কোম্পানীগঞ্জে প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ পাথর শ্রমিকরা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কোম্পানীগঞ্জে প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ পাথর শ্রমিকরা

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭

কোম্পানীগঞ্জে প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ পাথর শ্রমিকরা

অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা যান্ত্রিক মেশিন ভাংচুরের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জে প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ভোলাগঞ্জ গুচ্ছ গ্রামের হাজারো হাজারো শ্রমিক পরিবার। তারা দাবি করেছেন- যারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানে সবসময় সমর্থন রয়েছে তাদের। কিন্তু অভিযানের নামে শতাধিক সশস্ত্র লোক নিয়ে হঠাৎ করে হামলার ঘটনায় তারা হতবাক হয়েছেন। তারা শুধু মেশিনই যান্ত্রিক মেশিনই ভাংচুর করেনি নিরীহ শ্রমিকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেন- একটি মহল প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে নিরীহ শ্রমিকদের বাড়িঘরে নিয়ে আসে। এরপর প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ওই মহল বাড়িতে হামলা চালায়।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ গুচ্ছগ্রাম। ওই গ্রামে পাথর শ্রমিকদের বসবাস বেশি। শ্রমিকদের নামে প্রভাবশালীরা ওই গ্রামের পাশ থেকে পাথর উত্তোলন করছিলো। নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন- ৩০শে আগষ্ট সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে হঠাৎ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ধলাই নদীতে অভিযান চালানো হয়। নদীতে অভিযানের সময় একদল লোক লাঠিসোটা নিয়ে গুচ্ছগ্রামে শ্রমিকদের বাড়িঘরে হামলা করে। তারা পানি সেচার যান্ত্রিক মেশিন ভাংচুর ছাড়াও শ্রমিকদের বাড়িঘরে হামলা করে। এ ঘটনায় শ্রমিকরা তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ জানান। প্রথমে তারা সন্ত্রাসী হামলা মনে করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেন। পরে ইউএনও এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
এদিকে- এ ঘটনার পর স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হামলাকারী সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে নিরীহ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। আর জেলা প্রশাসন থেকে এ সংক্রান্ত একটি পত্র পুলিশ প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা জানান- উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন এক পত্রে শ্রমিকদের পাথরখেকো হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি ব্যক্তি আক্রোশে কেফায়েত ও রাশাকে পুরো ঘটনার জন্য দোষী করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। স্থানীয় শ্রমিক আনছার উদ্দিন জিলানী বলেন- ইউএনও’র সাথে বহিরাগত আসা কিছু লোক মেশিন ভাঙ্গা শুরু করলে পাথর শ্রমিকদের ঘর-দরজা ভাংচুর করে। এমনকি চায়ের দোকানও ভাংচুর করা হয়। ঘর-দরজা ভাংচুর করায় তাৎক্ষনিকভাবে উত্তেজিত হয়ে যায় শতশত নারী-পুরুষ পাথর শ্রমিক। এখন পাল্টা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার ঘটনা মর্মান্তিক বলে জানান তিনি।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল বাছির বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন ধলাই নদীতে অভিযান পরিচালনা করে তা আমরা জানি। তবে গ্রামের ভিতরে বাড়িতে অভিযান এই প্রথম শোনলাম। বাড়িতে রাখা বন্ধ মেশিন গুলো কেনো ভাঙ্গা হলো তা আমার বোধগম্য নয়। পাথর শ্রমিকদের ঘর-দরজাও ভাংচুর হয়েছে বলে শুনেছি।’ বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। তিনি শ্রমিকদের শান্ত থাকারও আহবান জানিয়েছেন।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল