করোনাভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে যত প্রশ্ন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে যত প্রশ্ন

প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০২০

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে যত প্রশ্ন

ডা. নাজিরুম মুবীন

করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকে এই পর্যন্ত ভাইরাসটির অনেক ধরন বা প্রকারভেদ এসেছে।

চীনের উহান শহরে যে ধরন বা ধরন দিয়ে মহামারী শুরু হয়েছিল পৃথিবীর সব প্রান্তে সেই একই ধরন দিয়ে মহামারী ছড়িয়ে পরেনি। মিউটেশনের কারণে প্রতিনিয়ত করোনাভাইরাস তার চেহারা, ক্ষমতা ও দক্ষতা বদল করেছে।

যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া আলোচিত নতুন ধরনটি সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। তাহলে এই ধরন নিয়ে এতো চিন্তিত হওয়ার কারণ কী?

আতংকের কারণ ৩টি

১) এই ধরনটি পূর্বের সকল ধরনের তুলনায় অনেক দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে এবং পূর্বের ধরনগুলোর জায়গা দখল করে ফেলছে।

২) ল্যাবের অভিজ্ঞতা বলে এই ধরনটির রোগ তৈরির ক্ষমতা বেশি ও

৩) যে মিউটেশনের ফলে এই ধরনটি তৈরি হয়েছে সেখানে ভাইরাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ফলে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

নতুন এই ধরনটি প্রথম ধরা পরে সেপ্টেম্বর মাসে। নভেম্বর মাসে লন্ডনে নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের এক-চতুর্থাংশ এই ধরন দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে এই পরিমাণটি বেড়ে দাঁড়ায় দুই-তৃতীয়াংশে। ধরনটি শুধু লন্ডনের মধ্যেই বসে নেই। এই অল্প সময়ে ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড এমনকি সুদূর অস্ট্রেলিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে এই ধরনটি।

নতুন ধরনটি কতটুকু মারাত্মক তা বলার জন্য এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত আমাদের হাতে নেই। হতে পারে এই ধরনে মৃত্যুর হার একদমই কম আবার হতে পারে সেটা ভয়ংকর রকমের বেশি। এখন পর্যন্ত আমরা যা জানি তা হলো, এই ধরনটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং একই সঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এতটুকু তথ্যই পুরো বিশ্বকে আবার লকডাউনে পাঠানোর জন্য যথেষ্ট। কারণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী একই সঙ্গে আক্রান্ত হলে অতিরিক্ত রোগীরা কোন চিকিৎসাই পাবে না।

সবশেষে, যে প্রশ্নটি সবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো, নতুন এই ধরনের বিপরীতে ভ্যাকসিন কী কাজ করবে?
হ্যাঁ, করবে। অন্তত এখন পর্যন্ত। তবে ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা মুশকিল।

ভ্যাকসিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেয় কীভাবে ভাইরাসের বিভিন্ন অংশকে চিনে আক্রমণ করতে হবে। ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন এই অংশগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভয়ের বিষয় হলো, নতুন এই ধরনটিতে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনেই মিউটেশন হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ভ্যাকসিন তবুও কাজ করবে। তবে, এই ধরনে এরকম আরো কিছু মিউটেশন হলে এটি ভ্যাকসিনকে ফাঁকি দেয়ার দক্ষতা অর্জন করে ফেলবে। সেক্ষেত্রে ফ্লু ভ্যাকসিনের মতো করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনকেও বছর বছর আপডেট করতে হবে। আশার কথা হলো, বর্তমানে বাজারে আসা করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনগুলোতে এই কাজটি খুব সহজেই করা সম্ভব।

সাধারণ মানুষের কী করণীয়?

১) মাস্ক পড়ুন।

২) ঘরের বাইরে থাকলে ভাববেন আশেপাশের সবাই কোভিড রোগী শুধু আপনি সুস্থ।

৩) ঘরে আসলে ভাববেন, আপনি কোভিড রোগী, পরিবারের বাকি সদস্যরা সুস্থ।

লেখক: ডা. নাজিরুম মুবীন

চিকিৎসক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
সুত্র : যুগান্তর