কোরআন মুমিনদের গাইডলাইন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কোরআন মুমিনদের গাইডলাইন

প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০২০

কোরআন মুমিনদের গাইডলাইন

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

কোরআন হলো আল্লাহ-প্রদত্ত জীবনবিধান, ইসলামের গাইডলাইন। মুমিনরা পবিত্র এ গ্রন্থের নির্দেশ মানতে বাধ্য। জীবনের সব ক্ষেত্রে কোরআনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুধু নয়, এ গ্রন্থের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সবকিছু পরিত্যাগ করাও মুমিনের কর্তব্য। কোরআন পৃথিবীর সবচেয়ে পঠিত গ্রন্থ। যে কোনো সময় পৃথিবীর লাখ লাখ মানুষ এ গ্রন্থ পাঠ করে। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী গ্রন্থ হিসেবেও কোরআনের পরিচিতি সুবিদিত। এটি এমন একটি গ্রন্থ যা লাখ লাখ মানুষের মুখস্থ। যে কৃতিত্ব অন্য কোনো গ্রন্থের নেই। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর হুকুমত কায়েম করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। মানুষ যাতে তাঁর নির্দেশিত পথে সঠিকভাবে চলতে পারে তা নিশ্চিত করতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে। এ মহাগ্রন্থের অন্য নাম ফুরকান। হক ও বাতিলের মধ্যে এ ঐশীগ্রন্থ যেহেতু পার্থক্য নির্ণয় করে তাই একে ফুরকান হিসেবে অভিহিত করা হয়। আল্লাহ মানুষের জন্য কোরআন নাজিল করেছেন সত্য ও সুন্দর পথে চলার জন্য। মানুষের কর্তব্য এ গ্রন্থকে সঠিকভাবে অনুসরণ। কোরআন যে সত্য পথের সন্ধান দিয়েছে তাকে আত্মিকভাবে আঁকড়ে ধরা এবং যে পথ প্রত্যাখ্যান করেছে তা বর্জন। কোরআন নাজিল হয়েছে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ পয়গাম্বর হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর। রসুলকে বলা হয় জীবন্ত কোরআন।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করেছেন, যে পথে চলেছেন তা অনুসরণ করলে কোরআনের নির্দেশ সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব। কোরআন আল্লাহ-প্রদত্ত কিতাব। এর প্রতিটি শব্দ তাঁর। কোরআন পড়ার সময় এবং এর প্রতিটি বক্তব্য অনুধাবনের সময় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা লালন করতে হবে। আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির একমাত্র পথ যে কোরআন নির্দেশিত পথে চলা তা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। কোরআন মানুষের জাগতিক ও পারলৌকিক জ্ঞানের আধার। তাই কোরআন পাঠ ও অনুধাবন বান্দার একান্ত কর্তব্য। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি যে কোরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয়।’ বুখারি। কোরআন পড়তে হবে আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশায় এবং একাগ্রচিত্তে। কেউ কোরআন পড়লে তা গভীর মনোযোগের সঙ্গে শুনতে হবে। কোরআন পাঠের সময় অন্যদের উচিত এ মহাগ্রন্থের মর্যাদা রক্ষায় যথাসম্ভব নীরব থাকা। সুরা আনফালের ২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন তো কেবল তারাই যাদের সামনে আল্লাহর কথা আলোচিত হলে তাদের হৃদয়ে কাঁপন শুরু হয়। আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর কোনো আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ইমান বৃদ্ধি পায়।’ কোরআনের নিরিখে জীবন গড়া প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একাগ্রচিত্তে কোরআন তিলাওয়াত এবং এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের তৌফিক দান করুন।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন