করিমগঞ্জের পাথারকান্দিতে সন্দেহজনক তিন বাংলাদেশি গরু চোরকে পিটিয়ে খুন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

করিমগঞ্জের পাথারকান্দিতে সন্দেহজনক তিন বাংলাদেশি গরু চোরকে পিটিয়ে খুন

প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

করিমগঞ্জের পাথারকান্দিতে সন্দেহজনক তিন বাংলাদেশি গরু চোরকে পিটিয়ে খুন

সুজন চক্রবর্তী, আসাম(ভারত) থেকে

শনিবার শেষ রাতে ইন্দো-বাংলা সীমান্তবর্তী পাথারকান্দির বুবড়িঘাট চা বাগানে সন্দেহজনক তিন চোরকে পিটিয়ে হত্যা করেন স্থানীয় লোকজন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তক্রমে নিহত তিন সন্দেহজনক বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করে করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে পাটিয়ে দেয় ময়নাতদন্তের জন‍্য। জানা যায়, শনিবার শেষ রাতে সাতজনের এক চোরের দল বুবড়িঘাট বাগানের রাজু তেলেঙ্গার বাড়িতে প্রবেশ করে। চোরের দল রাজুর গোয়াল ঘর থেকে গরু চুরি করতে গেলে বাড়ির লোক টের পেয়ে যান। তারা কৌশলে তিনজনকে ধরে ফেলে। বাকিরা অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যায়।রাজুরা চিৎকার দিলে প্রতিবেশিরা ও ঘটনাস্থলে আসেন।গ্রামের লোকজন দলবল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালালেও পালিয়ে যাওয়াদের কোনও হদিস বের করতে পারেনি।অনুমান করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।এদিকে ধৃত তিন জনকে স্থানীয়া বেদম প্রহার করে।এক সময় তিন জন গন প্রহারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।তাদের সঙ্গে পাওয়া গেছে তার কাটার কেঞ্চি, বিস্কুট, মশার কয়েল ও কিছু কাপড়। এসব দেখে পুলিশের অনুমান এরা বাংলাদেশী। ঘটনার খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থেকে ছুটে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( বর্ডার) প্রশান্ত দত্ত। পাথারকান্দি থানা থেকে যান ওসি তানবির আহমদ সহ অন‍্যান‍্যরা।তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলেন এবং তদন্ত শুরু করেন।স্থানীয় লোকজন পুলিশকে জানান, বাংলাদেশি চোরের দল প্রায় সময় সীমানা অতিক্রম করে এ দেশে প্রবেশ করে গরু চুরি করে নেয়। দীর্ঘদিন থেকে তারা বাংলাদেশী চোরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ।আর আজ চোরদের হাতের কাছে পাওয়ায় ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটেছে।এদিকে, পুলিশ জানায় জীবিত কেউ ধরা না পড়ায় এদের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না।তবে অনুমান এরা সবাই বাংলাদেশী।পুলিশ ও বিএসএফ বাংলাদেশ বর্ডার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।ইন্দো- বাংলা সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া রয়েছে। এরপরও কিভাবে বাংলাদেশিরা প্রবেশ করে এর উত্তরে পুলিশ জানায় ঘটনার তদন্ত চলছে।অনুমান করা হচ্ছে তার কেটে হয়তো এরা ঢুকতে পারে।নতুবা সীমান্তে সেতু রয়েছে। এই সেতুর নিচ দিয়ে ও প্রবেশ করতে পারে।এছাড়া হাতির করিডোর আছে।তদন্তের পর বেড়িয়ে আসবে কিভাবে এরা প্রবেশ করল।গত জুন মাসে এভাবে পাশ্ববর্তী পুতনি চা বাগানে একজন বাংলাদেশী গরু চোরকে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকার জনগণ।এছাড়া স্থানীয় দুইজন দুস্কৃতীকে ও আটক করা হয়েছিল।অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কিছু দুস্কৃতীর সহায়তায় বাংলাদেশিরা প্রায় সময় এ দেশে এসে অসামাজিক কার্যকলাপ করে।জুন মাসের ৬ তারিখ বুবড়িঘাট চা বাগানে দিনদুপুরে রাতাবাড়ি এলাকার ইমান আলি নামের এক প্রৌঢ়কে বেধড়ক পিটানো হয়।বাগান এলাকায় গরুচোর আতস্ক বিরাজ করছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল