ওসমানীনগর ও জগন্নাথপুর’র বিপাকে আওয়ামী লীগ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ওসমানীনগর ও জগন্নাথপুর’র বিপাকে আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০১৭

ওসমানীনগর ও জগন্নাথপুর’র বিপাকে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: উত্তাপ-উত্তেজনার কমতি নেই সিলেটের উপজেলা নির্বাচনে। আওয়ামী লীগে চলছে নানা নাটকীয়তা। আর বিএনপি একক প্রার্থী দিয়ে জয় ঘরে তুলতে চাইছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতারাও নজর দিয়েছেন এ নির্বাচনে। প্রচার-প্রচারণায় সরগরম এখন দুটি উপজেলার পুরো নির্বাচনী ময়দান।

প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা সিলেটের ওসমানীনগর ও জগন্নাথপুর। এর মধ্যে ওসমানীনগরে হচ্ছে প্রথম উপজেলা নির্বাচন। ফলে প্রথম নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আগ্রহের কমতি নেই। তবে নির্বাচন জমিয়ে তুলেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী। আওয়ামী লীগের একাংশ জগলুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান। তফসিল ঘোষণার আগে থেকে জগলু চৌধুরীর মতো আতাউর রহমানও ছিলেন মাঠে। এ কারণে একক প্রার্থী দিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না। এ নিয়ে জেলা পর্যায়ের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে জগলু চৌধুরীকে দলীয়ভাবে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান পদ জগলু নেননি। তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন। ইতিমধ্যে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জগলু চৌধুরীর রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। তেমনি স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগে রয়েছে আতাউর রহমানের জনপ্রিয়তা। দু’জনই ওসমানীনগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে সমান কদরের ব্যক্তি। এখন দু’জন একই পদে প্রার্থী হওয়ায় নৌকার সমর্থকরা পড়েছেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। এখন পর্যন্ত নৌকার সমর্থকরা ওই এলাকায় মুখ বন্ধ করে রেখেছেন।

এরই মধ্যে আতাউর রহমানের পক্ষে দলীয়ভাবে প্রচারণায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান, সাবেক এমপি ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতারা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, দলের সিনিয়র নেতারা প্রচারণায় নামায় নৌকার অবস্থান ভালো হচ্ছে।

এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ওসমানীনগরে আওয়ামী লীগের ভোটে বিভক্তি থাকবেই। এতে সুসংহত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য ও ওসমানীনগরের সাবেক সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী। তার পক্ষে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা। আওয়ামী লীগে বিভক্তি থাকার সুযোগ বিএনপি নিতে চাচ্ছে। এছাড়া বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক কলিম উদ্দিন মিলন, জেলার সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদসহ সিনিয়র নেতারা মাঠে নেমেছেন।

জগন্নাথপুরেও আওয়ামী লীগে চলছে হিসাব-নিকাশ। এবার জগন্নাথপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদির আহমদ মুক্তা। সিলেটের রাজনীতিতেও জগলুর মতো মুক্তার রয়েছে বিশাল পরিচিতি। জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে একসময় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগেও রয়েছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। এ কারণে ৫ বছর আগে মুক্তা সিলেটের রাজনীতি থেকে পদার্পণ করেছিলেন জগন্নাথপুরে। প্রথম সুযোগেই তিনি সেখানকার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এবার মুক্তা ভাইস চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী। গত ৫ বছরে মুক্তা জগন্নাথপুরে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছেন। এছাড়া কুশিয়ারা তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে তার একক আধিপত্য। ফলে মুক্তায় ঘুম হারাম আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকমল হোসেনের। ইতিমধ্যে মুক্তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেনেরও খ্যাতি রয়েছে। তিনি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানও। জগন্নাথপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সামাদপুত্র ডন ও প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান গ্রুপ বিরাজমান। যদিও এখন পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রিক গ্রুপিং তুঙ্গে উঠেনি। ভেতরে ভেতরে সমর্থনের পালা চলছে।

আওয়ামী লীগের দ্বিধাবিভক্তির বিষয়টি নেতাকর্মীদের ভাবিয়ে তুলছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ এককভাবে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হলেও দ্বিধাবিভক্ত জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপি এককভাবে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ টুনু ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফারজানা আক্তারকে প্রার্থী মনোনীত করে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রার্থীদের হলফনামা: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এবার তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে তাদের হলফনামা জমা দিয়েছেন। হলফনামা অনুসারে তাদের মধ্যে শিক্ষায় এগিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা। সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান। আর সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, দলের মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদের সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান আকমল হোসেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলকালে প্রার্থীদের দেয়া হলফনামায় বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বি.এ অনার্স এম.এ উল্লেখ করেছেন। সম্পদ উল্লেখ করেছেন ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫০ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৬৪ টাকা। বিএনপি প্রার্থী আতাউর রহমান শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন এসএসসি। সম্পদ উল্লেখ করেছেন স্থাবর ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, শেয়ার বাজারে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯৮২ টাকা ও নগদ ১০ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৮ টাকা। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আকমল হোসেন শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি ও সম্পদ উল্লেখ করেছেন স্থাবর অস্থাবর মিলিয়ে মাত্র ৫০ হাজার টাকা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল