ক্ষোভ দমনের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন খুন,ছিনতাই মামলার আসামীরাও! অসন্তোষ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ক্ষোভ দমনের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন খুন,ছিনতাই মামলার আসামীরাও! অসন্তোষ

প্রকাশিত: ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৬

ক্ষোভ দমনের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন খুন,ছিনতাই মামলার আসামীরাও! অসন্তোষ

shomokkkka১৮ অক্টোবর ২০১৬: মঙ্গলবার: ক্ষোভ দমাতে পরিধি বাড়ানো হয়েছিল সিলেট জেলা ও নগর ছাত্রদলের কমিটির। ৮১ সদস্য থেকে কমিটির পরিধি বাড়িয়ে করা হয়েছে বিশাল। আর ওই বিশাল কমিটিতে স্থান করে নিয়েছে সিলেটের চিহ্নিত অনেক ছিনতাইকারী ও খুনের মামলার অসামীরা। চিহ্নিত ছিসতাইকারী ও খুনের মামলার আসামীদের পদ দেওয়ায় ক্ষোদ ছাত্রদলে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। এনিয়ে কমিটির প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে চলছে নানা কানাঘুষা। বহুধা বিভক্ত ছাত্রদলে নতুন করে তৈরী হয়েছে জটিলতা। কমিটিতে খুনী ও চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের স্থান না দেওয়ার জন্য আবেদনও করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদকে সভাপতি ও রাহাত চৌধুরী মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্যের জেলার এবং নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদকে সভাপতি ও আবু সালেহ মো. লোকমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট নগর ছাত্রদলের কমিটি করা হয়। ২ বছরের কমিটির মেয়াদ শেষ হয় গত ১৮ সেপ্টেম্বর। অনেক লুকোচুরির পর কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর নতুন করে পরিধি বাড়িয়ে পূণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয় জেলা ও নগর ছাত্রদলের। বর্তমান কমিটিতে স্থান পেয়েছেন জেলার ৫৩৫ জন এবং নগর কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ৪৩৫ জন। অথচ আগের দুটি কমিটিই ছিল ৮১ সদস্য বিশিষ্ট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ছাত্রদলের এক পদবীধারী নেতা বলেন, জেলার পদবীধারী অনেক নেতাই আছেন যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। ওই নেতা জানান, আগে ছাত্রদলের একটি সম্মান ছিল। কমিটির পরিধি বাড়িয়ে ক্ষোভ দমানোর চেয়ে পাড়ায় পাড়ায় গ্র“প উপ গ্র“পের সৃষ্টি করা হয়েছে। যারা চিহ্নিত তারাই কমিটির নাম ও পদবী ব্যবহার করে গ্র“প পরিচালনা করছে বলে জানান ওই নেতা। ওই নেতা জানান জেলা ছাত্রদলের প্রথম যে ব্যক্তি তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত। নগর ছাত্রদলের প্রথম ব্যক্তি ছাত্র না হয়েও নগর ছাত্রদলের সভাপতি। ওই নেতা জানান, পরিধি বাড়িয়ে কমিটিতে চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও খুনের মামলার অসামীদের পুনবার্সন করা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা জানান, কমিটি দেখে আমি নিজেও বিষ্মিত। তিনি জানান তার কমিটিতে জেলার সহ সভাপতি স্টালিন তাড়িয়া অস্ত্রসহ আটক হন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা রয়েছে। অন্য সহসভাপতি হেলাল আহমদ ছাত্রদল নেতা জিলু হত্যা মামলার আসামী এবং সহ সভাপতি তছির অলীর বিরুদ্ধে রয়েছে ছিনতাই মামলা। যুগ্ম সম্পাদক লায়েক আহমদ ও গোলাম মাহমুদ আজমের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা রয়েছে। কোতোয়ালি থানায় এখনো গোলাম মাহমুদ আজমের ছবি ঝুলছে। এছাড়া সহ সাধারন সম্পাদক সিয়াম মো. চৌধুরী, সাকি আজিজ হাজারির বিরুদ্ধেও রয়েছে ছিনতাই মামলা। আর কমিটির আরেক পদবীধারী নেতা আব্দুল খালিক মিল্টন সিলেটের আলোচিত প্রকৌশলী সজিব খুনের মামলার অন্যতম আসামী।
নাম প্রকাশ করার শর্তে নগর ছাত্রদলের এক পদবীধারী নেতা জানান, কমিটিতে হাতে গোনা কয়েকজন ভাল লোক স্থান পেয়েছেন। ভাল লোকদের স্থান না দিয়ে চিহ্নিতদের স্থান করে দেওয়ায় এনিয়ে তারা তৃণমূলের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। ওই নেতা জানান, নগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক লিটন কুৃমার দাস নান্টু, মুবিনুল হক রাহী, আল মামুন পারভেজ, সহ সাধারন সম্পাদক অফজল চেšধুরী, মান্না দে, উসমান গনি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কাওসার মাহমুদ এইচ এম ইকবাল, তোফায়েল, নাবিল রাজা চৌধুরী, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মেহরাজ ভুইয়া পলাশের বিরুদ্ধে হত্যা ও ছিনতাই মোটর সাইকেল চোরী একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া আবুস সালাম টিপু ছাত্রদল নেতা সোহান ও সেচ্ছাসেবক দল নেতা তাজুল খুনের মামলার আসামী। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক টিটন মলি¬ক প্রকৌশলী সজিব খুনের মামলার আসামী।
ওই নেতারা জানান, তারা মনে করেছিলেন, নতুন করে জেলা ও নগর ছাত্রদলের কমিটি দেওয়া হবে। আকষ্মিকভাবে কমিটি দিয়ে তাদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হয়েছে। তারা জানান, বর্তমান যে কমিটি তাতে নতুনদের স্থান করে দেওয়া হয়নি। যারা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত যাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক মামলা রয়েছে তাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। এ কারনে অনেক নেতাই ছাত্রদলের রাজনীতি করছেন কৌশলে। এখন তিনি নিজেও ছাত্রদলের পদবী ব্যবহার করছেন না বলে ওই নেতা জানান।
এদিকে ছাত্রদলের কমিটিতে ছিনতাইকারী ও খুনীদের আশ্রয় না দেওয়ার আবেদন করেছেন আহমেদ আহসান মাহবুব। তিনি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সভাপতি জিল¬ুল হক জিলুর বড় ভাই। বিএনপি চেয়ার পারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এ আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উলে¬খ করেন, জিলুকে ছাত্রদলের বিপথগামী কিছু সন্ত্রাসীরা খুন করেছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা আছে। তিনি কমিটিতে বিপথগামীদের পুনবাসন না করে উদ্যোমী ছাত্রদল গঠনে নতুনদের স্থান করে দেওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, জিলু সিলেট ছাত্রদলকে সুসংঠিত করতে জীবন দিয়েছে। বিএনপিতে অনুপ্রবেশকারী কিছু ব্যক্তি খুনীচক্রকে প্রতিষ্ঠিত করাার অপ্রচেষ্ঠা চালাচ্ছে।
কমিটিতে ছিনতাইকারী ও খুনীরা স্থান দেওয়ার প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাইদ আহমদ চেীধুরী সমকালকে বলেন, কমিটি দেওয়ার মালিক কেন্দ্র। আমরা কিছু নাম যাচাই বাছাই করে দিয়েছিলাম। আর কেন্দ্র কমিটি দিয়েছে। এখানে আমাদের করার কিছু নেই বলে তিনি জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল