করোনা ও বন্যায় পোল্ট্রি খামারীদের মাথায় হাত – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

করোনা ও বন্যায় পোল্ট্রি খামারীদের মাথায় হাত

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

করোনা ও বন্যায় পোল্ট্রি খামারীদের মাথায় হাত

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
সারাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় পোল্ট্রি খামারীদের লোকসানের কারণে মাথায় হাত। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা এই পোল্ট্রি শিল্প আজ ধ্বংসের পথে। করোনার প্রভাব ও বারবার বন্যার কারণে অনেক মুরগী এবং হাঁসের খামার এখন বন্ধের পথে। হতাশায় দিন গুণছে পোল্ট্রি খামারীরা। যেকোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই শিল্প। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বেশ কয়েকজন পোল্ট্রি খামারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা আনার কোন ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া চলতি বছরে সবাই মুরগীর খাবার করে প্রায় ধরাসায়ী। করোনার প্রভাবে মুরগীর দাম একেবারে কমে গেছে। কারণ ক্রয়ক্ষমতা না থাকায় মানুষ মুরগী কিনে খেতে পারছে না। প্রতি মুরগীর বাচ্চা এক থেকে দেড় মাস লালন-পালন করে বাজারে বিক্রির সময় পর্যন্ত ১শ থেকে ১১০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বিক্রি করতে হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকা। তাই লাভের চেয়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে সব খামারীদের।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের মো. নিক্সন মিয়া জানান, করোনা আসার আগে ৪ হাজার মুরগীর বাচ্চা সেডে তুলে ১ কেজি বা তার একটু বেশি ওজনের মুরগী প্রতি খরচ হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। করোনা আসায় সেই মোরগ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে আমার দুটি খামারে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি কোনোভাবেই পুষ্টিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
একই গ্রামের খামারী মো. সেলিম শাহ বলেন, করোনার কারণে আমার ১ হাজার মোরগের ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ৫ বছর যাবৎ মুরগীর খামার চালিয়ে দুই মাস পরপর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভ হতো। করোনার কারণে মুরগীর খামারে লোকসান দিতে দিতে বন্ধ করে দিয়েছি। এখন হাঁসের খামার দিয়ে কোনোরকম ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। হাঁসেও ডিম পাড়ার সময় সানমুন এনা টাইডি রোগে মাঝে মাঝে অনেক হাঁস মারা যায়।
একই গ্রামের আরেক খামারী মোছা. হুছনা বেগম জানান, ৩ বছর যাবৎ ১২শ ব্রয়লার মুরগের ফার্ম চালিয়ে যাচ্ছি। ঘর ও বাচ্চাসহ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ হতো। কিন্তু করোনার কারণে ১২শ’ মুরগীতে দেড় লাখ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। জমি বন্দক দিয়ে ২ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে আবার ফার্ম শুরু করলেও এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। সরকারি বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকে ঋণ সহায়তা পেয়ে হয়তো ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল কাসেম বলেন, এই উপজেলার ব্রয়লার মুরগীর খামার ৩৫টি এবং হাঁসের খামার রয়েছে ২১৫টি। বর্তমানে করোনা ও উপর্যপুরী বন্যার কারণে উপজেলার প্রান্তিক খামারীরা নাজুক অবস্থায় পড়েছেন। সকল খামারীরা লোকসানের মধ্যে আছেন। বর্তমান সরকার এই দুর্যোগকালীন মুহূর্তে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারীরা ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে প্রণোদনার সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল