কামরানের শেষ বিদায়ে আসেননি মন্ত্রী-এমপিরা

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

কামরানের শেষ বিদায়ে আসেননি মন্ত্রী-এমপিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে কামরানের খ্যাতি সিলেটের গণ্ডি পেরিয়ে। সিলেটের আওয়ামী রাজনীতিতে গ্রুপিং কোন্দল থাকলেও তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। নিজের কোনো রাজনৈতিক গ্রুপ ছিল না তার। তিনি নিজেই ছিলেন একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। যে কারণে সিলেটের সর্বজনশ্রদ্ধেয় ছিলেন কামরান।

১৯৭৩ সালে তরুণ বয়সে পৌর কাউন্সিলর হয়ে জনপ্রতিনিধির গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন। মানুষের ভালবাসার প্রতিদান দিতে গিয়ে মিশে গেছেন প্রতিটি হৃদয়ে। পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছেন জনতার কামরান।

পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন জনতার কামরান

সেই কামরান বিভিন্ন সময় সংসদ নির্বাচন থেকে স্থানীয় নির্বাচনে অনেক প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন। বর্তমান সংসদ সদস্যদের অনেকেও বিজয় ছিনিয়ে আনতে মাঠে ময়দানে তাকে উপস্থাপন করেছেন। প্রার্থীর পক্ষে কামরানের কাতর কণ্ঠে জাদুজালে বিগলিত হয়ে জনতা ভোট দিয়েছেন সেই প্রার্থীকেও। কিন্তু শেষ বিদায়ে কামরানের পাশে ছিলেন না সিলেটের কোনো মন্ত্রী-এমপি।

সোমবার (১৫ জুন) ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিলেটের গণমানুষের প্রিয় নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তার মরদেহ সিলেটে এনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের কথা ছিল। কিন্তু মরণব্যাধি করোনার ভয় উপেক্ষা করে শেষবারের মতো কামরানকে দেখতে ভীড় করেন ভক্ত-অনুরাগী, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সেদিন কামরানকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে উপস্থিত হন মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বার, কাউন্সিলরদের অনেকে। কিন্তু শেষ বেলায় সিলেটের ৬টি আসন এবং বিভাগের ১৯ আসনের কোনো মন্ত্রী-এমপিকে আসতে দেখা যায়নি সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের এই জনপ্রিয় নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের শেষ বিদায়ে।

জনতার নেতা হয়ে উঠেছিলেন কামরান

এ বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ করে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, সংসদ নির্বাচনে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বর্তমান অনেক মন্ত্রী-এমপির জন্য মাঠে কাজ করেছেন। কিন্তু সেসব মন্ত্রী-এমপিদের কেউ কামরানকে শেষবারের মতো দেখতে আসেননি।

এবিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বলেন, করোনাকালে বর্তমান পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। তাছাড়া মন্ত্রী-এমপিদের অনেকে বয়স্ক। তাই এ ধরণের পরিস্থিতিতে তারা বেরিয়ে আসাটা বিপজ্জনক।

তিনি বলেন, ‘কামরান ভাইয়ের অবস্থার অবনতি হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এ কে আব্দুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাকে এয়ারএ্যাম্বুলেন্সে সিএমএইচে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। মারা যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও তার ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাছাড়া যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের খোঁজ নিয়েছেন, সেখানে এমপিরা গৌণ মনে করছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল