কে হচ্ছেন হেফাজতের পরবর্তী আমির – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কে হচ্ছেন হেফাজতের পরবর্তী আমির

প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

কে হচ্ছেন হেফাজতের পরবর্তী আমির

ডেস্ক রিপোর্ট :::হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত‌্যুর পরপরই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে, কে হবেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আমির। কে আসছেন নতুন নেতৃত্বে। রাজধানী ঢাকা থেকে, না কি চট্টগ্রামেই থাকবে হেফাজতের মূল নেতৃত্ব, এই নিয়ে সংগঠনের ভেতর আলোচনা চলছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর হেফাজতের এক সিনিয়র নেতা শনিবার দুপুরে হাটহাজারি মাদ্রাসা থেকে বলেন, ‘সভাপতিদের মধ্য থেকে যে কেউ হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পরবর্তী সময়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।’জানা গেছে, হেফাজতের আমির আল্লাম শফীর মৃত‌্যুর পর সংগঠনের এক নম্বর সহ-সভাপতির ভারপ্রাপ্ত আমির হওয়ার কথা। বর্তমানে এক নম্বর সহ-সভাপতি হচ্ছেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বয়সেও সবার বড়। তাকে হেফাজতে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে আপাতত নেতৃত্বে দেখা যেতে পারে। যদি তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগ হন, তাহলে সহ-সভাপতিদের মধ্য থেকে যে কাউকেই ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। তবে, আল্লামা শফীর দাফনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে হেফাজতের নেতারা জরুরি বৈঠক করে ভারপ্রাপ্ত আমিরের বিষয়টি নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।হেফাজতের এক নেতা জানান, হেফাজতের বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ছাড়াও সহ-সভাপতি মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমিকে হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি বর্তমানে একইসঙ্গে ঢাকা মহানগর হেফাজতের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকাকেন্দ্রিক হেফাজতের সব কর্মসূচি তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে আসছে।এছাড়া, ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাসের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে, হেফাজত নেতাদের কোন্দল-গ্রুপিংয়ের কারণে ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে জরুরি কাউন্সিলও করতে সংগঠনটি। এক্ষেত্রে কাউন্সিলে সংগঠনটির বর্তমান মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী হেফাজতের নতুন আমির নির্বাচিত হতে পারেন বলে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন।এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে হাটহাজারি মাদ্রাসা থেকে বলেন, ‘আমিরের মৃত‌্যুর পর এই বিষয়ে কথা বলার মতো মানসিক অবস্থাও আমাদের কারও নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবার অভিমতের ভিত্তিতে বিষয়টি ফয়সালা করা হবে।’ জানা গেছে, আল্লামা শফীর মৃত্যুর আগে হাটহাজারী মাদ্রাসার কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রকাশ্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে হেফাজতে ইসলাম।সংগঠনটির দুই গ্রুপই নিজেদের শীর্ষ নেতাদের হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বে আশা করছেন। তাদের মধ্যে একগ্রুপ আল্লামা শফীর অনুগত ও তার ছেলে আনাস মাদানির নেতৃত্বে। এই গ্রুপে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মহিউদ্দিন রুহি প্রমুখ। অন্যদিকে, অন‌্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হেফাজতের বর্তমান মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী। মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, সাবেকমন্ত্রী মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মামুনুল হকসহ কওমি ঘরানার অধিকাংশ আলেম ওলামা ও হেফাজতের অধিকাংশ নেতাকর্মী রয়েছেন। সংগঠনটির দুই গ্রুপই চাইছেন তাদের শীর্ষ নেতারাই হেফাজতের নেতৃত্বে আসুক। তবে, নিয়ম অনুযায়ী হেফাজতের এক নম্বর সহ-সভাপতি ভারপ্রাপ্ত আমির হওয়ার কথা। তবে সহ-সভাপতিদের মধ্য থেকে ভারপ্রাপ্ত্ আমির নির্বাচনে বিবাদ কিংবা মতানৈক্য দেখা গেলে জরুরি ভিত্তিতে হেফাজতের কাউন্সিল ডাকা হতে পারে। কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন আমির নির্বাচন করা হতে পারে। এক্ষেত্রে সংগঠনটির বর্তমান মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীকেও হেফাজতের আমির হিসেবে দেখা যেতে পারে। বর্তমানে বিবাদমান হেফাজত নেতারা আপাতত তাদের আমিরকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান। আল্লামা শফীর জানাজা, দাফন ও কাফন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। নতুন আমির নির্বাচন প্রসঙ্গে একদিন আগে হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী সাংবাদিকদের জানান, আল্লামা শফীর মৃত্যুতে হেফাজতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাউন্সিলের মাধ্যমে হেফাজতের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে কওমি ঘরানার বৃহত্তম অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম গড়ে তুলেন হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী। কওমি ঘরানার সব রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক দলকে এক ব্যানারে নিয়ে আসতে সক্ষম হন তিনি। নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ১৩ দফা দাবি দিয়ে ২০১৩ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকা অবরোধ এবং রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে আলোচনায় আসেন আল্লামা শফী ও তার সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলে খবরের শিরোনাম হন। পরবর্তী সময়ে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কওমি সনদের স্বীকৃতি আদায় করেন তিনি। এজন্য ঢাকায় কওমি আলেম ওলামাদের এনে মহাসমাবেশ করে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শোকরিয়া আদায় করেন আল্লামা শফীসহ কওমি ঘরানার শীর্ষ আলেম ওলামারা।