করোনা সংক্রম রোধে ঘরবন্ধী থাকাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ঔষধ  : ময়নূল হক বুলবুল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

করোনা সংক্রম রোধে ঘরবন্ধী থাকাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ঔষধ  : ময়নূল হক বুলবুল

প্রকাশিত: ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, মে ৮, ২০২০

করোনা সংক্রম রোধে ঘরবন্ধী থাকাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ঔষধ  : ময়নূল হক বুলবুল
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে আগাচ্ছে আমাদের পৃথিবী। করোনার সংক্রমন রোধে ঘরবন্ধী থাকা সবচেয়ে বড় ঔষধ। আমরাও তাই করছি। যারা নিতান্ত বের হচ্ছে বা যাদের বের হতে হচ্ছে তাদেরকেও আমরা ঘরবন্ধী রাখার চেষ্ঠা করছি। কিন্তু ঠিক কতদিন এ ভাবে ঘরবন্দি থাকবে মানুষ? ঘরবন্দি মানুষের জীবন রক্ষায় আহারের জোগান আসবে কোথা থেকে? পৃথিবীর রাষ্ট্রসমুহের ঠিক কতদিন জনগনের আহার যোগানোর সামর্থ্য আছে? এমন এক অসমাধান যোগ্য গানিতিক পরিসংখ্যানের মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে মানব সভ্যতা। এমনও তো হতে পারে করোনা কোন রোগ নয়, এটা মানব সভ্যতার বিবর্তনের একটা মাধ্যম। বিশ্ব যদি আরো বেশ কয়েক বছর এই ধারায় থাকে তাহলে বন্ধ থাকবে শিল্প উৎপাদন, আবার করোনাকে কম গুরুত্ব দিয়ে শিল্প উৎপাদন করলে এর বাজার কোথায়। কারণ অনন্তকাল আর্থিক কর্মকান্ড বন্ধ থাকলে বিশ্ব মানবের ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে নেমে যাবে, হয়তো ক্রয় ক্ষমতা নিঃশেষও হয়ে যেতে পারে। এই পর্যায়ে পৃথিবী যেতে তিন চারবছরই লকডাউন যথেষ্ঠ। এই কঠিন সমীকরনের সরল সমাধান বের করতে হবে বিশ্ব মেধাকে। আমি মনে করি মৃত্যু তো চীরন্তন সত্য বিষয়। মৃত্যু থেকে কেউ কখনো পালিয়ে বাঁচতে পারেনি। এটাকে মূল ধরে বিশ্ব নীতিনির্ধারকদের বিশ্ব সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল বের করতে হবে। দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে অর্থনৈতিক গতিধারাকে। যেমন সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহত বন্ধ করতে সড়ক পরিবহন বন্ধ করার পরামর্শ কখনো কেউ দেয় নি। রবং কম দূর্ঘটনার পদ্ধতি বের করতে গবেষণা চলছে কালাতিকাল ধরে। এতে সড়ক পরিবহনের আধুনিকায়ন ও বিকাশ হয়েছে, সাথে সড়ক দূর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় মাত্রায় রাখতে পেরেছে বিশ্ব সভ্যতা।
আমার মনে হচ্ছে রাষ্ট্র মাথা ব্যাথার জন্য মাথা কেটে ফেলার নীতিতে না থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্ঠা করছে বিশ্ব সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার মতো। আমরাও সরকার ও রাষ্ট্রকে সহযোগীতা করি। নিজে বাঁচার অজুহাতে দেশের অর্থনীতি হত্যা করা হবে একটা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। নিজে বাঁচার চেষ্ঠার প্রবনতা হয়তো আমাদের নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে নিরব দূর্ভিক্ষ আনতে পারে। থমকে যেতে পারে আমাদের দেশ। স্বার্থপরের মতো আমি আমার পরিবার নিয়ে বাঁচার তাগিদে একদিন হয়তো এমনও হতে পারে আমার কাছে খাবার কেনার অর্থ থাকবেনা, রাষ্ট্রেরও জনসাধারনকে খাবার পৌঁছে দেয়ার সামর্থ্য শেষ হয়ে গেল, এমন পরিস্থিতিতে ঠিক আমি আমার পরিবার নিয়ে কি বাঁচতে পারবো -তাও ভেবে দেখার সময় এসেছে।
এখন মানব সমাজ যদি ত্যাগ আর মোকাবেলা করতে মুখোমূখি দাঁড়ানোর চিন্তা থেকে সরে আসি তা হলে চীরতরের জন্য থেমে যাবে দেশ, জনপদ, পৃথিবী।
সিলেট এনটিভির ব্যুরো প্রধানের ফেইসবুক থেকে নেয়া।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল