কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সৈয়দ শামসুল হকের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সৈয়দ শামসুল হকের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

প্রকাশিত: ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৬

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সৈয়দ শামসুল হকের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

63-20-109২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬, বুধবার: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। সকাল সোয়া ১১টার দিকে বাংলা একাডেমি থেকে শহীদ মিনারে নেয়া হয় চিরবিদায় নেয়া সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে।

এরপর ১১টা ২৫মিনিটে কবির মরদেহে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা জানানোর পর সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ সর্বস্তরের জনগণ কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের জন্য একে একে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দুপুর ১টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কবির মরদেহ রাখা হবে।

এর আগে চ্যানেল আইয়ের কার্যালয়ে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তার প্রথম নামাযে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ওখান থেকে বাংলা একাডেমিতে নেয়া হয় সৈয়দ হকের মরদেহ।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেয়া হবে কবিকে। দুপুরে জোহরের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হবে কবির আরেকটি জানাজা।

এপর দাফনের জন্য সৈয়দ হকের মরদেহ কুড়িগ্রামে নেয়া হবে। সেখানে নিজের নামে বরাদ্দ করা জমিতে সমাহিত হবেন সব্যসাচী এই লেখক।

মঙ্গলবার বিকালে ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। সৈয়দ হক স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হকও কথাসাহিত্যিক। সৈয়দ হকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের সাহিত্য অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সব্যসাচী লেখকের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন। কবিতা, নাটক, গল্প, উপন্যাস, চলচ্চিত্রসহ সাহিত্যের সব শাখায় অসামান্য অবদান রাখা সৈয়দ হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

গুণী এই সাহিত্যিকের ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘নীল দংশন’, ‘মৃগয়া’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘আয়না বিবির পালা’সহ বহু পাঠকপ্রিয় বই রয়েছে। তার লেখা দুটি অমর নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ ও ‘নুরুল দীনের সারাজীবন’।

বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার বহু পুরস্কার পেয়েছেন সব্যসাচী এই লেখক।