কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি সাব্বির আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে! নিহতদের শরীরের পেছনে গুলির চিহ্ন: চিকিৎসক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি সাব্বির আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে! নিহতদের শরীরের পেছনে গুলির চিহ্ন: চিকিৎসক

প্রকাশিত: ২:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৬

কল্যাণপুরে নিহত জঙ্গি সাব্বির আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে! নিহতদের শরীরের পেছনে গুলির চিহ্ন: চিকিৎসক

ctg-1_136374রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত ৯ জনের একজন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়ার সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে সাব্বিরুল হক কণিক (২২) বলে ধারণা করছেন তার স্বজনেরা।
খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি দল রাত ১২টার দিকে কণিকদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খবর নিয়েছে।
অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক জঙ্গি হাসান নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮জনের নাম জানিয়েছে। তার বর্ণনায় সাব্বিরুল হক কণিকের নাম সাব্বির বলে উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া পুলিশও নিহতদের ছবি প্রকাশ করে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ শীর্ষ নিউজকে বলেন, সাব্বিরের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার বাবা-মা ধারণা করছে এটা সাব্বিরের লাশ হতে পারে। তবে, ময়না তদন্তের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
জানা যায়, আনোয়ারার বরুমচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক চৌধুরী রাশেদের ছেলে কণিক চার মাস ধরে নিখোঁজ ছিল। সন্তান বিপথগামী হয়েছেন বুঝতে পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরিও করা হয়নি।
কণিকের বাবা আজিজুল হক এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি সপরিবারে চট্টগ্রাম শহরে বাস করেন। চাকরি করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে। তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক চৌধুরী একজন মুক্তিযোদ্ধা। আজিজুল হকের সন্তান এভাবে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে, এলাকার মানুষের কাছে তা অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল।
আজিজুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের পরিবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। এমন পরিবারের সন্তান হয়ে কণিকের বিপথগামী হওয়া বড়ই কষ্টের। ভয়, শঙ্কা আর লজ্জায় এ ব্যাপারে এতদিন জিডি করেননি বলে জানান তিনি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, কণিক আইআইইউসির ইকনোমিক অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে সরকারি মুসলিম হাই স্কুল থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১২ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
জানা যায়, তাবলিগের কথা বলে মাঝে মাঝে সপ্তাহ-দশদিনের জন্য উধাও হয়ে যেতেন। বছরখানেক আগে একবার তিন মাসের জন্য নিরুদ্দেশ থাকার পর বাসায় ফিরে আসেন। সর্বশেষ চার মাস আগে রাউজানে এক বিয়েতে যাওয়ার কথা বলে বাবার কাছ থেকে পাঁচশ টাকা নিয়ে বের হন। সেই থেকে কণিক নিখোঁজ। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না থাকায় সন্তানের আশা এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা। সন্তান নিজে বিপথগামী হয়েছেন বুঝতে পেরে নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করারও প্রয়োজন মনে করেননি তারা।
সম্প্রতি ‘আইডি নাম্বার দুই’ নামে ফেইসবুকের একটি ভুয়া আইডি থেকে তার কিছু তৎপরতা স্বজনদের কাছে ধরা পড়ে। ওই আইডি থেকে জানান, তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্ত কোথায় আছেন, কেমন আছেন কিছুই বলেননি।
জানা যায়, কণিক ছোটবেলায় ডানপিটে স্বভাবের ছিলেন। তার এক আত্মীয় জানান, ২০০৮ সালে নাইনে পড়ার সময় ‘আমগো সাব্বির দা’ নামে একটি ফেইসবুক আইডি খোলে ব্যবহার করে। গত দুই বছর ধরে সেটি ইনেক্টিভ করে রাখে। সম্প্রতি ‘আইডি নাম্বার দুই’ থেকে তার তৎপরতা দেখা যায়।
এই আইডিটি ছিল কোরআন-হাদিসের আলোকে নানা স্ট্যাটাসে ভরা।
সর্বশেষ এটির ব্যবহার হয়েছিল ২০১৪ সালে। এই আইডিতে অস্ত্র তাক করা এক জঙ্গির ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে। আছে পোশাকধারী কিছু মানুষের লাশ বহন করা এবং উটের দৌড়ের ছবি।

নিহতদের শরীরের পেছনে গুলির চিহ্ন: চিকিৎসক

রাজধানীর কল্যাণপুরের আস্তানার নয় ‘জঙ্গি’ তাদের শরীরের পেছন দিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
আজ বুধবার তাঁদের ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ।
বেলা ১১টার দিকে ময়নাতদন্ত শুরু হয়। ডা. সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের চিকিৎসক দল ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। অন্য দুই চিকিৎসক হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও ডা. সোহেল কবীর।
ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, এঁদের সবারই শরীরের পেছন দিকে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রত্যেকের শরীর থেকে সাত/আটটি করে গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিগুলো শরীরের পেছন দিকে বিদ্ধ ছিল। মাথা, বুক, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এসব গুলির অবস্থান ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।
‘জঙ্গি’রা কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করেছিল কি না, তা জানতে নিহতদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. সোহেল মাহমুদ।
গত সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর রোডে ‘জাহাজ বিল্ডিং’ নামে পরিচিত সাততলা ভবনটিতে অভিযানে যান পুলিশ সদস্যরা। এ সময় ভবনের পঞ্চম তলা থেকে জঙ্গিরা ককটেল ছোড়ে। পরে ভবনটির আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
জাহাজ বিল্ডিংয়ের পাশের ভবনগুলোর ছাদে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থলের আশপাশের সবকটি সংযোগ সড়কেও ব্যারিকেড দেয় পুলিশ।
রাতভর পরিকল্পনার পর গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে শুরু হয় ‘অপারেশন স্টর্ম টোয়েন্টিসিক্স’। ঘণ্টাখানেক মুহুর্মুহু গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেন।
অভিযান শেষে পুলিশ কর্মকর্তা মারুফ হাসান জানান, নিহত জঙ্গিদের সবার পরনেই ছিল কালো পোশাক।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল