাকুরিয়া
(সহসভাপতি)
যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবকদল