খামার-অনলাইনে পশু কেনার ঝোঁক, সিলেটের হাটে ক্রেতা নেই (ভিডিও) – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

খামার-অনলাইনে পশু কেনার ঝোঁক, সিলেটের হাটে ক্রেতা নেই (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

খামার-অনলাইনে পশু কেনার ঝোঁক, সিলেটের হাটে ক্রেতা নেই (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতি বছর ঈদের দু’সপ্তাহ আগে থেকেই ক্রেতামুখর হয়ে ওঠে সিলেটের পশুর হাট। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে ঈদ একেবারে ঘনিয়ে এলেও বাজার অনেকটাই ক্রেতাশূন্য। সিলেটের সব হাট-বাজারে অনেক কোরবানির পশু তোলা হলেও, ক্রেতার অভাবে সার্বিক ধস নেমেছে। এদিকে যাওবা হাটগুলোতে কিছু ক্রেতা আসছেন, তারাও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, কেননা বেপারিদের মধ্যে সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। মুখে মাস্ক ও দূরত্ব বজায় রেখে চলার কথা থাকলেও তা মানছেন না বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই।

এবার বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে সিলেট নগর ও উপজেলা সদর এলাকায় শতাধিক পশুর হাট বসেছে। কিন্তু নগরের একমাত্র বড় স্থায়ী পশুর হাট কাজির বাজারেও সেভাবে ক্রেতা সমাগম দেখা যাচ্ছে না। বরঙ্গ চলমান করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ কোরবানির পশু কিনতে অনলাইন ও খামারমুখী হচ্ছেন। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার খাসা আমবাড়ি এলাকায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে শতাধিক গরু নিয়ে খামার করেছেন নাজমুল ইসলাম ফরহাদ। ঘরে বসে ফেসবুক পেজ ও সংশ্লিষ্ট অনলাইন মাধ্যমেই গরু বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।  তিনি বলেন, করোনা মহামারিতে মানুষ বাজারে না গিয়ে খামারে এসে গরু পছন্দ করে নিয়ে যাচ্ছে। দামও ভাল পাচ্ছি।

সরেজমিনে নগরের কাজির বাজারসহ বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু নিয়ে এসেছেন বেপারিরা। সারিবদ্ধভাবে সামিয়ানার নিচে রাখা হয়েছে গরুগুলোকে। একেকজন পাইকার পঞ্চাশ থেকে শতাধিক গরুও তুলেছেন বাজারে। কিন্তু দেখা গেছে, তার মধ্যে হয়তো মাত্র ৫ থেকে ৬টি বিক্রি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে গরু নিয়ে আসার অন্যতম উদ্দেশ্যই অধিক মুনাফা। কিন্তু এবার বাজারের অবস্থা খুবই বেহাল। তারপরও শেষ সময়ে বিক্রি বাড়বে এমন প্রত্যাশা করছেন তারা। রংপুর থেকে কাজির বাজারে ২৯টি গরু নিয়ে আসা মোবারক আলী বলেন, বাজারের অবস্থা ভালো নেই। করোনার কারণে ক্রেতা খুবই কম। এ কয়দিনে ৩টা গরু বিক্রি করতে পেরেছি। তবে গরুর দাম মোটামুটি ভালো আছে।

‘প্রতিবার এ সময় যেমন ক্রেতা আসে, এবার তেমন নাই। দু-একজন আসে, গরু দেখে, দাম শুনে চলে যায়। গতবার যে মাপের গরু লাখ টাকার উপর বিক্রি, এবার সেই গরু ৬০-৭০ হাজারেরও কম। আরেক গরু ব্যবসায়ী শামসু মিয়া বলেন, আমরা যারা এই কোরবানির ঈদের আশায় সারাবছর চেয়ে থাকি, তারা এখন রীতিমতো চোখের জল ফেলছি। যদি ঈদের আগে ২/৪ দিন ভালো ব্যবসা না হয়, তবে নির্ঘাৎ পথে বসতে হবে।

সার্বিক অবস্থা নিয়ে কাজির বাজর পশুর হাটের ব্যবস্থাপক শাহাদাৎ হোসেন দোলন বলেন, বাজারে দেশি অনেক গরু উঠেছে, আরো গরু আসবে, তবে বিক্রি এখনো সেভাবে হচ্ছে না। শেষ সময়ে ক্রেতা সমাগম ঘটবে এমন আশা করছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই গরু নিয়ে কাজির বাজার আসতে চায়। কিন্তু মাঝপথে অবৈধ হাটগুলোতে জোর করে গাড়ি থেকে গরু নামিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ, প্রশাসন সেদিকে নজর দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশন, সদর উপজেলা ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী ১০টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে আছে- কোতোয়ালি থানাধীন এলাকায় কাজির বাজার পশুর হাট, জালালাবাদ থানাধীন শিবের বাজার পশুর হাট, বিমানবন্দর থানাধীন ধোপাগুল পয়েন্ট সংলগ্ন মাঠ পশুর হাট, লাক্কাতুরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ পশুর হাট, দক্ষিণ সুরমা থানাধীন লালা বাজার পশুর হাট (খোলা জায়গা), কামালবাজার জাবেদ অটো রাইছ মিলের মাঠ পশুর হাট, মোগলাবাজার থানাধীন জালালপুর বাজার পশুর হাট, রেঙ্গা হাজীগঞ্জ বাজার পশুর হাট (খোলা জায়গা), রাখালগঞ্জ বাজার পশুর হাট (খোলা জায়গা) ও কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের পশুর হাট।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আরো ৮০টি পশুর হাট বসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, সিলেটের ১৩টি উপজেলায় ৮০টি এবং মহানগর এলাকায় ১০টি পশুর হাট রয়েছে। হাটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তে মেশিন বসানো হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জেরদার করা হয়েছে। থানাপুলিশের পাশাপাশি এগুলোতে স্থায়ীভাবে ১০৮ জনসহ ৩ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহি সিলেটের কাজির বাজারে কোরবানির পশুর হাট।উপস্থাপনায় নুরুল ইসলামক্যামেরায় ফুল মিয়া

Posted by The Daily Sylheter Dinkal on Monday, 27 July 2020