খালেদা-জিনপিং বৈঠকে শিমুল, বিতর্কে তোলপাড় – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

খালেদা-জিনপিং বৈঠকে শিমুল, বিতর্কে তোলপাড়

প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৬

খালেদা-জিনপিং বৈঠকে শিমুল, বিতর্কে তোলপাড়

shimul-bnp১৬ অক্টোবর ২০১৬, রবিবার: খালেদা-জিনপিং বৈঠকে শিমুল বিশ্বাস, বিতর্কে তোলপাড় শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যাতে স্বভাবতই উজ্জিবিত বিএনপি। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে খোদ দলটির অভ্যন্তরেই।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকে শিমুল বিশ্বাসের উপস্থিতি নিয়ে দু’দিন ধরে তোলপাড় চলছে বিএনপির গণ্ডি পেরিয়ে বাইরেও। চীনা প্রেসিডেন্টের সফর ঘিরে যেখানে পুরো ঢাকা শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল, সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সদস্য না হয়েও শিমুল বিশ্বাস কী করে পুরো ৪০ মিনিট ওই বৈঠকে বসে থাকতে পারলেন!এর হিসাব মেলাতে পারছেন না বিএনপি নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা জানান, আইনের চোখে শিমুল একজন পলাতক আসামি। তাঁর নামে মামলা আছে ৪৭টি। এসবের মধ্যে অন্তত ১০টিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার উদ্যোগ নেয়নি একবারও। অথচ আদালতে হাজির হয়ে জামিন না নিলে বিএনপির অন্য নেতাদের বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে থাকে পুলিশ। এভাবে তাঁদের চাপের মধ্যে রাখা হয়।

বিএনপি নেতাদের মতে, রহস্যজনক কারণে ওই ধরনের কোনো চাপ নেই শিমুল বিশ্বাসের ওপর। শিমুল হয় খালেদা জিয়ার বাসায়, নয়তো অন্য কোথাও আত্মগোপনে থাকেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমনকি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা ব্যূহ ভেদ করে শুক্রবারের ওই বৈঠকে শিমুলের উপস্থিতির ঘটনা বিএনপি নেতারা সন্দেহের চোখে দেখছেন। কেউ কেউ বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন। অনেকে মনে করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সবুজ সংকেত ছাড়া এ ঘটনা কিছুতেই সম্ভব হতে পারে না। কেউ কেউ এক ধাপ এগিয়ে এ কথাও বলছেন যে, খালেদা-জিনপিং বৈঠকের তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার জন্যই শিমুলকে আগেভাগে বৈঠকস্থলে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এ কারণে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাঁকে দেখেও না দেখার ভান করেছে অথবা তাঁকে ঢুকতে সাহায্য করেছে।

সব মিলিয়ে শনিবার সারাটা দিনই বিএনপিসহ রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় ছিল ওই বৈঠকে শিমুলের যোগদানের ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। বৈঠকের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে খালেদাসহ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে শিমুল বিশ্বাসকেও বসে থাকতে দেখা যায়।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে দলীয় প্রতিনিধি ছাড়া কর্মকর্তা পর্যায়ের কারো উপস্থিতির এমন ঘটনা নজিরবিহীন। কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে যোগদানের জন্য বিএনপির মোট ৭ নেতার নাম ছিল আমাদের কাছে। কিন্তু বৈঠকের অনেক আগে থেকেই হোটেলে গিয়ে বসে ছিলেন শিমুল বিশ্বাস।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চীনাদের কাছে বিএনপি প্রতিনিধিদের নাম আমিই দিয়েছি; কিন্তু সেখানে শিমুল বিশ্বাসের নাম ছিল না। শিমুল কিভাবে সেখানে ঢুকেছে তা আমার জানা নেই।’
খালেদা জিয়া ছাড়াও বৈঠকে যোগদানের জন্য নাম জমা দেয়া অন্যরা হলেন- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহউদ্দিন আহমেদ ও রিয়াজ রহমান। যানজটে আটকা পড়ায় রিয়াজ রহমান সময়মতো বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি।

ফলে তাঁর আসনটি খালি থাকে এবং ওই আসনে গিয়ে প্রথম সারিতেই বসে থাকেন শিমুল বিশ্বাস। প্রটোকলে না মিললেও গুলশান কার্যালয়ের ক্ষমতাবান ব্যক্তি শিমুল বিশ্বাসকে উপস্থিত বিএনপি নেতারা আসন ছাড়ার কথা বলতে পারেননি। অন্যদিকে চেয়ারপারসনও তাঁকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেননি। এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটি তাঁদের নয়, দলীয় চেয়ারপারসনের বলার কথা।

এ ধরনের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে দোভাষী ছাড়াও কখনো কখনো সাহায্যকারী হিসেবে অনেকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হওয়ার পর প্রটোকল অনুযায়ী তাঁদের বেরিয়ে যেতে হয়। অথবা তাঁরা বৈঠকস্থল থেকে অনেক দূরে বসে থাকেন। এ ধরনের বৈঠকে কর্মকর্তা পর্যায়ের কারো এভাবে বসে থাকার ঘটনা নজিরবিহীন বলে বিএনপি নেতারা জানান। এ ঘটনায় বিএনপির প্রতি চীনাদের আস্থা নষ্ট হবে বলেই মত দিয়েছেন দলের অনেক নেতাই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল