ওসমানী হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ওসমানী হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

ওসমানী হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোসিংয়ের মাধ্যমে জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দরপত্রে উল্লেখিত যোগ্যতা না থাকলেও অদৃশ্য ইশারায় বুশরা সিকিউরিটিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বঞ্চিত হয়েছেন যোগ্যতা সম্পন্ন একাধিক দরদাতা। অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ায় তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে দরপত্রে অংশ নেওয়া আল আরাফাত সার্ভিসেস।
জানা গেছে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের জন্য আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের দরপত্র (স্মারক নং- ওমেকহাসি/দরপত্র শাখা/আউটসোর্সিং/২০২০/২৭০৪/১২, তারিখ- ১৪/০৫/২০২০) প্রকাশ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ৭টি প্রতিষ্ঠান ২০০ জনবল সরবরাহের জন্য অংশ গ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো গালফ সিকিউরিটি, সরকার আউটসোর্সিং এন্ড সিকিউরিটি সার্ভিসেস, আল আরাফত সার্ভিসেস, বুশরা সিকিউরিটি, গাউসিয়া সিকিউরিটি, সানমুন ক্লিনিং এন্ড সিকিউরিটি সার্ভিসেস ও ধলেশ্বরী সিকিউরিটি। অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রের সকল যোগ্যতা পূরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও একাধিক প্রতিষ্ঠান সেই সকল শর্ত পূরণ না করেই অংশ নেয়। সকল শর্ত পূরণ না হলে দরপত্র বাতিলের কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা করে নি। ১৮ জুন দরপত্র খোলা হলে হাসপাতালের একটি সিন্ডিকেট দরপত্রে প্রভাব বিস্তার করে। দরপত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলেও কর্তৃপক্ষ বুশরা সিকিউরিটিজকে কার্যাদেশ দেয়। এতে বঞ্চিত হয় যোগ্যতা সম্পন্ন অংশগ্রহণকারীরা।
দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান আল আরাফাত সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বেলায়েত হোসেন গত ২ জুন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে দেওয়া এক আবেদনে কার্যাদেশ পাওয়া বুশরা সিকিউরিটিজের অযোগ্যতাসমূহ তুলে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার আবেদন জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, দরপত্রের ৮ ও ৯ অনুচ্ছেদেও শর্তানুযায়ী দরদাতা প্রতিষ্ঠানের ২৫লক্ষা টাকার ব্যাংক স্থিতিসহ লেনদেন বিবরণী ও একক কার্যাদেশের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যেকোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারী প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২০০ জনবল সরবরাহের অভিজ্ঞতার স্বপক্ষে প্রত্যয়নপত্র ও কার্যাদেশের কপি দাখিল করার কথা। কিন্তু দরপত্রে অংশগ্রহণকারী বুশরা সিকিউরিটিজসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের এ ধরণের যোগ্যতা নাই। যারা এ ধরণের কাগজপত্র দাখিল করেছেন, তাদের কাগজপত্র ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বড় অংকের উ’কোচ নিয়ে লোকজনকে নিয়োগ দেয়। অনেককে বেতনভাতাও দেওয়া হয় না। এ কারণে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া জনবল বিভিন্ন ধরণের অপকর্মে লিপ্ত হয়। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ সিকিউরিটি গার্ডদের বিরুদ্ধে। তারা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে উৎেকোচ গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া অন্যান্য পদের কর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের অন্ত নেই।
এ ব্যাপারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। তবে এই সকল নিয়োগের জন্য আলাদা কমিটি করা হয়। কমিটির তদন্তের প্রতিবেদনের উপর নিয়োগ প্রদান করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল