কৃষকের লাভ খাচ্ছে মিল মালিক ফলে চালের বাজারে অস্থিরতা: কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কৃষকের লাভ খাচ্ছে মিল মালিক ফলে চালের বাজারে অস্থিরতা: কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন

প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০

কৃষকের লাভ খাচ্ছে মিল মালিক ফলে চালের বাজারে অস্থিরতা: কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন

সিলেটের দিনকাল ডেস্ক:
কৃষকের ঘরে আমন ধান প্রায় ফুরিয়ে যাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়তে শুরু করেছে ধানের দাম, ফলে কৃষকের লাভ চলে যাচ্ছে মিল মালিকের ঘওে আর অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যুক্ত বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সমন্বয়ক মো. মহসিন ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, বরাবরের মতো এবারও ধান আবাদ করে কৃষকরা দাম না পেলেও এখন বেশি দামে চাল কিনে খেতে হচ্ছে তাদের। আর এর সুফল ভোগ করছে মিল মালিক ও মজুদদাররা। দেশের বিভিন্ন জেলায় মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের ধানের মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫০-৪০০ পর্যন্ত।

নেতৃত্রয় বলেন, ডিসেম্বর মাসে আমন ধান কর্তন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণ পরিশোধ ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কৃষকরা ধান বিক্রি শুরু করেন। ধান মাড়াই শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকরা সব ধান বাজারে বিক্রি করে দেন। আর তখন এই ধান কম দামে কিনতে শুরু করেন মজুদদার ও মিল মালিকরা। কিছু কিছু বড় কৃষকের ঘরে এখন ধান থাকলেও প্রান্তিক কৃষকের ঘরে নেই কোনো ধান।

আর কৃষকের ঘরে ধান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে বাড়তে শুরু করেছে আমন ধানের দাম। সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ কিনতে ঋণ করে আবাদ করতে হয়েছে। তাই ধান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে ধানের দাম না থাকলেও সেই ধান বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। এখন ধানের দাম বাড়ছে। কিন্তু ঘরে এখন কোনো ধান নেই। ফলে যে লাভ কৃষকরা পেত, সে লাভ এখন ভোগ করছে মিল মালিক ও মজুদদাররা।

তারা বলেন, এদিকে ধানের দাম বৃদ্ধির ফলে বাজারে বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে তিন থেকে চার টাকা। আর বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। বাজারে হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

নির্দিষ্ট আয় দিয়ে বাড়তি দামে চাল কিনে খেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। সরকারিভাবে আমন সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী খাদ্য বিভাগে চাল সরবরাহ করতে মিল মালিকরাও বাজারে ধান কেনার প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন। এ কারণে বাজারে ধানের দাম বেড়ে গেছে। বেশি দামে ধান কিনে চাল বানাতে তাদের খরচ পড়ছে বেশি। এসব কারণেই তাদের বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।নেতৃত্রয় অবিলম্বে সরকারের খাদ্য, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় চালের বাজারের অস্থিরতা পেয়াজেরমত নিয়ন্ত্রহীন হয়ে পড়তে পারে। যার ফলশ্রুতিতে জনগন পড়বে ভোগান্তিতে এবং সরকারকেও বিব্রকর অবস্থা পড়তে হতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল