কুলাউড়ায় ‘ভুল চিকিৎসার’ শিকার সেই নারী মারা গেলেন

প্রকাশিত: ২:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৯

কুলাউড়ায় ‘ভুল চিকিৎসার’ শিকার সেই নারী মারা গেলেন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মুসলিম এইড কমিউনিটি হসপিটালে সিজার হওয়া জেলি বেগম মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে মারা গেছেন। ১২ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর রোববার সকালে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। ওই সময় হাসপাতালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণ হয়। ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। তারা জানান, মুসলিম এইড কমিউনিটি হসপিটাল কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল বুঝতে পেরে সমঝোতার চেষ্টা করেন। কিন্তু রোগীকে সংকটাপন্ন রেখে সমঝোতা করেননি তারা। জেলি বেগম (২৫) কুলাউড়ার হিংগাজিয়া জুমাপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ এনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জেলির পরিবার। নিহতের স্বামী সাহাব উদ্দিন জানান, তার স্ত্রী জেলি বেগম নিউমোনিয়া ও জ্বরে ভোগছিলেন। তা নিয়ন্ত্রন করা হয়নি। এমনকি কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। এসব না করেই ৩০ জুন কুলাউড়ার মুসলিম এইড হসপিটালে সিজার করেন ডাক্তার রাজিয়া সুলতানা। অপারেশনের দুইদিন পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট নিয়ে আসেন। ৩ জুলাই তাকে সিলেটের মাউন্ড এডোরা হসপিটালে ভর্তি করার পর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ৯ জুলাই জেলিকে ওসমানী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে সেখানেও লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়। ফুসফুসে ইনফেকশনসহ কয়েকটি সমস্যার কারণ তার মৃত্যু হয় বলে ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউ সূত্রে জানা গেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৯ মাসের গর্ভবর্তী জেলি বেগমকে নিউমোনিয়া ও জ্বরের কারণে ২৪ জুন কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজারের মুসলিম এইড কমিউনিটি হসপিটালে নিয়ে যান তার স্বজনরা। ওইদিন তাকে ভর্তি দেওয়া হয়। পরদিন কিছু এন্টিবাইটিক ঐষধ দিয়ে তাকে ছাড়পত্র দেন হসপিটালের চিকিৎসক রাজিয়া সুলতানা। অবস্থার উন্নতি না হলে ৩০ জুন আবার ভর্তি করেন। ওইদিন তাকে সিজার করেন ডা. রাজিয়া। অপারেশনের আগে জেলিকে কোনো পরীক্ষা করা হয়নি বলে জানান স্বামী সাহাব উদ্দিন। তিনি জানান, সিজারে সন্তান জন্ম নেয়। সে ভালো আছে। কিন্তু সিজারের দুইদিন পর রোগীর অবস্থা খারাপ হলে তাকে সিলেটে রেফার করে ডা. রাজিয়া। মাউন্ট এডোরায় ভর্তির পর সংশ্লিষ্ট ডাক্তার জানিয়েছেন, চিকিৎসায় ভুল ছিল। ওইদিনই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে মুসলিম এইডের প্রশাসকি কর্মকর্তা বেলাল আহমেদ চৌধুরীসহ অন্যরা যোগাযোগ করেন। তারা সিলেটে এসে রোগীও দেখে যান। অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. রাজিয়া সুলতানার সাথে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, অভিযোগের পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি নিয়ে আমরা বসেছিলাম। সব কাগজপত্র দেখা হয়। এতে চিকিৎসায় ভুলের কোনো প্রমান মিলেনি। রোগীল জ্বর ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তা নিয়ন্ত্রন করে অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশনের দুইদিন পর ছাড়পত্র দেওয়ার দিন রোগীর সমস্যা দেখা দেয়। তখন আমরা সিলেট প্রেরণ করি।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল