করোনা আতঙ্কে সিলেট ও মৌলভীবাজার ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

করোনা আতঙ্কে সিলেট ও মৌলভীবাজার ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২০

করোনা আতঙ্কে সিলেট ও মৌলভীবাজার ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি

নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় আতংক বেড়েছে বাংলাদেশেও। এরইমধ্যে দেশে আক্রান্ত হয়েছে ১৪ জন। মারা গেছেন একজন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশের স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণে চলে আসতে পারেন। এজন্য সিলেট ও মৌলভীবাজার ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ওসি রতন শেখ পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও টুরিস্ট পুলিশের মৌলভীবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবিব বলেন, আগামীকাল থেকে মৌলভীবাজার জেলার সকল পর্যটন স্পট বন্ধ থাকবে।

ওসি রতন শেখ বলেন, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেড়াতে আসা পর্যটকদের আমরা এ বিষয়ে অবহিত করছি। জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবত থাকবে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ‍মুহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সবাইকে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করছি। পাশাপাশি সবাই যাতে নিজ থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেনে চলেন সেজন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় শিশুদের বাসায় রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, সিলেট একদিকে পর্যটন এলাকা। অন্যদিকে প্রবাসী অধ্যূষিত। সেজন্য সিলেটে করোনাভাইরাসের আশঙ্কা একটু বেশি। সেজন্য সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলারও আহবান জানান তিনি। এছাড়া আগামী দুএকদিনে মধ্যে গণপরিবহন চলাচলের নির্দেশনা দেয়া হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, কোয়ারেন্টাইনে রাখা লোকজনের বেশিরভাগই প্রবাস ফেরত ও তাদের স্বজনরা। কোয়ারেন্টাইনের সমীক্ষার জন্য প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও’র তত্ত্বাবধানে একটি করে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি করে কমিটি আছে। আর বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি রয়েছে সার্বিক মনিটরিংয়ের জন্য। ওইসব কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারা কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যাটি নিশ্চিত হতে পেরেছেন। স্থানীয় প্রশাসন রিপোর্ট দেওয়ার পাশাপাশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের যুক্ত করে হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখছেন।

অপরদিকে, গতকাল মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানে জন্মশত বার্ষিকীর দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর মিলিয়ে পর্যটকদের ঢল নামে। সেই ঢলে দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকও সামিল ছিলেন।

পর্যটকরা করোনাভাইরাস প্রতিরোধের সকল নিয়ম-কানুন ভেঙ্গে একত্রে ঘুরে বেড়িয়েছেন উদ্যোনের বিভিন্ন প্রাপ্তে। বাদ যায়নি লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির আবাসিক এলাকায়ও। তবে পর্যটকরা করোনাভাইরাসের জন্য সতর্কতা না মানলেও স্থানীয়দের মাঝে বেড়েছে করোনা আতঙ্ক। এনিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এছাড়া দেশের অন্যান্য পর্যটক স্পটেও ছিল একই অবস্থা। সার্বিক পরিস্থিতি মিলিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।