ওসমানীনগরে পানি বন্দিদের দুর্ভোগ লাঘবে গিয়ে হয়রানীর শিকার প্রবাসী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ওসমানীনগরে পানি বন্দিদের দুর্ভোগ লাঘবে গিয়ে হয়রানীর শিকার প্রবাসী

প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

ওসমানীনগরে পানি বন্দিদের দুর্ভোগ লাঘবে গিয়ে হয়রানীর শিকার প্রবাসী

ওসমানীনগর প্রতিনিধি
এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কালভার্ট নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করে নানামুখী হয়রানিতে পড়েছেন ওসমানীনগরের এক প্রবাসী। এ জন্য প্রশাসন থেকেও তাকে একাধিকবার হেনস্তা করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির ইশাগ্রাই (জটুকোনা) গ্রামের বাসিন্দা ও রাগিব-মজনু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রবাসী হাজী মো. মজনু মিয়া।
সোমবার দুপুরে গোয়ালাবাজারস্থ ওসমানীনগর প্রেসক্লাব ভবনে ইস্ট লন্ডন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. মজনু মিয়া বলেন, এলাকার হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে আমি ও আমার পরিবার অব্যাহত ভাবে নানা ভাবে সহায়তা করছি। এলাকার গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট মেরামত, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণেও দান-অনুদান, সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এছাড়া হতদরিদ্রদের ঘর নির্মাণ, বিয়ে, জটিল রোগে আক্রান্ত দুস্তদের চিকিৎসাসহ তাদের পারিবারিক ভরনপোষণেও আমি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে থাকি।
তিনি বলেন,কিছুদিন আগে গলমুকাপন এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে গলমুকাপন মাদ্রাসার সংলগ্ন বেগমপুর-হাজীপুর সড়কে একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দাবি জানান। বর্তমানে কালভার্ট নির্মাণে সরকারি বরাদ্ধ নেই জানিয়ে চেয়ারম্যান গেদাই স্থানীয়দের অনুদানে কালভার্ট নির্মাণের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে অসহায় লোকজন কালভার্ট নির্মাণে আর্থিক সহায়তার জন্য পঞ্চায়েত বৈঠকের আয়োজন করেন। ওই বৈঠকে তাদের দুভোর্গের কথা ভেবে কালভার্ট নির্মাণের জন্য আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করি। ওই টাকা পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রবের সহযোগিতায় রাস্তায় কালভার্টের কাজ শুরু হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নির্মাণ শুরুর একদিনের মাথায় ওসমানীনগর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা কেটে কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ এনে মোবাইল ফোনে আমার সাথে অশালিন আচরণ করেন। কে এমন অভিযোগ করেছে জানতে চাইলে তিনি আমায় আটকের হুমকী দেন। পরের দিন থানা পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে ইউএনও ম্যাডামের কথা বলে আমাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে কালভার্ট নির্মাণের স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আমি ইউএনও ম্যাডামকেও উপস্থিত দেখতে পাই। এ সময় ইউএনও ম্যাডামসহ উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা আমার সাথে অনৈতিক আচরণ করেন। এবং তারাও আমার বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা কেটে কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ আনেন। এ সময় ইউএনও ম্যাডাম বলেন, যা হওয়ার হয়েছে। কালভার্টও নির্মাণ হয়েছে। এখন কালভার্টের সাইটটি মাটি ভরাট করে দেন।
আমি ইউএনও ম্যাডামকে বলি, আমি কালভার্ট নির্মাণ করিনি। বরং এলাকাবাসী তাদের দুর্ভোগ লাঘবে চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে কালভার্ট নির্মাণ করেছেন। আমি আর্র্থিক সহায়তা করেছি মাত্র। তখন ইউএনও ম্যাডাম আমায় শাসিয়ে বলেন, আপনার বিরুদ্ধে রাস্তা কাটার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বেশি কথা না বলে যা বলেছি তাই করুন। নইলে ঝামেলায় পড়বেন। তখন আমি তাঁর কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর নাম জানতে চাইলে তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে যান।
প্রস্তাবিত রাগিব-মজনু ডিগ্রি কলেজের উদ্যোক্তা মজনু মিয়া বলেন, আমি একজন প্রবাসী ও সমাজ দরদী লোক। আমার এসব কর্মকাণ্ডে একটি মহল ঈর্শ্বান্বিত হয়ে নানা ধরণের চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইদানিং প্রশাসনের লোকদের কাজে লাগিয়ে আমাকে নানামুখী হয়রানী করা হচ্ছে। যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টজনক। লোকমুখে জানতে পারি, স্থানীয় চেয়ারম্যান এম এ মতিন গেদাই সেই মহলকে ইন্ধন দিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমায় অপদস্থ করা হচ্ছে। আমাদের পূর্ব পুরুষ থেকে শুরু করে বর্তমানেও আমরা এলাকার অসহায় মানুষদের পাশে রয়েছি। স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন গেদাই কোন কারণে আমি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের সাথে হাত মিলিয়েছেন তা বুঝতে পারছি না। ইদানিং গেদাই চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপকর্মের খবরও আমাদের কাছে আসছে। কিন্তু ইউনিয়নের মান-সম্মান চিন্তা করে আমরা তা বাইরে প্রকাশ করিনি কখনো। বলা প্রয়োজন, সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের একটি সালিশী বৈঠকে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ওসমানীনগর থানার এসআই ফখরুল আমায় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। ইউনিয়ন পরিষদের সালিশ বৈঠকে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে কার মাধ্যমে এলেন তা আমার বোধগম্য নয়।
ইশাগ্রাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য হাজী মো. মজনু মিয়া বলেন, বর্তমানে আমি বয়সের ভারে বৃদ্ধ। আমার বয়স প্রায় ৭২ বছর। গত ৫ বছর ধরে আমি দেশে থেকে এলাকার অসহায় মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে বার বার নানা ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছি। এই বৃদ্ধ বয়সে কী কারণে প্রশাসন কর্তৃক আমাকে সামাজিক ভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করা হলো সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না। আমি এসব চক্রান্ত, হয়রানী ও অশালিন আচরণের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবগত থাকার অনুরোধ জানিয়ে কে বা কারা আমার বিরুদ্ধে রাস্তা কাটার মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে জানাতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-হাজীপুর গ্রামের দিলসাদ আহমদ, ইসলামপুর গ্রামের মজনু মিয়া, নির্মল বাবু, গলমুকাপনের কামরুজ্জামান, শাহীন আহমদ প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল