এমপি আবু জাহিরের সাজানো মামলায় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ এর সম্পাদক ও প্রকাশক সুশান্ত দাস গুপ্ত কারাগারে ॥ সাংবাদিক মহলের নিন্দা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

এমপি আবু জাহিরের সাজানো মামলায় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ এর সম্পাদক ও প্রকাশক সুশান্ত দাস গুপ্ত কারাগারে ॥ সাংবাদিক মহলের নিন্দা

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

এমপি আবু জাহিরের সাজানো মামলায় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ এর সম্পাদক ও প্রকাশক সুশান্ত দাস গুপ্ত কারাগারে ॥ সাংবাদিক মহলের নিন্দা
তারেক হাবিব, হবিগঞ্জ
এমপি আবু জাহিরের সাজানো মামলায় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ এর সম্পাদক-প্রকাশক ও আমার এমপি ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা সুশান্ত দাশ গুপ্তকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় হবিগঞ্জ শহরের চিড়াকান্দি এলাকায় পত্রিকার অফিস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলার বাকী আসামীরা হলেন, পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক নুরুজ্জামান মানিক, বার্তা সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সুমন ও প্রধান প্রতিবেদক তারেক হাবিব। হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট আবু জাহিরের বিরুদ্ধে আমার হবিগঞ্জে প্রিন্ট ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির হবিগঞ্জ সদর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেছেন। জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার ১ম পাতায় ‘‘মৃত্যু দন্ড প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী লিয়াকত আলীর ও তার পরিবারবর্গরা আওয়ামী রাজনীতিতে! ‘আবু জাহির এমপি’ নাকি অন্য কারো হাত ধরে?’’ নামক সংবাদের একাশেং লাখাইয়ে মানবতার অপরাধে মৃত্যু দন্ড প্রাপÍ পলাতক আসামী লিয়াকত আলীর পরিবারের সদস্যরা হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবু জাহির এমপির হাত ধরে আওয়ামী রাজনীতিতে থাকার বিষয়টি উঠে আসে। সংবাদের যথাযথ মূণ্যায়ন ধরে রাখতে এমপি আবু জাহির ও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরীর বক্তব্যও সংযোজন করা হয়। যুদ্ধাপরাধী লিয়াকত আলীর ও তার পরিবারবর্গরা এমপি আবু জাহিরের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়টি প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করে, যার যোগদানের ছবি ও কল রেকর্ড এখনো সংরক্ষিত আছে। এ রকম কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ করায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাল্পনিক মামলা সাজানো হয়। তবে এ মামলা দায়ের করার পর পক্ষে-বিপক্ষে চলে নানান সমালোচনা। কেউ বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের সাংবাদিকরা যখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি তুলছেন তখন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন জহির, এটা প্রকৃত পক্ষেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, ‘‘একজন এমপির পক্ষ নিয়ে সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ঠুকে দেয়াটা আসলেই ন্যাক্কারজনক। এটা রাজনৈতিক ইস্যু ছাড়া আর কিছু নয়। বিএমএসএফ’র ধিক্কার’’
বিখ্যাত অনলাইন এক্টিভিটিস অমি রহমান পিয়াল তার ফেসবুক পেইজ থেকে লেখেন, ‘‘কাউয়ার মাংস কাউয়া খায় না, কুত্তার মাংসও কুত্তা খায় না, কিন্তু সাংবাদিকের মাংস সাংবাদিক খায়। এর প্রমাণ দেখা গেছে একাত্তর সালে। আমাদের বুদ্ধিজীবি হত্যার অন্যতম রূপকার চৌধুরী মাঈনুদ্দিন সাংবাদিক হইয়াও তার সহকর্মীদের নাম তুলে দিছিলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে। সেই অপচর্চা আজও শেষ হয় নাই। তার সর্বশেষ শিকার সুশান্ত দাস গুপ্ত, আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক, যারে স্থানীয় সাংসদের তরফে আইসিটি মামলায় জেলে ঢুকাইছে খোদ হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব। হ্যা সুশান্তর অপছন্দ করার এক হাজার একটা কারণ থাকতে পারে সবার, কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের জন্য সাংসদের বদলে যদি সাংবাদিকদের ভরসার জায়গাটাই উদ্যোগী হয়, সেটা একটা বিপজ্জনক বার্তা। এই আইনটা বাতিল হোক। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাই, সুশান্ত মুক্তি চাই …
এ ব্যাপারে দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক প্রকৌশলী সুশান্ত দাস গুপ্ত তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে পোষ্ট করে বলেন, ‘আবু জাহির এমপির পক্ষে হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাব আমার বিরুদ্ধে দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার প্রকাশিত কিছু নিউজের কারনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে। আমাকে গ্রেফতার করে এসপি অফিসে আনা হয়েছে। সবাইকে বলবো ধৈর্য ধরতে। যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে আসবো। জয় বাংলা।
মামলার বাদি হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির জানান, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু জাহির হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের একজন সম্মানিত আজীবন সদস্য। সম্প্রতি সুশান্ত দাশ গুপ্তের সম্পাদনায় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকায় সাংসদের বিরুদ্ধে একাধিক অসত্য সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমি মনে করি সাংসদের পাশপাশি হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই আমি সংক্ষুব্ধ হয়ে এই মামলা করেছি।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল