ওটিতে ড. জাফর ইকবাল, ‘আমি ওকে আছি’ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ওটিতে ড. জাফর ইকবাল, ‘আমি ওকে আছি’

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০১৮

ওটিতে ড. জাফর ইকবাল, ‘আমি ওকে আছি’

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা ২৭ মিনিটে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।এর আগে বিকেল পাঁচটা ৩৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাত করেন এক যুবক।

পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে জড়ো হয়েছেন।

তাদের মধ্যে এক শিক্ষার্থী জানান, হামলার পরপরই তিনি স্যারের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্যার জানিয়েছেন- তিনি ওকে আছেন। নিজেকে ধরে রাখতে পারবেন।

ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে শিক্ষকেরা উদ্ধার করে তাকে শিক্ষাভবনে (এ) আটকে রেখেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা সিলেট সংবাদ ২৪ ডটকম-কে জানান, স্যার মুক্তমঞ্চে বসেছিলেন। সামনে একটি রোবট প্রতিযোগিতা হচ্ছিল। হঠাৎ এক যুবক এসে স্যারে মাথার পেছনে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্যারের শরীর রক্তে ভিজে যায়।

তারা জানান, মুক্তমঞ্চে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই স্যারের ওপর এ হামলা হয়। পরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন।

ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটনের এডিসি আবদুল ওহাব সিলেট সংবাদ ২৪ ডটকম-কে বলেন, ‘অধ্যাপক জাফর ইকবালকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক যুবককে আটক করা হয়েছে।’

তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

হাসপাতালে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াসুর রহমান বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, স্যারকে ওটিতে নেয়া হয়েছে। তার জ্ঞান আছে, কথা বলছেন।

তিনি আরও জানান, হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। তবে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, সম্প্রতি র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি গতকাল শুক্রবার বলেছিলেন- র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো উচিত।

তবে ঠিক এ ঘটনায় না রাজনৈতিক কারণে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা জানাতে পারেননি তারা।

এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হককে হত্যার হুমকি দিয়ে মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়।

আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এই হত্যার হুমকি দিয়েছিল জানিয়ে, তারা সিলেটের জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।