খালেদার জিয়ার পৃথক লিভ টু আপিলের শুনানি আজ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

খালেদার জিয়ার পৃথক লিভ টু আপিলের শুনানি আজ

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০১৮

খালেদার জিয়ার পৃথক লিভ টু আপিলের শুনানি আজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিলের শুনানি আজ।

রবিবার (১৮ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে খালেদার জামিন স্থগিতের শুনানি হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে গত বৃহস্পতিবার লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করে।

গত বুধবার (১৪ মার্চ) সকালে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানিতে দুদকের আইনজীবীরা সময় আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৪ বিচারপতির নিয়মিত বেঞ্চ ১৮ মার্চ পর্যন্ত খালেদার জামিনের স্থগিতাদেশ দেন।

আগের দিন ১৩ মার্চ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা জামিন স্থগিতের পৃথক দুটি আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান চেম্বার আদালত বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

কারাবন্দি থাকার ৩২ দিনের মাথায় গত ১২ মার্চ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় তাঁকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। একইসঙ্গে আপিল শুনানির জন্য আগামী চার মাসের মধ্যে পেপার বুক তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নিয়ম অনুযায়ী, এখন অন্য কোনও মামলায় নতুন করে গ্রেফতার দেখানো না হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি পেতে আর কোনও বাধা নেই।

এদিকে খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের কপি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে দুই বিচারপতি জামিন আদেশে স্বাক্ষর করেন। সিএমএম কোর্ট জামিন আদেশ গ্রহণের পর এর কপি কারাগারে পাঠানো হবে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৫ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। একইসঙ্গে ৬ আসামিকে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই দিনই কড়া নিরাপত্তায় খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই কারাবন্দি আছেন।

উল্লেখ্য, এতিমদের সহায়তায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুদানের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই খালেদা-তারেকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। এর পর থেকে গত প্রায় ৯ বছর ধরে চলমান আছে এ মামলার বিচারকাজ।

খালেদা-তারেক ছাড়াও এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অপর চার আসামি হলেন সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক রয়েছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।