এমপি পাপুলের স্ত্রী-মেয়েকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

এমপি পাপুলের স্ত্রী-মেয়েকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০২০

এমপি পাপুলের স্ত্রী-মেয়েকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক ::
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় কুয়েতে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম ও তার মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে আগাম জামিন না দিয়ে তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারিক আদালতে তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

এর আগে তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে ১০ দিনের সময় দেয়া হলেও নিম্ন আদালতের অবকাশকালীন ছুটির কারণে তারা তা করতে পারেননি। তাই সময় চেয়ে তারা হাইকোর্টে আবেদন জানান। এরপর আত্নসমর্পনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করার জন্য মঙ্গলবার তারা দুইজন হাইকোর্টে আসেন। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাদের আত্মসমর্পণের জন্য ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিলেন।

২৬ নভেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার হওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর তিনিসহ তার স্ত্রী এমপি সেলিনা, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় দুই কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

এছাড়া ‘কাগুজে প্রতিষ্ঠানের’ আড়ালে জেসমিন পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

এসব অভিযোগে গত ১৭ জুন পাপুলের স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অন্তত ৪৪টি ব্যাংক হিসাবে ১৪৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া সেলিনা ইসলামের নামে ২৯৫টি এফডিআরে ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, জেসমিনের নামে ২০টি এফডিআরে ১ কোটি টাকা, পাপুলের ২৩টি এফডিআরে ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা, বোনের মেয়ে ওয়াফা ইসলামের নামে ৪১টি এফডিআরে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা রয়েছে।

এসব কাজে পাপুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে তাদেরও আসামি করা হয়।

মানব ও অর্থপাচার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগে কুয়েতে পাপুলের বিরুদ্ধে করা মামলায় আগামী ২৮ জানুয়ারি রায়ের দিন ঠিক করেছে সেদেশের আদালত।