এমপি রতনের দুর্নীতি তদন্তে মাঠে দুদক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

এমপি রতনের দুর্নীতি তদন্তে মাঠে দুদক

প্রকাশিত: ৯:২২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

এমপি রতনের দুর্নীতি তদন্তে মাঠে দুদক

১৮ ফেব্রুয়ারি কমিশনে তলব

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোব্যবসা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি তাকে তলব করা হয়েছে। দুদকের ক্যাসিনোবিরোধী টিমের প্রধান ও সংস্থার পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত তলবি নোটিশ সোমবার এমপি রতনের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরিচালক ইকবালসহ টিমের অন্যান্য সদস্য ওই দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। নোটিশে বলা হয়েছে, ঠিকাদার জি কে শামীমসহ অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পরস্পর যোগসাজশে ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এমপি রতনের বিরুদ্ধে। এর মাধ্যমে বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে।

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বেআইনি ক্যাসিনো ব্যবসা ও অবৈধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জন করে বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বক্তব্য শোনা ও গ্রহণের জন্য তাকে তলব করা হয়েছে। সম্প্রতি দুদকের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে এমপি রতনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

দুদকে পেশ করা রতনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সরকারি সম্পত্তি বেদখল, এলাকার মানুষের সম্পদ লুটপাট করেছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে বালু-পাথর উত্তোলন, কয়লা আমদানিকারক সমিতি, বিভিন্ন মার্কেট, বাজার, নানাজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজিতে রেকর্ড করেছেন। এলাকায় রতন এক আতঙ্কের নাম। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ-সম্পদ রাখা হয়েছে স্ত্রী মাহমুদা হোসেন লতার নামেও।

দুদকে পেশ করা অভিযোগে আরও বলা হয়, এই এমপির নামে ঢাকা, সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা, নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জে ১৩টি বাড়ি রয়েছে। নিজ গ্রাম ধর্মপাশায় ১০ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করেছেন হাওর বাংলা নামে বিলাসবহুল বাড়ি। সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরে জেলা পুলিশ লাইন্সের বিপরীতে সাত কোটি টাকায় ‘পায়েল পিউ’ নামে বাড়ি কিনেছেন। ধর্মপাশা উপজেলা সদরে তার আরও সাতটি বাড়ি রয়েছে। মোহনগঞ্জ উপজেলা সদরেও রয়েছে দুটি বাড়ি। নেত্রকোনা জেলা শহরেও একটি বাড়ি রয়েছে। নেত্রকোনা শহরে মা-বাবার নামে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকায় জমি ক্রয় করেছেন। ঢাকার গুলশানের নিকেতনে তার নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। সহোদর ভাই যতন মিয়ার নামে কেনা হয়েছে পাঁচশ একর জমি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল