ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি দুদকের চোখে পড়ে না – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি দুদকের চোখে পড়ে না

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৮

ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি দুদকের চোখে পড়ে না

ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি দেখলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে রাখে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দুদক এখন বিরোধী দল দমনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে তারা আবারও প্রমাণ করল তারা সরকারের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার। বাংলাদেশ ব্যাংক লুট হলো, সরকারী ব্যাংক লুট হয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা  ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলো, অথচ দুদক এক্ষেত্রে উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে রেখেছে। মামলা করা তো দুরে থাক এদের বিরুদ্ধে একটা শব্দও মুখ থেকে বের হয় না।

শুক্রবার (১১৬ মার্চ) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যন্ত খেয়ে ফেলা হয়েছে। আজও পত্রিকার হেড লাইন রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ২০ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে খেলাপি ঋণ। এর উল্লম্ফন গতির লাগাম কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। প্রকৃত টাকার অংক আরও অনেক বেশি। এই খেলাপি ঋণের টাকা সব ক্ষমতাসীনদের পকেটে ঢুকেছে। লুট করে শেয়ার বাজার শেষ করে দেয়া হয়েছে।

লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে দুদক ব্যবস্থা নিতে পারে এমন দাবি করে রিজভী বলেন, কারণ তারা সরকারি দলের লোকদের আত্মীয়স্বজন, সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদেরও আত্মীয়স্বজন। এই লুটপাটের বিরুদ্ধে যাতে কোন আওয়াজ না ওঠে সেজন্য গণতন্ত্রকে আইসিইউ-তে পাঠিয়ে গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করা হয়েছে এবং সোচ্চার বিরোধী দলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সরকারের অনাচারের বিরুদ্ধে জাতিকে নির্বাক করার জন্যই  সকল সময়ের গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠার অসীম সাহসী বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করা হয়েছে। অন্তহীন ক্ষমতালিপ্সার কারণে প্রধানমন্ত্রী হিতাহিত বিবেচনাহীন, তিনি যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। আর তাঁর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে প্রস্তুত থাকে দুদক এর মতো দপ্তরগুলো। দুদক প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা মেটাতে বিএনপি-কে নিজ দেশেই পরাধীনতার সৃদৃঢ় বন্ধনে বন্দী করতে বেপরোয়াভাবে কাজ করছে।

এসময় তিনি বলেন, ‘ব্যথিত-বঞ্চিত ও অপমানিত জনগণ এই সরকারের অন্যায় উৎপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধের সকল প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, যেভাবে নিম্ম আদালতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেখানে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা খুবই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় সেটিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে সরকারি চক্রান্ত লক্ষ্য করছে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন,নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল