কমলগঞ্জে করোনা জয়ী সাংবাদিক আলমগীর

প্রকাশিত: ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

কমলগঞ্জে করোনা জয়ী সাংবাদিক আলমগীর

সালাহ্উদ্দিন শুভ,কমলগঞ্জ
করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশি বাহিনী ও সেনা বাহিনীর সদস্যদের সাথে মাঠে থেকে সংবাদ তথ্য সংগ্রহকালে করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন দৈনিক নতুন দিন পত্রিকার কমলগঞ্জ প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন। করোনা সংক্রমতি হওয়ার পর থেকে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে শক্ত মনোবলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে করোনা জয় করে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন তিনি। নিজে থেকেই কিছুটা অসুস্থ্য মনে করে গত ১৬ মে তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নমুনা সংগ্রহকারীর কাছে করোনা নমুনা পরীক্ষার জন্য রক্ত দিয়েছিলেন। ২১ মে তিনি রিপোর্ট পান করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে।
করোনা আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ ১৮ দিন কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের রঘুনাতপুর গ্রামের বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন সাংবাদিক আলমগীর। রোববার (৭ জুন) সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে জানালেন করোনাকালীন তার অবস্থা ও করোনা জয়ের কথা। সাংবাদিক আলমগীর বলেন করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধকালে সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে কিনা তা তদারকিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিমের নেতৃত্বে পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সদস্যদের সাথে প্রতিটি ভ্রাম্যমান অভিযানে তিনি মাঠে ছিলেন। এমনকি ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও বিদেশ ফেরৎ মানুষজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকে অভিযানের তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের সাথে মাঠে ছিলেন।
এমনিভাবে মে মাসের ১৫ তারিখ নিজ থেকেই অনুভব করেন হয়তো তিনি করোনা সংক্রমতি হয়েছেন। ফলে ১৬ মে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নমুনা সংগ্রহকারী দলের কাছে তিনিসহ বেশ কয়েকজন নমুনা দিয়েছিলেন। ২১ মে রাতে প্রাপ্ত রিপোর্টে দেখা যায় তিনিসহ কমলগঞ্জ উপজেলায় ৮ জন করোনা সংক্রমতি হয়েছেন। সে রাত থেকেই অন্যান্য আক্রান্তদের মত প্রশাসনিকভাবে তার বাড়ি লকডাউন করে তাকে একটি কক্ষে আইসোলেশনে রাখা হয়। প্রথমে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন আরও বোধহয় সুস্থ্য হবেন না ভেবে। তবে এ রাত থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার সহকর্মী সাংবাদিক, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের অসংখ্য সহকর্মী সাংবাদিক স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললে ৪ দিনেই সুস্থ্য হওয়া যায় বলে তার মনোবল চাঙা রাখেন। সাথে সাথে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুযোগ পেলেই মুঠোফোনে খোঁজ খবর নিয়ে সাহস যুগিয়েছেন। আর এর সাহসেই মনোবল চাঙা রেখে স্বাস্থ্য বিদি মেনে চলে তিনি করোনাকে জয় করে ফিরেছেন।
তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন দ্বিতীয় দফা দেওয়া নমুনা জেলা বা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে হারিয়ে যায়। পরে তিনি ২ জুন আবার তৃতীয় দফায় নমুনা দিলে গত ৬ জুন এ নমুনা পরীক্ষা ফলাফলে তিনি করোনা নিগেটিভ হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর তার সবচেয়ে বেশী আঘাত লেগেছে যে প্রতিবেশীদের একটি অংশ সামাজিকভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হেয় করে দেখেছিল। একটি অংশ তার বাড়ির প্রবেশ পথও বন্ধ রেখেছিল। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষনিক সহকর্মী সাংবাদিক ও প্রমাসনিক কর্মকর্তাকে অবহিত করেছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল