কে হবেন বিশ্বনাথে প্রথaম পৌর প্রশাসক? – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কে হবেন বিশ্বনাথে প্রথaম পৌর প্রশাসক?

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

কে হবেন বিশ্বনাথে প্রথaম পৌর প্রশাসক?

ধনেজনে সিলেটের শীর্ষজন পদের একটি প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলা। উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিশ্বনাথকে পৌরসভায় উন্নীত করা। সিলেটের কয়েকটি উপজেলা দীর্ঘদিন আগে পৌরসভায় উন্নীত হলেও সিলেট শহরের নিকটবর্তী উপজেলা হয়েও এতকাল অবহেলিত ছিল বিশ্বনাথ। এতদিন শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে বন্দি ছিল বিশ্বনাথবাসীর সেই স্বপ্ন। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে পুরণ হলো উপজেলাবাসীর বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্ন। দেশের ৩৩০ তম পৌরসভা হিসেবে অনুমোদন পেলো বিশ্বনাথ।

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) সোমবার (২১ অক্টোবর) এ অনুমোদন দেয়। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ২১ মে বিশ্বনাথ পৌরসভা গঠনের লক্ষে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-২ শাখা থেকে বিশ্বনাথ পৌরসভা বাস্তবায়নের লক্ষে শহর হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ গেজেট রেজিস্টার নং ডি এ-১ প্রকাশিত বিশ্বনাথ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ২২টি মৌজা নিয়ে প্রকাশিত এ গেজেটে রয়েছে, বিশ্বনাথ ইউনিয়নের আহমেদাবাদ মৌজা, পূর্ব জানাইয়া মৌজা, বিদাইলসুপানি মৌজা, কানাইপুর মৌজা, মজলিস ভোগশাইল মৌজা, চান্দসিরকাপন মৌজা, মিরেরচর মৌজা, মশুলা মৌজা, সেনারগাঁও মৌজা, ধোপাখোলা মৌজা, তাজপুর মৌজা। উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের আলাপুর মৌজা, ধোপাখোলা মৌজা, দত্তা। অলংকারী ইউনিয়নের পূর্ব জানাইয়া, কামালপুর, ভাগমতপুর, অলংকারী। দৌলতপুর ইউনিয়নে দূযার্কাপন, চরচন্ডি। রামপাশা ইউনিয়নের পশ্চিম জানাইয়া, মশুল্লা।

জানা গেছে, বিশ্বনাথ পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবিতে ১৯৯৭ সালের প্রথম দিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আবদুস সামাদ আজাদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়। তৎকালীন সময়ে স্থানীয় রামসুন্দর হাইস্কুলের মাঠে এক জনসভায় তিনি বিশ্বনাথকে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভা ঘোষণা করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদকালীন সময়ে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

বিএনপির সরকারের আমলে সিলেট-২ আসেনর সাবেক এমপি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর প্রচেষ্ঠায় ২০০২ সালের ১৪ জুলাই মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব (পৌর) রুহুল আমীন সরকার এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ৮টি মৌজার উল্লেখ যোগ্য কিছু এলাকা নিয়ে বিশ্বনাথ পৌরসভার গেজেট পাশ করা হয়। তবে, বিগত ১৩ বছরের মধ্যে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ২০১৫ সালে আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়ার অনুরোধে পুনরায় খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। অবশেষে বিশ্বনাথকে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়।

এরফলে অন্যরকম আনন্দ- উল্লাস বয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। এরই মধ্যে এলাকায় পৌর প্রশাসক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বিএনপি কিংবা জাপার নেতাদের মাঝে পৌর প্রশাসক হওয়ার আগ্রহ তেমন না থাকলে ক্ষমতাশীন দল আ.লীগের তুমূল পর্যায়ে চলছে আলোচনা। কে হচ্ছেন দলীয় পৌর প্রশাসক। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আ.লীগ নেতারা তাদের পছন্দের নেতাকে পৌর প্রশাসক হিসেবে দেখতে চাই এমন স্লোগানে নিজ নিজ আইডিতে পোষ্ট অব্যাহত রেখেছেন। পৌর প্রশাসক হিসেবে দেখতে চাই লেখা বিলবোর্ড সাঁটানো হয়েছে এলাকায়। ইতিমধ্যে পৌরসভা অনুমোদন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক পাড়ায় এখনও চলছে কে হচ্ছে দলীয় প্রশাসক। দলের ভেতরে শুরু হয়েছে রীতিমতো মল্লযুদ্ধ। তবে এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছেনা দলীয় কেউ প্রশাসক হবেননা প্রশাসনিক কোনো কর্মকর্তা পৌর প্রশাসক হবেন। এরজন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকদিন। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগ থেকে পৌর প্রশাসক পদে ৬জনের নাম শুনা যাচ্ছে। তারা হলেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব পংকি খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও বিশ্বনাথ সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত বাবুল আখতারের স্ত্রী নেহারুন নেছা, উপজেলা প্রবীণ আ.লীগ নেতা ও বিশ্বনাথ পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব সুনু মিয়া ও আ.লীগ নেতা নোয়াব আলী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খাঁন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদকে ঘিরেই বর্তমানে সর্বমহলে আলোচনা। প্রশাসক নিয়োগের আগমূহুর্তে আরও কয়েকজন প্রশাসক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন এমটাই শুনা যাচ্ছে।

দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসক নিয়োগ হলে এ দুই জনের মধ্য থেকে যেকোনো একজনই হতে পারেন এমন গুঞ্জন এলাকার রয়েছে। এই পদটিও তাদের কাছে স্বপ্ন। ফলে কেউ কাউকে ছাড় নারাজ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খাঁনকে নিয়েই বিশ্বনাথে জল্পনা বেশি। জনপ্রতিনিধি না হলেও তাঁকে ঘিরে আবর্তিত হয় বিশ্বনাথের রাজনীতি। তবে আওয়ামী লীগের একাংশ তাঁর ঘোর বিরোধী। তারা কখনোই পংকি খানকে মেনে নিতে পারেননি।

এ কারণে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ধারায় বিভক্ত। এব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন, বিশ্বনাথের প্রথম পৌরসভা। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।

বিশ্বনাথবাসীর পক্ষ থেকে দাবি, যদি দলীয় ভাবে আওয়ামী লীগের কাউকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হলে, তাতে আমাদের দাবি যাতে দলে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত কাউকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়, যাতে বিশ্বনাথের মানুষ তারা কাঙ্খিত পৌরসভার সুফল ভোগ করতে পারে।

তিনি বলেন, দলীয়ভাবে প্রশাসক নিয়োগ হলে বর্তমানে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে, তারা বিভিন্ন দল থেকে সুবিধা নেয়ার জন্য ক্ষমতাশীন দলে যায়। যাতে কোনো সুবিধাভোগী-অনুপ্রবেশকারী পৌর প্রশাসক না হয়, সে দাবি তৃণমুল আ.লীগের। দলের মধ্যে কাউকে প্রশাসক করা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে প্রশাসক নিয়োগ দিবেন বলে আশাবাদি।

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি