কাউন্সিলর সেলিমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কাউন্সিলর সেলিমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ১১:৫৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০১৮

কাউন্সিলর সেলিমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার বাসায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামী করা হয়েছে ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিম ও বিশ্বনাথের গিয়াসসহ ঘটনা সাথে সহযোগি ২৯জনকে। নগরীর সোনারপাড়া এলাকায় গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় এ ঘটনাটি ঘটেছিল। স্থানীয় থানা পুলিশ মামলা গ্রহন না করায়, গত ২৬ নভেম্বর আদালতে এ ঘটনায় অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতার খালাতো ভাই জাহের আহমদ। মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে, শাহপরান থানা পুলিশকে এজহার গন্যে প্রতিবেদনের জন্য অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন। নির্দেশনা পেয়ে ২ ডিসেম্বর এজহারটি রেকর্ডভূক্ত (মামলা নং ০২) হয়। আসামীদের মধ্যে রয়েছেন, এইচ আর সুমিন (৩১), নাবিল আহমদ (২৩), চঞ্চল কুমার দাস (৩০), কাজী জোবায়ের আহমদ(২৬), সুলতান শাজাহান তুহিন (২৭), আকবর হোসেন (২৩), সুলতান শাহজাহান তুহিন (২৭), কামাল উদ্দিন (৩৬), কাওছার আহমদ(২৫), মোশাহিদ আহমদ খান (৩০), গিয়াস উদ্দিন (৩৭), সালেহ আহমদ সেলিম (৪৫), জাহির উদ্দিন (৩৬), মাসুক মিয়া (৩০), রুহুল আমীন (২৩), এহিয়া আলম মুন্না (২৩),আরজু আহমদ (২৬),শিপন (২৬), মিন্নত আলী (৩০), রুবেল আহমদ উরফে ভাগনা রুবেল (২৬), নাজিম মিয়া, রায়হান আহমদ(২৩), সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক(৩০), (নিয়াজ আহমদ(৩০), আল-আমীন উরফে সিএনজি আল-আমীন, আরমান (২৫), সালাম উরফে দালাল সালাম (৪০), রাহয়ান চৌধুরী (৩০), রফিকুল ইসলাম রাবিক্ষ (২৭) ও রুস্তুম আলম কুদ্দস (৪৫)। অভিযোগে জানা যায়, মহানগর আওয়ামীলীগ সদস্য, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেলিম আহমদ ও তার সহযোগী গিয়াসের নেতৃত্বে একদল চুরি ছিনতাই্ও চাঁদাবাজ চক্র আধিপত্য ও গ্রপিং রাজনীতির জের ধরে গত ২৫ অক্টোবর নিজ গ্র“পের কর্মী আবুল হোসেন জাহিদকে হত্যা করে। এ নেক্কারজনক হত্যাাকান্ডের প্রতিবাদে সেলিম ও গিয়াসের সমালোচনা করা হয়। এতে করে বাদীর খালাতো ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন বিবাদীরা । এক পর্যায়ে ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সেলিম ও গিয়াসের নেতৃত্বে বিবাদীরা রণসজ্জায় সজ্জিত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রোল বোমা সহকারে দাঙ্গা ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে বাদীর খালাতো ভাই জাকারিয়া মাহমুদের সোনারপাড়াস্থ নবারুন-৪৪১ নং বাসায় অনাধিকার প্রবেশ করিয়া পরিবারের সদস্যের উপর এলোপাতাড়ি মারপিট চালায়। এসময় তারা জাকারিয়া মাহমুদকে খুঁজতে থাকে ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এছাড়া বাসার আলমিয়া, সোকেস, ্ওয়ারড্রপ ইত্যাদি ২,৩,৪,৫,৬,৭,৮ ও ৯ নং বিবাদী ভাংচুর করে আলমিরায় রক্ষিত ৭ভরি স্বর্ণ ও নগদ আড়াই লাখ টাকা ১নং বিবাদী লুট করে নিয়ে যায়। বাসার লোকজন লুটপাটে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ১ ও ২ নং বিবাদীরা হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা বাসার থাই গ্লাসে গুলি করে আতংক সৃষ্টি করেন। থাই গ্রাস ভাংগার ফলে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়। ১২থেকে ২৯ নং বিবাদীরা বাসার দরজা, জানালা, থাই গ্লাস ্ও আসবাবপত্র দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ভাংচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। এছাড়া সেলিম ও গিয়াসের নির্দেশে ৩.৪.৫.৬.৭.৮.৯১৩.২৮ নং বিবাদীরা হাতে থাকা পেট্রোল বোমা ঘরের ভিতর নিক্ষেপ করিলে আগুনে ঘরের আসবাবপত্রে অগ্নি-সংযোগ হয়ে ব্যবহৃত ০৩টি ্ওয়ালটন ফ্রিজ, মূল্য প্রায় ৯০হাজার টাকা, ১টি কাঠের আলমিরা প্রায় ২৫ হাজার টাকা, ১টি ড্রেসিং টেবিল, মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা, ১টি কাঠের সোফা সেট টেবিল, মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা, দোকানের মালামাল তথা ছাদ ও ডেকোরেশন সহ ইলেকট্রিক মালামাল, মূল্য প্রায় ৩ হাজার, ১০ টি প্লাস্টিকের চেয়ার মূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকার মালামাল পুড়িয়া যায়। এসময় আগুনের লেলিহান শিখায় বাসার ছাদ, দেয়াল, দরজা, জানালা, ইত্যাদি জ্বলিয়া পুড়িয়া বাসার অবকাঠামোগত প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। বিবাদীদের এহেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম-হুমকি সহ অগ্নি-সংযোগ, লুটপাট, গুলি ও মারপিটে ঘটনার ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে বিবাদীগণ পালাইয়া যাওয়ার সময় ১৮, ১৯, ২০, ২২, ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৭ নং বিবাদী ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ত্রাস ও আতংক সৃষ্টি করে। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার বিগ্রেড পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন। উল্লেখ্য যে, এই বিবাদীদের বিরুদ্ধে বাদীর খালাত ভাই জাফর সাদিক রহমান বাদী হয়ে ০৭.০৮.২০১৬ ইং শাহপরান জি.আর ১৫১/১৬ ইং মামলা দায়ের করেছিলেন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল