কী ঘটেছিলে সেই দিন রাতে সিএনজি চালকের বর্ণনা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কী ঘটেছিলে সেই দিন রাতে সিএনজি চালকের বর্ণনা

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

কী ঘটেছিলে সেই দিন রাতে   সিএনজি চালকের বর্ণনা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সম্প্রতি সিলেট নগরীর বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিেশের নির্যাতনে মারা যাওয়া নগরীর আখালিয়ার যুবক রায়হান আহমদের (৩৪) সঙ্গে সেই দিন রাতে কী ঘটেছিল তা সম্পর্কে বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শী এক সিএনজি অটোরিকশা চালক।

ওই চালক ও তাঁর আরেক সঙ্গীর দুটি সিএনজি অটোরিকশাতেই সেই রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়ির দুটি পুলিশ টিম টহল দেয়। এর মধ্যে একটি অটোরিকশাতেই রায়হানকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই অটোরিকশা চালক ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‘ভয়েজ অব সিলেট’ নামে একটি ফেসবুক পেজে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, শনিবার দিবাগত (১২ অক্টোবর) রাতে সিলেট নগরীর কাষ্টঘর এলাকার একটি সুইপার কক্ষ থেকে রায়হানকে বের করে নিয়ে আসে পুলিশ।

এর আগে নগরীর মাশরাফিয়া রেস্টুরেন্টের সামনে অজ্ঞাত দুইজন লোক পুলিশকে এসে খবর দেয়, কাষ্টঘরের গলিতে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

সেই অটোরিকশা চালক জানান, পুলিশ গিয়ে একটি সুইপারের কক্ষ থেকে রায়হানকে ডেকে বের করে। তখন সেখানে কোনো ছিনতাই বা রায়হানকে গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটতে দেখেননি অটোরিকশা চালক। ওই গলি থেকে রায়হানকে বের করে দ্বিতীয় (ওই চালকের সঙ্গীর) অটোরিকশাযোগে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে পুলিশ। তখন সুস্থ শরীরেই ছিলেন রায়হান। এসময় রায়হান পুলিশের তর্কে লিপ্ত হন এবং বলেন- আমি কোনো ছিনতাইকারী বা অপরাধী নই।

রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়ার পর দুই অটোরিকশা চালক ফাঁড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে সকালে রায়হানকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই দুই চালকের মধ্যে একজনের অটোরিকশাতে করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।

অটোরিকশা চালক আরও জানান, হাসপাতালে নেয়ার পর রায়হানের অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়। এর আগে ফাঁড়ি থেকে রায়হানকে বের করার সময় তার হাটুর নিচে ও হাতের আঙ্গুলে আঘাতের চিহ্ন দেখেন ওই চালক। এসময় চালক দুই পুলিশ সদস্যকে বলতে শুনেন- ‘এমন নির্মমভাবে কেউ কাউকে মারে।

অটোরিকশা চালক বলেন, সেই রাতে এস.আই আকবর ফাঁড়িতেই ছিলেন এবং তার নির্দেশেই রায়হানকে মারধর করা হয়।

আকবর নিজের হাতেও নির্মমভাবে রায়হানকে নির্যাতন করেছেন বলে ওই অটোরিকশা চালক জানান।

উল্লেখ্য- গত রোববার পুলিশ জানায় রায়হান উদ্দিন আহমদ সিলেট নগরীর কাষ্টঘর এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন । পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে জানানো হয়।

কিন্তু রায়হানের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার হাতের নখও উপড়ানো ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ ওঠে রায়হান পুলিশের নির্যাতনে মারা যায়। পরে ওইদিন রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন ।

এই ঘটনায় বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ ৪জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল