কানাইঘাটে বনের বিট কর্মকর্তার সাথে মন্ত্রী শ.ম রেজাউলের কি সম্পর্ক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কানাইঘাটে বনের বিট কর্মকর্তার সাথে মন্ত্রী শ.ম রেজাউলের কি সম্পর্ক

প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০২০

কানাইঘাটে বনের বিট কর্মকর্তার সাথে মন্ত্রী শ.ম রেজাউলের কি সম্পর্ক

কানাইঘাট প্রতিনিধি:
সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এড. শ.ম রেজাউল করিমের নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যাপরোয়া হয়ে উঠেছেন বন বিভাগের কানাইঘাট উপজেলা বিট কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র। তিনি অবশ্য কারো ধার ধারেনা, কথায়-কথায় তিনি মন্ত্রীর নামের দোহাই দিনে। এই নামকে পুঁজি করেই তিনি অনৈতিক কর্মকান্ডসহ নানা রকম অপকর্ম করে যাচ্ছেন নির্বিঘেœ। উৎকুচ আর নজরানা ছাড়া তিনি কাজই করতে রাজি নন। গাছ কাটার করাতকল থেকে শুরু করে তার সর্বত্রই তিনি উৎকুচ নিয়ে থাকেন সমাল তালে। গত সোমবার সরেজমিনে পৌরসভাস্থ একটি করাত কলে গেলে আব্দুস ছুকহান নামের এক স্থানীয় যুবক জানান, তিনি তার বাড়ি থেকে একটি গাছ নিয়ে এসেছিলেন। সেই গাছটি করাত কলে কাঠতে নানা অজুহাতের আইন দেখিয়ে কাটতে বাঁধা প্রয়োগ করেন এই বিট কর্মকর্তা। সর্বশেষ তাকে ১ হাজার টাকা উৎকুচ দিয়ে কাজটি করে নিতে হয় তাকে। সড়কের বাজারের রফিক উদ্দিন জানান, তিনি বাংলা বাজার থেকে কিছু গাছ পিকাপে করে নিয়ে এসেছিলেন, একই ভাবে ঐ বিট কর্মকর্তা তার গাছ আটকিয়ে ১ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ছেড়েদেন। এভাবে শত-শত অভিযোগ উঠেছে কানাইঘাটের ঐ বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। শুধু তা নয়, মুলাগুল এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন পাথর ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মন্ত্রী এড. শ.ম রেজাউল করিমের নাম ভাঙ্গিয়ে তাদের কাছ থেকে উপজেলা বিট কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদেরকে এই বিট কর্মকর্তা হুমকি দেন তিনি মন্ত্রীর খুব কাছের লোক। তিনি মন্ত্রীর সুপারিশে কানাইঘাটে এসেছেন। তিনি তাদেরকে আশ্বস্থ্য ও করেন টাকা দিলে লোভাছড়া পাথর কোয়ারী লিজ এনে দিতে পারবেন।একই ভাবে তিনি মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে উপজেলার এলজিইডি’র রাস্তার দুপাশের গাছ কেটে উজার করে ফেলছেন। তার অর্থলোভে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বনাঞ্চল বিলিন হয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলা বিট কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র তার বিশ্বস্থ্য লোকদের দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই এলজিইডি’র রাস্তার পাশের বড়-বড় গাছগুলো কেটে নিচ্ছেন। তিনি প্রকাশ্যেই এসব গাছ বিভিন্ন ব্যক্তিসহ করাত মিলে বিক্রি করে দিচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি’র সুরইঘাট গড়াখাই রাস্তার দু’পাশের অসংখ্য গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। গাছের মুড়োগুলো (মুল) এখনো তার সাক্ষ্য বহন করছে। কোন কোন মুড়ো (মুল) বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যাহাতে মানুষের চুখে ধুলা দেওয়া যায়। এ সময় স্থানীয় এলাকার বাসিন্ধা আব্দুল হাসিম ও আব্দুর রশিদ জানান, তারা দেখেছেন গত রবিবার বন-কর্মকর্তার লোক নামে পরিচিত নিজাম উদ্দিন তার দলবল নিয়ে বড় বড় এই গাছগুলো কাটে নিয়ে গেছেন। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, গাছগুলো কেটে সুরইঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এভাবে প্রায় প্রতিদিন দু-চারটি করে দামী বেলজিয়ামের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকে। বন কর্মকর্তার লোক হিসাবে পরিচিত নিজাম উদ্দিনের কাছে গাছ কাটার বিষয়টি জানতে চাইলে একাধিক বার যোগাযোগ করেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। এদিকে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পুর্ব ইউপি’র ঢেওয়াটিলা ও সেগুন বাগানসহ আশপাশের হাজার হাজার একর বিসৃত বাগানগুলো উজার করে দেওয়া হয়েছে দিনের বেলা প্রকাশ্যে। নানা অজুহাতে বনকর্মকর্তা এসব বন ধ্বংশ করে ফেলেছেন শুধু টাকার নেশায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকার গাছসহ ঐসব টিলা থেকে কোটি টাকার পাথর উত্তোলন করে গত মৌসুমে বিক্রি করেছেন সুরেশ চন্দ্র । ঐ এলাকার বন কর্মকর্তার লোক হিসাবে পরিচিত ঢেওয়াটিলার শানু মিয়ার পুত্র দেলোয়ার হোসেন ও সরফ উদ্দিন নামের আরেকজন সহ সঙ্গবদ্ধ একটি দলকে দিয়ে আধিপত্ব্য বিস্তার করে চলছেন সুরেশ চন্দ্র। তারা ঢেওয়াটিলার মানিক নামের একজন ও উজান বারাপৈতের আনিছসহ বহু লোকের বসত বাড়ি দখল করে নিয়েছেন বিট কর্মকতার যোগসাজসে। এ ব্যাপারে উপজেলা বিট কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র জানিয়েছেন, সুরইঘাট গড়াখাই রাস্তার গাছ কর্তনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি কিছুই করেনি উল্লেখ করে বলেন, যেহেতু রাজনৈতিক ভাবে দেশ চলছে সেহেতু তিনি কোয়ারি টি লিজের জন্য তদবীর করছেন। টাকা পয়সার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, কোথায়ও তার মাধ্যমে বনাঞ্চল ধংশ করা হয়নি, বরং তা নতুন করে গড়ে তুলার চেষ্টা করছেন তিনি।
এ বিষয়ের সিলেট বন বিভাগের ডিএফও জানান, কানাইঘাট বন বিভাগের বিট অফিসার সুরেন্দ্র চন্দ্রের বিরুদ্ধে সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি দ্রুত খোঁজ খবর নিচ্ছেন।