এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলা: ওসমানীর আইসিউতে ভর্তি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলা: ওসমানীর আইসিউতে ভর্তি

প্রকাশিত: ১১:২৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৭

এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলা: ওসমানীর আইসিউতে ভর্তি

হবিগঞ্জের বাহুবলে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর একটি সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর আরেকটি সভায় বক্তৃতা করতে গিয়ে সভামঞ্চে অজ্ঞান হয়ে পড়েন কেয়া চৌধুরী। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুরে পয়েন্টে আওয়ামী লীগের অপর একটি অংশ তার উপর হামলা চালায়। হামলায় তার মঞ্চ ভাংচুর ও মাইক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসময় তার ব্যক্তিগত সহকারি হামলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে চাইলে তার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাহুবলের মীরপুরে বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যে সমাজসেবার চেক ও বয়স্ক ভাতার কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান ছিলো। অনুষ্ঠান শেষে বেদে বহর পরিদর্শনকালে ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়ার গাড়ির চালক এমপিকে উদ্দেশ্য করে অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও ভিডিও ধারণ করেন। এসময় তিনি তাকে ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চান। কোন সদুত্তর দিতে না পারলে তিনি মোবাইলটি সিজ করেন। এসময় পুলিশও সেখানে উপস্থিত ছিলো। মোবাইল সিজ করার জের ধরে জেলা পরিষদের সদস্য আলাউর রহমান ও তারা মিয়া এসে এমপি কেয়া চৌধুরীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এক পর্যায়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় তিনি পথসভা করে মীরপুরের বাসিন্দাদের বিষয়টি অবগত করেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে অসুস্থ্ বোধ করলে বক্তব্য শেষ করেন। এরপর তিনি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে নেতাকর্মীরা তাকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠান।

সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারী মামুন আহমেদ জানান, ম্যাডাম বাহুবলের মিরপুরে একটি অনুষ্ঠান করছিলেন। সেখানে বাহুবল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়ার নেতৃত্বে হামলায় ম্যাডাম আহত হন।

তবে এ ব্যাপারে বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, সাংসদের সমাবেশে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে কিছু হাতাহাতি হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে সমাবেশ আবার শুরু হয়। পরবর্তীতে আরেকটা সভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় সাংসদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক জানান, তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তার জ্ঞান আছে, তিনি আশঙ্কামুক্ত। সারাদিন বিভিন্ন প্রোগ্রাম করায় আর খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো না করায় হয়তো তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল