কোভিড-১৯: উপসর্গ নিয়ে ৯ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কোভিড-১৯: উপসর্গ নিয়ে ৯ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২০

কোভিড-১৯: উপসর্গ নিয়ে ৯ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন স্থানে দেড় বছরের শিশুসহ কোভিড-১৯ এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালে দুই, সিলেটে এক, টাঙ্গাইলে এক, ফরিদপুরে এক, রাজশাহীতে এক, গোপালগঞ্জে এক, কিশোরগঞ্জে এক, বরগুনায় এক ও লক্ষ্মীপুরে একজন মারা গেছেন।

সিলেট

সিলেটে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কানাইঘাটের বায়মপুর গ্রামের এক ব্যক্তি (৩৫) মারা গেছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে তিনি মারা যান। হাসপাতালের আরএমও ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানান, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ওই ব্যক্তির শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল।

রাজশাহী

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলায়। নাম মনির গাজী (১৯)।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে মনির গাজীকে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রামেক হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মনির গাজীর বাবা জানান, এক সপ্তাহ আগে মনিরের শরীরে হাম দেখা দেয়। এরপর জ্বর আসে। করোনার কোনও উপসর্গ ছিল না। মনির মাধনগর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ত।

বরিশাল

বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যু হয় পিরোজপুরের কাউখালীর বিয়ারঝুড়ি এলাকার ওই বৃদ্ধের। জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে গত ১৫ এপ্রিল করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

একই দিন নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগান এলাকায় নিজ বাড়িতে করোনার উপসর্গ নিয়ে দেড় বছরের একটি শিশু মারা যায়। মৃত্যুর পর তার মরদেহ দাফনে বাধা দেন প্রতিবেশিরা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে শিশুটির মরদেহ দাফন করা হয়।

শিশুটির বাবা সবুজ হাওলাদার জানান, তার দেড় বছর বয়সী ছোট ছেলে শাহাদাত কয়েক দিন ধরে জ্বর সর্দি ও কাশিতে ভুগছিল। স্থানীয় এক চিকিৎসকের পরমর্শে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

শিশুটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিল কি-না তা নিশ্চিত হতে তার শরীরের নমুনা সংগ্রহ করেছে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি দল।

এ নিয়ে ৩০ ঘণ্টার ব্যবধানে বরিশালে ৪ জনের মৃত্যু হলো। তাদের মধ্যে ২ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ এসেছে।

ফরিদপুর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ভাজনকান্দা এলাকায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) চঞ্চল মুন্সি নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ৮-১০ দিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও গলাব্যথায় ভুগছিলেন। তার এবং তার স্ত্রীর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও জেতি প্রু।

টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ছয় সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী রক্তক্ষরণ নিয়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) হাসপাতালে ভর্তি হন। রাতেই তার অস্ত্রোপচার করা হয়। শনিবার (১৮ এপ্রিল) মারা যান তিনি।

তবে তার স্বামীর অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, গৃহবধূকে ভর্তির পর সার্জারি করা হয়েছিল। করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাকে আইসোলেশনে নেয়া হয়। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ

কাশিতে আক্রান্ত হয়ে বাদল মণ্ডল (৫৫) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর গ্রামে।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যক্ষায় ভুগছিলেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।

লক্ষ্মীপুর

সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জে সর্দি ও জ্বর নিয়ে মারা গেছেন ৫৩ বছর বয়সী ফাতেমা বেগম নামের এক নারী। তিনি সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুর রব ছৈয়ালের স্ত্রী। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন আবদুল গফফার।

বরগুনা

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ফুলতলা গ্রামের এক বৃদ্ধের (৭২) মৃত্যু হয়েছে।

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তার মৃত্যু হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং। শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ

কটিয়াদীতে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নখলা গ্রামে মারা যান তিনি।

জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বড় হাওর এলাকায় নিজের জমিতে ধান কাটতে যান তিনি। পরে শরীরে জ্বর অনুভব করলে বাড়ি চলে আসেন। সন্ধ্যায় গ্রামের ডাক্তারের কাছ থেকে ওষুধ খান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ফের ধান কাটতে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাফি উদ্দিন শাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।