কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা! ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে আকস্মিক বন্যা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা! ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে আকস্মিক বন্যা

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০১৬

কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা! ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে আকস্মিক বন্যা

sylhet fenchuganj-picশেখ কামরুল হাসান শাহান: টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তলিয়ে গেছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পূর্ববাজার ও বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের একাংশ। আকস্মিক এ বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। গতকাল বিকেলের দিকে বালাগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ফেঞ্চুগঞ্জের কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুশিয়ারা নদীতীরবর্তী ফেঞ্চুগঞ্জের পূর্ববাজার এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অন্তত শতাধিক দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে। বাজারের প্রধান সড়ক অন্তত ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ডুবে যাওয়ায় আশপাশের ইসলামপুর, পিঠাইটিকর, বাঘমার, ছত্তিশসহ কয়েকটি গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষকে উপজেলা সদরে আসার জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ১৩টি গ্রামের ২০ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৭৪ নং ফেঞ্চুগঞ্জ গেজ ষ্টেশন জানায়,অতিবৃষ্টি উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার। বন্যার পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার পিঠাইটিকর,গুচ্ছগ্রাম,বাঘমারা,গয়াসী,ভেলকোনা,সুড়িকান্দি,শাইলকান্দি,ছত্তিশ, সোনাপুর, উত্তর ইসলামপুর,মঈনপুর,ভরাউট,গুচ্ছগ্রাম। ফেঞ্চুগঞ্জ পূর্ববাজার,ইন্তাজ আলী সুপার মাকের্ট,সুপার মার্কেট আবাসিক এলাকা। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ফেঞ্চুগঞ্জ মধ্যবাজার সড়ক। বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে-ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার উপজেলা সড়ক,হাসপাতাল-ফেঞ্চুগঞ্জ রেলষ্টেশন সড়ক,পিটাইটির-বাঘমারা সড়ক। ইতিমধ্যে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর তালিকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সঞ্জয় পাল বলেন, আমাদের ইউনিয়নের বন্যার পানিতে যে সকল গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার তালিকা পি,আই,ও অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি। বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরী ভিত্তিতে সাহায্য করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাধঁন কান্তি সরকার বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যাকবলিত গ্রামগুলোর তালিকা পাওয়ার সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের বরাবরে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।