ক্ষমা চেয়ে লাল ব্যাজ ধারণ করুন: বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ক্ষমা চেয়ে লাল ব্যাজ ধারণ করুন: বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০২০

ক্ষমা চেয়ে লাল ব্যাজ ধারণ করুন: বিএনপিকে তথ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক ::
জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভায় অতিথিরা।
সীমান্ত হত্যার কথা বলে কালো ব্যাজ ধারণ পরিহার করে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে লাল ব্যাজ ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো যে, আপনারা যে মানুষকে পেট্রোল বোমা মেরে, পুড়িয়ে হত্যা করেছেন আর আপনাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সাহেব নির্বিচারে সৈনিক হত্যা করেছেন, সেজন্য জনগণের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে লাল ব্যাজ ধারণ করবেন। কারণ আপনারা যেভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন, রাজনৈতিক কারণে এভাবে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা সমসাময়িক পৃথিবীতে কোথাও ঘটেনি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমসাময়িক প্রসঙ্গে তিনি একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সীমান্ত হত্যা বন্ধের নামে কালো ব্যাজ ধারণ করার কথা বলছে। বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন সীমান্ত হত্যা কী পরিমাণ ছিল আর এখন কোন পর্যায়ে আছে, সেই পরিসংখ্যানটা একটু খতিয়ে দেখার জন্য। তাদের আমল থেকে সীমান্ত হত্যা এখন অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে, কমে এসেছে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে ও জোটের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র অরুণ সরকার রানা সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নাহিম রাজ্জাক এমপি, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার প্রয়াত দুই নেতার স্মৃতিচারণ করেন এবং আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে সাংবাদিক সমীরণ রায় প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন।

এই সীমান্ত হত্যা যাতে একেবারেই শূন্যের কোটায় নেমে আসে সেজন্য আমাদের সরকার চেষ্টা করছে এবং আগামীকাল দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানা তথ্যমন্ত্রী।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যে দল মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, আর সীমান্ত হত্যার কথা বলে কালোব্যাজ ধারণ করে, এর পেছনে একটি দুরভিসন্ধি আছে, এ নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী এসময় বিএনপি নেতা মেজর হাফিজের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান জনসম্মুখে বললেন, বিএনপিতে জেলা পর্যায়ে কমিটি করার সময় কমিটি বাণিজ্য হচ্ছে। যারা দলের কমিটি করার সময় বাণিজ্য করে, তারা যদি দেশের দায়িত্ব পায়, তাহলে দেশটাই তো তারা বাণিজ্যের জন্য বিক্রি করে দিতে পারে। এদের হাতে দলও নিরাপদ নয়, দেশও নিরাপদ নয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ‘সরকারের দুঃশাসনের বিষবাষ্প ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে’ -এর জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা ক্ষমতায় থাকতে ইংরেজদের কুঠিবাড়ির নীলকরের মতো টোল আদায়ের জন্য হাওয়া ভবন প্রতিষ্ঠা করে সমান্তরাল সরকার চালিয়েছেন। আর খোয়াব ভবন করা হয়েছিল আমোদ-ফুর্তি করার জন্য। আপনাদের সময় ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা হয়েছে, সারা দেশে ৫০০ জায়গায় একযোগে বোমা হামলা হয়েছে, দেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। আপনারা দুর্নীতি আর দুঃশাসনের মাধ্যমে দেশটাকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই কথাটা একটু চিন্তা করুন। মানুষের কাছে নিজেদেরকে আর হাস্যকর করবেন না।

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত দুই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানা তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাক শুধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তা নয়, ’৭৫ এর পরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তার অবদান আওয়ামী লীগের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। একইসাথে আমাদের শ্রদ্ধাভাজন কর্মীবান্ধব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের গণমানুষের নেতা এবং চট্টগ্রামের নন্দিত মেয়র। তারা অনুকরণীয় নেতৃত্বের অসামান্য উদাহরণ।’
একে এম এনামুল হক শামীম বলেন, খালেদা জিয়া আর বিএনপিকে বিশ্বাস করে না এদেশের মানুষ। কারণ, ক্ষমতায় থাকলে এরা হাওয়া ভবন করে বিদেশে টাকা পাচার করে আর ক্ষমতার বাইরে থাকলে মানুষ পোড়ায়। এরা একাত্তরের প্রেতাত্মাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এই সকল অপশক্তিকে সমূলে উৎপাটন করতে হব।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, বিভিন্ন শক্তি নানাভাবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সবাইকে এ সকল বিষয়ে সোচ্চার থাকতে হবে।

নাহিম রাজ্জাক বলেন, সকল ষড়যন্ত্রকে হটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ নানা বিষয়ে তার সক্ষমতা অর্জন করেছে। পদ্মা সেতু তার প্রমাণ। অথচ সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশকে বারবার পিছিয়ে দিতে চায়। এদের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, অনেক কিছু আমরা ভুলে যাই। ভুলে যাই বলে যার যা প্রাপ্য সেটির সঠিক সময়ে সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যে আয়োজন করেছে সেজন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই এজন্য যে তারা জননেতা আব্দুর রাজ্জাক এবং জননেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মরণে স্মরণসভার আয়োজন করেছে। এটি একটি শুভ লক্ষণ এ কারণেই যে যেই দুজন মানুষের জন্য আজকের এই অনুষ্ঠান তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক মানুষ। দুজনেই দারুণভাবে সংগঠক। দুজনেই গণমানুষের নেতা হয়ে ওঠার জন্য একদম তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করেছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি আরও বলেন, আমরা আব্দুর রাজ্জাক এর কথা এজন্য ভুলতে পারি না, তার মত সংগঠক হয়তো অনেকেই আছেন; কিন্তু তিনি ছিলেন অন্যরকম। সংগঠক হিসেবে গণমানুষের নেতা হয়ে ওঠার জন্য কত সাধারণ জীবনযাপন করা যায় কত চমৎকারভাবে মানুষের সঙ্গে সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা যায় এটি রাজ্জাক ভাইয়ের কাছ থেকে শেখা।

তিনি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করেছেন। হল সংসদ থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে ছাত্রলীগের তিনি দুই দফায় সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছিষট্টির ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সবকিছুর সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। সত্তরের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে, তিয়াত্তরের নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেছেন।

তিনি বলেন, শ্রদ্ধা জানাই এ বি এম মহিউদ্দিন এর প্রতি। যিনি শুধু চট্টগ্রামের নয় জাতীয় নেতা হয়ে উঠেছিলেন। মানুষের মধ্যে কী পরিমাণ ভালোবাসা থাকলে গণমানুষের নেতা হওয়া যায় সেটি মহিউদ্দিন ভাই দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এমন দুজন নেতার খুব দরকার ছিল। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সারা বাংলাদেশে আরো বেশি প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারতেন।

বলরাম পোদ্দার বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আজ সাম্প্রদায়িক অপশক্তির আঘাত এসেছে। এই একই চক্র পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিল ১৯৭১ সালে। এদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।