এটাই শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের দেশপ্রেম! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

এটাই শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের দেশপ্রেম!

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০১৭

এটাই শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের দেশপ্রেম!

“অন্যদেশে গুম হওয়া ব্যাক্তির জন্য টিউলিপরা আন্দোলন করতে পারে, কিন্তু নিজের দেশের গুম হওয়াদের উদ্ধারে একটা ফোনও করতে পারে না। এটাই শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের দেশপ্রেম!” বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ আহমাদ বিন কাশেম আরমানের ব্যাপারে প্রশ্ন করায় ব্রিটিশ সাংবাদিককে শেখ রেহানা কণ্যা টিউলিপের ‘আমি বাংলাদেশি কেউ না’ মন্তব্যের জেরে এমন মন্তব্য করেছেন শিবির সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত। ফেসবুকে টিউলিপের সেই বক্তব্যের নিউজ শেয়ার করে তিনি এমন মন্তব্য করেন। শিবির সভাপতির মত অনেকেই টিউলিপের এমন মন্তব্যের সমালোচনায় মুখর ছিলেন বুধবার সারাদিন। বলা যায় টিউলিপের এই বক্তব্য ও ভিডিওটি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদাপুত্র তারেক রহমানও মন্তব্য করতে ছাড়েননি টিউলিপকে। তিনি তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন- “জন্মগত ভাবে বদমেজাজি এবং মিথ‍্যাবাদী হলে তা লুকিয়ে রেখে বেশিক্ষণ ভদ্র আর সত‍্যবাদী সেজে থাকা যায় না।”

লেখক ও জনপ্রিয় অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট পিনাকি ভট্টাচার্য তার ফেসবুকে লিখেছেন-

“বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বোনের মেয়ে ব্রিটিশ লেবার দল থেকে মনোনীত এম পি টিউলিপ সিদ্দিক ইংল্যান্ডে সাংবাদিকের সাথে তার সাম্প্রতিক অসৌজন্যমুলক আচরণের জন্য তার দেশেই দারুণভাবে সমালোচিত হতে পারেন। যে তিনটি বিষয় সামনে আসবে বলে আমার অনুমান, তা হচ্ছে;

১. অতীতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও প্রকাশ্যে বিজয় উদযাপন, এমনকি নিজেকে আওয়ামীলীগের মুখপাত্র দাবী করা সত্ত্বেও ‘ব্রিটিশ এমপি’ হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশের গুরুতর মানবাধিকার বিষয়ে হস্তক্ষেপে অপারগতা প্রকাশ।

২. ব্যারিষ্টার আহমদ বিন কাশিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ও তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে একাধিক বার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তার গুম হওয়ার বিষয়ে পত্র পাওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে ‘অজ্ঞতা’ প্রকাশ করা।

৩. প্রশ্নকারী ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমের অন্তঃসত্ত্বা নারী প্রযোজককে উদ্দেশ্য করে ‘সাবধান হয়ে যাও’ বলে হুমকি দেওয়া ও ‘সন্তান জন্মদান বড়ই কষ্টের’ বলে তাকে তাচ্ছিল্য সুচক মন্তব্য করা।

এছাড়াও, মানবাধিকার বিষয়ে তার পূর্বেকার ‘সার্বজনীন’ অবস্থান কে ‘দ্বৈত নীতি’র পর্যায়ে অবনমিত করার কারণে তার নিজের দল লেবার পার্টির সহকর্মীদের কাছ থেকে ও গণমাধ্যমে টিউলিপ সমালোচিত হতে পারেন।

তবে, তার নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশী বৃটিশ নাগরিকদের তার কোন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী টিউলিপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।

দেখা যাক বৃটিশ রাজনীতি এবং সেই দেশের জনগণ এই ঘটনায় কীভাবে প্রতিক্রয়া দেখায়।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান টিউলিপের সমালোচনা করে তার ফেসবুকে লিখেছেন-

“টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, ওনাকে ভুলেও যেন বাংলাদেশের নাগরিক না বলা হয়। অর্থাৎ সোজা ভাষায় টিউলিপ বলেছেন, বাংলাদেশ ওনার দেশ না। টিউলিপের পুরো পরিবার যেখানে দাবি করে বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়েছে টিউলিপের নানা, সেইখানে টিউলিপ সোজা ভাষায় উনার নানার দেশকে, লাখো শহীদের বাংলাদেশকে, ডিজওউন করেছেন।

এই দেশের মানুষকে আজকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যারা অন্ধের মত আওয়ামী লীগকে মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট বলে, তাদের আজকে জবাব দিতে হবে: বাংলাদেশকে ডিজওউন করা পরিবারের হাতে দেশ কতটা নিরাপদ?”

আরেক জনপ্রিয় অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট রাশেদ খান আফ্রিদির প্রসঙ্গ টেনে তার ফেসবুকে লিখেছেন-

“বাংলাদেশ ইজ মাই সেকেন্ড হোম – শাহেদ আফ্রিদী।
আই এম নট বাংলাদেশী – টিউলিপ সিদ্দিকী।

বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আর আন্তরিকতা দেইখা একজন ভীন দেশী পাকিস্তানি বাংলাদেশরে তার ‘সেকেন্ড হোম’ বলাতে নাকি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ আর তাদের রক্ত অপমানিত হয়। সেজন্য চেতনার ঠিকা নেয়া চেতনাবাজরা আফ্রিদীর লাশ ফেলে দিতে চায়।

আর এই বাংলাদেশে যার শিকড়,,বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭১ সংখ্যাটি যাদের একমাত্র রাজনীতির হাতিয়ার। সেই শেখ সাহেবের ছোট মেয়ে শেখ রেহেনার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকী যখন বাংলাদেশী পরিচয় কে অগ্রাহ্য করে ,রাগান্বিত হয়ে বলে “আই এম নট বাংলাদেশী’

তখন শহীদের রক্ত অপমানিত হয় না? তখন ধর্ষিতা মা-বোনের ইজ্জতের জন্য মায়া কান্না আসে না “

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন গুম থাকা আহমাদ বিন কাশেম আরমানের ব্যাপারে প্রশ্ন করায় নিজেকে বাংলাদেশি কেউ না বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী। এসময় তিনি সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং খারাপ পরিনতি ভোগ করতে হবে বলে সাংবাদিককে হুমকীও দেন।

ইরানের কারাগারে আটককৃত যুক্তরাজ্যের নাগরিক নাজানিন জাঘারি রাটক্লিফ এর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল ফোর এর সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাশেম আরমান। আরমান বৃটিশ বারের একজন সদস্য। তার পিতাকে যুদ্ধাপরাধের বিতর্কিত বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। বাবার ফাঁসির কিছুদিন পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল