খালেদা জিয়াই হচ্ছেন শেখ হাসিনার সবচে বড় সুহৃদ ও রক্ষাকবচ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

খালেদা জিয়াই হচ্ছেন শেখ হাসিনার সবচে বড় সুহৃদ ও রক্ষাকবচ

প্রকাশিত: ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৬

খালেদা জিয়াই হচ্ছেন শেখ হাসিনার সবচে বড় সুহৃদ ও রক্ষাকবচ

maruf-kamal-khan-696x645১৪ অক্টোবর ২০১৬, শুক্রবার: দীর্ঘ দিন পর নিরাবতা ভেঙ্গে রাজনীতি ও দল নিয়ে মুখ খুললেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল।

শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচে বড় সুহৃদ এবং চরম বিপর্যয় থেকে শেখ হাসিনাকে উদ্ধার ও রক্ষার ক্ষমতা আল্লাহ্ পাক একমাত্র খালেদা জিয়াকেই দিয়েছেন।
কাজেই শেখ হাসিনার সামনে মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষার একটিমাত্র পথই খোলা, সেটা হলো আপসহীন নেত্রীর সংগে আপস। এবং চাতুরি নয়, আপস আলোচনার মধ্য দিয়ে সকলের অংশগ্রহনে একটি গ্রহনযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ সংসদ নির্বাচনের পথ খুলে দেয়া।।’

তিনি আরো বলেন, দল হিসেবে বিএনপি সুশৃঙ্খল নয়। বরং অবিন্যস্ত, এলোমেলো ও বিশৃংখল। দীর্ঘস্থায়ী সুসংবদ্ধ সংগ্রাম রচনায় এ দল অক্ষম। বরং রাষ্ট্রশক্তির বহুমাত্রিক আক্রমণে এই দল বিপর্যস্ত ও হতাশ হয়ে পড়ে সহজেই এবং দুর্দিনে ঐক্যবদ্ধ হবার বদলে বহুধাবিভক্ত হয়ে একে অপরের ওপর ব্যর্থতার দায় চাপাতে থাকে। দায়িত্বশীলদের কেউ কেউ হতাশ হয়ে কর্মীস্তর পর্যন্ত সেই হতাশা ছড়িয়ে দেন।

ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসটি এ ওয়ান পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:…………..

শুভস্য শীঘ্রম

জনগণ-বর্জিত একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতার মেয়াদ প্রলম্বিত করা হলেও এতে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক সংকটের সুরাহা হয়নি। অচলাবস্থার নিরসন হয়নি। সার্কাসের সরকার ও ক্লাউন বিরোধীদল পায়নি নৈতিক বৈধতা। অর্জিত হয়নি গ্রহনযোগ্যতা। তাই সকলের অংশগ্রহনে একটি ইনক্লুসিভ ইলেকশনের জন্য চাপ আছে।

এই চাপ ঘরে-বাইরে দু’দিক থেকেই আসছে। দেশের ভেতরে খোলা চোখে দেখা না গেলেও অদৃশ্য চাপ সরকার অনুভব করছে। আর বাইরের চাপ তো কিছুটা দেখাই যাচ্ছে। কাজেই আবার আরেকটা “কুত্তামার্কা” নির্বাচন করে এই চাপ সামলানো যাবে বা সংকট ও অচলাবস্থার নিরসন হবে; এমনটা ভাবার কোনো কারণই নেই। যারা ভাবে তারা মূলতঃ আহাম্মকের স্বর্গের বাসিন্দা।

সকলের মনে থাকার কথা, ১৪ সালের জানুয়ারিতে হওয়া “কুত্তামার্কা ইলেকশন” বর্জন করে হু.মো. এরশাদের মতন একজন গণবিরোধী লোকও জনতার কাতারে শামিল থাকার চেষ্টা করেছিলেন। তখনকার ভারতীয় কংগ্রেস সরকার লাজলজ্জার মাথা খেয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে সশরীরে নেমেও তাদের অনুগত দলগুলোকেও রাজি করাতে পারেনি। পরে বিদেশে টাকা পাচারের দায়ে রওশনকে জেলে ঢোকানোর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে এবং এরশাদকে প্রায় বেঁধে রেখে জাতীয় পার্টিকে সিট ভাগের নির্বাচনী প্রহসনে শামিল করা হয়। তবে রওশনের গ্রুপকে বিরোধীদল প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

