ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজন ঐক্যবন্ধ প্রচেষ্টা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজন ঐক্যবন্ধ প্রচেষ্টা

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০

ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজন ঐক্যবন্ধ প্রচেষ্টা

পরিবেশ দূষণমুক্ত হলে বাঁচবে আমাদের সমাজ। আর তার জন্য প্রয়োজন ক্ষতিকার ইটভাটাসহ সকল পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধের। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন ঐক্যবন্ধ প্রচেষ্টা। পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সকল ইটভাটা বন্ধ করে দেবে সরকার। ভাটায় পোড়ানো ইটগুলো পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তিনি বলেন, ইটভাটাগুলো দিন দিন নষ্ট করছে ফসলি জমি, ব্যাপক ক্ষতি করছে পরিবেশের। তাই এখন থেকে সবাইকে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহারের চেষ্টা করতে হবে।

সিলেটের হরিপুরের বাঘেরখালে গত শনিবার দুপুরে ‘পরিবেশবান্ধব ব্লক (ইকোইট) ইট ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই স্থানে ‘সাধ্যের মাধ্যে স্বপ্নের বাড়ি’ নামক আরেকটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী। প্রকল্প দু’টির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশবান্ধব ব্লক (ইকোইট) ইট ইন্ডাস্ট্রি’র ফাউন্ডার এবং সিইও মিটু তালুকদার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ.কে.এম রফিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ইসরাত জাহান পান্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. মাহবুবুল আলম, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্মসম্পাদক বিজিত চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক এ্যাড. রণজিৎ সরকার, ৬ নং ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী, ও পরিবেশবান্ধব ব্লক (ইকোইট) ইট ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালক রজত কান্তি গুপ্ত। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র থেকে ক্বোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন বাঘেরখাল মাদরাসার ছাত্র আবুদর রহিম।

পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, সরকারি আইনকে মেনে নিয়ে এবং পরিবেশ দূষণ যাতে না সেইসব নিয়ম মেনে ইটভাটা পরিচালনা করতে হবে। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং সনাতন পদ্ধতির ইট ভাটাকে আধুনিক করতে হবে। ইটভাটা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং শিশু, গর্ভবতী মহিলা দিয়ে কাজ করানো চলবে না। পরিবেশ দূষণ করছে এমন কোন ইটভাটা চালাতে পারবে না। উচ্চ আদালতে যে রায় দিয়েছে সেটাকে সম্মান দিয়ে আমাদের সবাইকে মেনে চলতে হবে। ইতিমধ্যে পরিবেশ দুষণকারী ইটভাটাগুলো উচ্ছেদসহ জরিমানা করা হয়েছে। তাই সবাইকে সাবধান করে দিচ্ছি পরিবেশ দুষণকারী কোন ইটভাটাকে ছাড় দেয়া হবে না। এসময় পরিবেশ দুষণে সকল ইটভাটা মালিকদের সচেতন করেন তিনি।

পরিবেশ দূষণের ফলে মানুষ, জীবজন্তু ও বাস্তুসংস্থানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে- এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা রকম জটিল রোগ-ব্যাধিতে। জীবজন্তুর বাসস্থান বিনষ্ট হচ্ছে। খাদ্য শৃঙ্খল ধ্বংস হচ্ছে। অনেক প্রাণি প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে হচ্ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হিমবাহ গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। উপক‚লীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। কৃষি উৎপাদন হরাস পাচ্ছে। ঝড়, জলোচ্ছ্বাসও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসময়ে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে বিলও হাওড় অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট হচ্ছে। নদী ভাঙ্গনের ফলে অনেক ফসলী জমি ও জনপদ ধ্বংস হচ্ছে। চিরপরিচিত বাড়ি-ঘর হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতি বছর শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে, যা স্বাধীনতার সোনালী স্বপ্ন বাস্তবায়নের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং আমাদের সংবিধান ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনেরও পরিপন্থি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল