কানাইঘাটে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা : গ্রেপ্তার ৩ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কানাইঘাটে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা : গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত: ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬

কানাইঘাটে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা : গ্রেপ্তার ৩

images-1সিলেটের কানাইঘাটে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ পাহাড়ের চূড়া থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে। তার নাম সুলতানা বেগম (১০)। সে কানাইঘাটের এরালিগুল গ্রামের তেরাব আলীর মেয়ে।
ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন আবুল হোসেন (২৫), সাদেক উদ্দিন (২০) ও রাসেল মিয়া (২২)। এই তিনজনসহ চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সুলতানা গত রোববার স্কুল থেকে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়ায় বুধবার তার বাবা কানাইঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল সকালে পুলিশ সুলতানার সহপাঠী কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা বড়খেওড় গ্রামের আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি সুলতানাকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় নিয়ে যান বলে জানায়।
পুলিশ আবুল হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে তিনি সুলতানাকে ধর্ষণ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। আবুল পুলিশকে জানান, সুলতানার লাশ তাঁদের বাড়ির পাশে পাহাড়ের চূড়ায় মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
কানাইঘাট থানার ওসি হুমায়ূন কবির জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে ওই পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে মাটিচাপা অবস্থায় সুলতানার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশে ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে। রাতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সুলতানার নিখোঁজ হওয়ার জিডিটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রূপান্তর করে আবুল হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে ওসি জানান। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজন পুলিশকে জানান, সুলতানা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল তার এক সহপাঠীর সঙ্গে। আবুল হোসেন সুলতানাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। দুপুরের দিকে আবুল তিনজন সঙ্গীকে নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠেন। সেখানে তাঁরা কাজ করার কথা বলে সুলতানাকে পানি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় আসতে বলে। সুলতানা পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে চারজন পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। সুলতানা ঘটনাটি সবাইকে বলে দেবে বলে জানালে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দেওয়া হয়।
সুলতানার বাবা তেরাব আলী পেশায় গৃহস্থ। তিনি জানান, কানাইঘাটের ছোটফৌজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত সুলতানা। তাঁর তিন মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে সুলতানা মেজো ছিল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল