খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি রোববার পর্যন্ত মুলতবি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি রোববার পর্যন্ত মুলতবি

প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮

খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি রোববার পর্যন্ত মুলতবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জামিন আবেদনের শুনানি আগামী রোববার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। এর আগে বৃহস্পতিবার বয়স ও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন গ্রহণ করে শুনানি শুরু করেন।

খালেদা জিয়ার পক্ষে এজে মোহাম্মদ আলী আপিল গ্রহণের শুনানি শুরু করেন।

এ সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সময়ের আবেদন করেন।

আদালত আবেদন গ্রহণ করে আগামী রোববার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

৩২টি গ্রাইন্ডে ৮৮০ পৃষ্ঠার জামিন আবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। জামিনে বয়স, অসুস্থর কারণ ছাড়াও অন্যান্য কারণ দেখানো হয়।

খালেদা জিয়ার পক্ষে এই জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

এর আগে এই মামলায় সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন বিএনপি প্রধান। আজ শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।

গত মঙ্গলবার আপিলের আবেদন উপস্থাপন করা হলে শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

ওইদিন বিকেল সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদার জিয়ার আইনজীবী দলের সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ আপিল (ক্রিমিনাল আপিল নং- ১৬৭৩/১৮) দায়ের করেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর, তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

ওইদিনই খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ ১২ দিন পর গত সোমবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। পরে বিএনপির আইনজীবীদের কাছে রায়ের সত্যায়িত কপি হস্তান্তর করা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার আপিল দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ। মামলার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং দুদক আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন।

এরপর ২৩৬ কার্যদিবসে, ৩২ জনের সাক্ষ্য নেয়ার মধ্য দিয়ে এ মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। এর মধ্যে ২৮ দিন ধরে আসামি খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দেন। আর ১৬ দিন তার পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান ছাড়া মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ কারাগারে রয়েছেন। আর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।