এমসি কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, নিহত-১: শিক্ষক-পুলিশসহ আহত ২০ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

এমসি কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, নিহত-১: শিক্ষক-পুলিশসহ আহত ২০

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৭

এমসি কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, নিহত-১: শিক্ষক-পুলিশসহ আহত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ২০১৫ সালের ১৬ই আগস্ট শনিবার সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শনিবার বিকেল সোয়া দুইটার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। সংঘর্ষে সবুজ আহমেদ (২৩) নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০ টা থেকে কলেজ প্রাঙ্গনে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল ছাত্রলীগ। অপর দিকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনকে কেন্দ্র করে আনন্দ মিছিলের আয়োজন করে এমসি কলেজ ছাত্রদল। দোয়া মাহফিল শেষ করে ক্যাম্পাসের মুল ফটকে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে ছাত্রদলের একাংশের একটি মিছিল মূল ফটকের কাছাকাছি আসায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ছাত্রদলের মিছিল থেকে ছাত্রলীগের মিছিল লক্ষ্য করে আকস্মিক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
এ সময় উভয় পক্ষকে আধুনিক আগ্নেস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়। সংর্ঘষের খবর পেয়ে র‌্যাব-৯ ও পুলিশের একটি দল উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ছাত্রদল কর্মীরা ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়। সংর্ঘষের সময় ছাত্রলীগের সবুজ নামে এক কর্মীর বুকে গুলি লাগলে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এতে ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তেজিত ছাত্রলীগ কর্মীরা কলেজের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছাত্রদল নিয়ন্ত্রিত দুটি মেসে ভাংচুর চালায় বলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এ সময় কে বা কারা ক্যাম্পাসে আগে থেকেই অবস্থানরত পুলিশের দুটি কাভার্ড ভ্যান ভাংচুর করে বলে পুলিশ জানায়।
এ ব্যাপারে প্রধান অথিতি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ বলেন “দোয়া মাহফিল শেষে ছাত্রলীগের শান্তিপূর্ণ শোক মিছিলে বিনা উস্কানিতে বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালায় ছাত্রদল। সংঘর্ষে ছাত্রলীগের ১ কর্মী নিহত ও ১৫ কর্মী আহত হলেও আমরা ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।”
কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র বলেন, “এটি একটি অনাকাংখীত বিচ্ছিন্ন ঘটনা। প্রশাসনের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ট বিচার আমরা কামনা করছি। যারা এই হিংস্র হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদের অচিরেই বিচারের আওতায় আনা হোক।”
এদিকে সবুজ আহমেদকে (২৩) হত্যার দায়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলার আসামী ২ জন কে আটক করতে পারলেও বাকিরা এখনও পলাতক। আটক দুই ছাত্রদল কর্মীরা হলেনঃ সোনারপাড়া এলাকার মনির হাসান (৬০) এর ছেলে শাহরিয়ার হাসান (২৬) এবং খাদিম নগর এলাকার কাশেম বিল্লাহ (৫৫) এর ছেলে মাসুম বিল্লাহ (২৩)। কোতোয়ালী থানা পুলিশ গতকাল রাত ৮ টার দিকে শাহী ঈদ্গাহ এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোঃ আব্দুল আহাদ চৌধুরী।
এর আগে নিহত সবুজ আহমেদের বাবা টিলাগড় নিবাসী ব্যাবসায়ী সেলিম আহমেদ বাদি হয়ে সিলেট কোতোয়ালী থানায় এজহার দায়ের করেন। রাতেই মামলাটি নতিভুক্ত হয়। মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামীরা হলেনঃ শাহরিয়ার হাসান (২৬), মাসুম বিল্লাহ (২৩), রুকনুজ্জামান (২৮), মুক্তার আহমেদ (২৩), কামরুল ইসলাম ফাহিম (২২), বাপ্পি ভট্যাচারয (২৩), জিয়া উদ্দিন (২৬) এবং সালেহ উদ্দিন রাজু (২৩)।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল