কোহলিদের একাই হারিয়ে দিলেন মুম্বাইয়ের সূর্যকুমার – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

কোহলিদের একাই হারিয়ে দিলেন মুম্বাইয়ের সূর্যকুমার

প্রকাশিত: ১২:২১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

কোহলিদের একাই হারিয়ে দিলেন মুম্বাইয়ের সূর্যকুমার

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার রাতে আবুধাবির শেখ জায়েদ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে জিতেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।

কোহলির রয়াল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজের অবস্থান অটুট রাখল মুম্বাই।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুট যে ঝড়ো গতিতে করেছিল, তাতে মনে হয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে ২০০ রানের বেশি টার্গেট ছুড়ে দিতে পারবে রয়াল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

কিন্তু মুম্বাইয়ের বোলাররা ব্যাঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানদের লাগাম টেনে ধরে সেই লক্ষ্যকে ১৬৫ রানে থামিয়ে দেয়।

বুধবার রাতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুম্বাইয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক কায়রন পোলার্ড।

ব্যাট করতে নেমে জস ফিলিপ এবং দেবদূত পাড্ডিকাল ৭.৫ ওভারেই ৭১ রানের জুটি গড়েন। চমৎকার খেলছিলেন এই দুই ওপেনার। কিন্তু তাদের জুটিতে কুঠারাঘাত করেন রাহুল চাহার। ২৪ বলে ৩৩ রান করে চাহারের বলে আউট হন ফিলিপ।

ওপেনিং জুটি ভাঙাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ল আরসিবির ।

একপাশে পাড্ডিকাল দারুণ ব্যাটিং করে গেলেও অন্য পাশে আশা যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন ব্যাঙ্গালুরুর ব্যাটসম্যানরা।

মাত্র ৯ রান করে পেসার জসপ্রিত বুমরার বলে তিওয়ারির হাতে ক্যাচ তুলে দেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ১২ বলে ১৫ রান করে আউট হন এবি ডি ভিলিয়ার্সও। প্রোটিয়া তারকাকে ফেরান অধিনায়ক পোলার্ড। দলের সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য এই দুই ব্যাটসম্যানের এতো কম রানে বিদায়ে রানের গতি শ্লথ হয় পড়ে আরসিবির।

এরপর ফের ব্যাঙ্গালুরু শিবিরে আঘাত হানেন বুমরা। শিভাম দুবেকে মাত্র ২ রানে ফেরান তিনি। ক্রিস মরিসকে ৪ রানের বেশি করতে দেননি অসি গতি তারকা ট্রেন্ট বোল্ট।

এরপর গুরকিরাত সিং জুটি গড়েন ওপেনিংয়ে নামা পাড্ডিকালের সঙ্গে। দলের একমাত্র সফল ব্যাটসম্যান পাড্ডিকাল ৭৪ রান করে আউট হন সেই বুমরার বলে। ৪৫ বলে গড়া তার এই ৭৪ রানের ইনিংসে ছিল ১২টি চারের মার ও একটিমাত্র ছক্কা।

শেষ দিকে গুরকিরাত অপরাজিত ১৪ রান ও ওয়াশিংটন সুন্দরের অপরাজিত ১০ রান যোগ করলে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান জমা করে ব্যাঙ্গালুরু।

মুম্বাইয়ের সবচেয়ে সফল বোলার জসপ্রিত বুমরা। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া ট্রেন্ট বোল্ট, রাহুল চাহার এবং কায়রন পোলার্ড ১টি করে উইকেট নেন।

জবাবে ১৬৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আরসিবির সেরা বোলার মোহাম্মদ সিরাজের কাছে কুপকাত হন কুইন্টেন ডি কক। তিনি করেন ১৯ বলে ১৮ রান।

যুজবেন্দ্র সিং চাহালের বলে ১৯ বলে ২৫ রান করে আউট হন ইশান কিষান। এরপর ফের আঘাত হানেন সিরাজ। সৌরভ তিওয়ারিকে মাত্র ৫ রানে ফেরান তিনি। এদিকে একপ্রান্ত ধরে রেখে ব্যাঙ্গালুরুর বোলারদের তুলোধুনো করতে থাকেন সূর্যকুমার যাদব।

অন্যপান্তের উইকেটগুলো বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ক্রুনাল পান্ডিয়া ও হার্দিক পান্ডিয়া যথাক্রমে ১০ ও ১৭ রানের ছোট দুটি ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন।

তবে অন্যপ্রান্তে দলের হাল ধরে থাকা সূর্যকুমার যাদব শেষ অবধি টেনে নিয়ে যান খেলাকে। ১৬তম ওভারের প্রথম বল বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ২৯ বলে ৫০ রান করেন।

হার্দিক পান্ডিয়া আউট হলে অধিনায়ক পোলার্ড প্রথম বল মোকাবিলায় বাউন্ডারি হাঁকান। এ সময় জয় থেকে মাত্র ৩ রান দূরে ছিল মুম্বাই। দলের জয় সূচক রান আসে সেই সূর্যকুমার যাদবের ব্যাট থেকেই।

১৯তম ওভারের প্রথম বলেই মোহাম্মদ সিরাজকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৪৫ বলে ১২ চার ও এক ছক্কার মারে
৭৪ রানে অপরাজিত থেকে দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন সূর্যকুমার।

ফলে ৫ বল বাকি থাকলেই ৫ উইকেটে রয়াল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুকে হারাল।

এই জয়ে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রাখল মুম্বাই। ১২ ম্যাচ খেলে ৮ জয় ও ৪ পরাজয় নিয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরেই রয়ে গেছে রোহিত শর্মার মুম্বাই।

এই হারে পয়েন্ট না পেলেও টেবিলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আগের অবস্থানেই আছে কোহলির ব্যাঙ্গালুরু।