স্কুলে গুলি চালিয়ে যেভাবে পালিয়েছিল ফ্লোরিডার খুনি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

স্কুলে গুলি চালিয়ে যেভাবে পালিয়েছিল ফ্লোরিডার খুনি

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮

স্কুলে গুলি চালিয়ে যেভাবে পালিয়েছিল ফ্লোরিডার খুনি

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে স্কুলে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার সবচেয়ে ভয়াবহমত ঘটনায় অভিযুক্ত নিকোলাস ক্রুজ (১৯) পুলিশকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ক্রুজের জবানবন্দির কথা প্রকাশ পুলিশ। ক্রুজ তাদেরকে জানিয়েছে, সে করিডোরে দাঁড়ানো ছাত্রদের গুলি করা শুরু করে স্কুলের মাঠে থাকা ছাত্রদের দিকে এগিয়ে যায়।

পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়, নিকলাস ক্রুজ একটি বড় কালো ব্যাগ ও কাঁধে ঝোলানোর ব্যাগে রাইফেলের গুলিভর্তি ম্যাগাজিন নিয়ে গিয়েছিল।

ক্রুজ উবারে ভাড়া করা একটি গাড়িতে ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডের মার্জরি স্টোনম্যান হাই স্কুলে গিয়ে পৌঁছয় দুপুর ২ টা ১৯ মিনিটে। স্কুলে পৌঁছেই সে তার সেমি-অটোমেটিক এআর-১৫ রাইফেল বের করে গুলি করা শুরু করে।

স্কুলের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার পাঁচটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকেও গুলি চালায় ক্রুজ। একসময় সিঁড়িতে রাইফেল, ম্যাগাজিন রাখার ভেস্ট, আর গুলি ফেলে দিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের ভিড়ে মিশে স্কুল থেকে বেরিয়ে যায় সে।

স্কুল থেকে বের হওয়ার পরে ক্রুজ ওয়ালমার্টের একটি দোকানে গিয়ে ঢুকে। সেখান থেকে সাবওয়ে কোম্পানির একটি ফস্টফুড শপে গিয়ে একটি পানীয় কেনে। তারপরে ম্যাকডোনাল্ডের একটি দোকানে যায় ক্রুজ।

একটি আবাসিক এলাকার রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পুলিশ ক্রুজকে গ্রেফতার করে ৩টা ৪১ মিনিটে।

পুলিশ কর্মকর্তা মাইকেল লিওনার্ড বলেন, ‘ওকে দেখতে একদম সাধারণ একটা স্কুলছাত্রের মত মনে হচ্ছিল। এক মুহূর্তের জন্য মনে প্রশ্ন জেগেছিল- এই ছেলেকে থামানোর জন্যই ঘুরছি নাকি আমরা?’

পুলিশ জানায় কোনো রকম প্রতিরোধ ছাড়াই পুলিশকে ধরা দেয় ক্রুজ।

বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, চরমপন্থি শ্বেতাঙ্গ দলের সঙ্গে ক্রুজের সম্পর্ক থাকতে পারে।

ক্রুজের প্রতিবেশীরা জানায়, গত বছর তার মা মারা যাওয়ার পর থেকেই তাকে মন মরা মনে হত।

আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য ক্রুজকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। তার সহপাঠীরা জানায়, সে মাঝেমধ্যেই হিংস্র হয়ে ওঠার হুমকি দিত।

সামাজিক মাধ্যমে ক্রুজের অনেকগুলো পোস্টে বন্দুকের প্রতি তার দারুণ মুগ্ধতা স্পষ্ট। সে বেশ কিছুদিন থেকেই বিভিন্ন পোস্টে জানাচ্ছিল, স্কুলে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যাই তার জীবনের লক্ষ্য।