সেটা বুঝতে পেরে বিএনপিকে হামলা-মামলা-হেনস্তা-হয়রানি-অপপ্রচারের চাপে নাস্তানাবুদ ও প্রায় অকার্যকর করে রেখে একতরফা রাজনৈতিক ময়দানে খেলেও আওয়ামীলীগ সংকট ও অচলাবস্থার নিরসন করতে পারেনি। তাই তারা শয়নে-স্বপনে-জাগরণে বিএনপি, জিয়া, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধেই কেবল জিগির তুলছে। এত কিছু করেও তাদের ভয় কাটেনা, পেটের ভাত হজম হয়না। এর মাধ্যমে তারাই সারা দুনিয়ার সামনে প্রমান করছে যে, কারসাজি করে প্রলম্বিত করা তাদের ক্ষমতার একমাত্র রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জার হচ্ছে বিএনপি।

দল হিসেবে বিএনপি সুশৃঙ্খল নয়। বরং অবিন্যস্ত, এলোমেলো ও বিশৃংখল। দীর্ঘস্থায়ী সুসংবদ্ধ সংগ্রাম রচনায় এ দল অক্ষম। বরং রাষ্ট্রশক্তির বহুমাত্রিক আক্রমণে এই দল বিপর্যস্ত ও হতাশ হয়ে পড়ে সহজেই এবং দুর্দিনে ঐক্যবদ্ধ হবার বদলে বহুধাবিভক্ত হয়ে একে অপরের ওপর ব্যর্থতার দায় চাপাতে থাকে। দায়িত্বশীলদের কেউ কেউ হতাশ হয়ে কর্মীস্তর পর্যন্ত সেই হতাশা ছড়িয়ে দেন।

সাংগঠনিক রসায়নের এই দুর্বলতা ছাড়াও দলে আদর্শচর্চারও খুবই দৈন্যদশা। এত সীমাবদ্ধতা সত্বেও ক্ষমতাসীনরা বিএনপিতে গোপন কিছু খুচরা এজেন্ট তৈরি করতে পারলেও কোনো প্রকাশ্য বিদ্রোহ বা বড় রকমের কোনো ভাঙ্গন আজও সৃষ্টি করতে পারেনি। নানান পথ-মত-স্বার্থ-স্তরের লোকদেরকে বৈচিত্র‍্যের মধ্যে এই শিথিল ঐক্যে ধরে রাখতে পারা এবং সাধারণ মানুষের প্রবল সমর্থনই বিএনপির বিষ্ময়কর শক্তির প্রাণভোমরা। এ কারণেই বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতির প্রথম পক্ষ। আর ক্ষমতাসীনদের ভয় এখানেই।

রাষ্ট্রের অস্ত্রধারী অর্গ্যানগুলোতে ও প্রশাসনে ক্ষমতাসীনদের ব্যক্তিগত ও দলের প্রতি অনুগত লোকদের শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসিয়ে ইচ্ছেমাফিক চালানো সম্ভব হলেও এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। সেই অনাস্থা ও অবিশ্বাস প্রায়ই তাদের অসতর্ক মুহূর্তের বক্তব্য বেরিয়ে পড়ে। তারা মনে করেন, ক্ষমতাসীনেরা একটু বেকায়দায় পড়লেই ওই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয় আনুগত্যে চিড় ধরবে। তাদের এই সন্দেহ ও অনুমান একেবারে অমূলকও নয়।

ক্ষমতাসীনদের জন্য সবচে ‘অর্থপূর্ণ খাত’ থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত বহুল বিতর্কিত একজন কেউকেটা ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন। অসুস্থ জামাতার চিকিৎসা দেখভাল করার কথা বলে গেছেন তিনি। তবে প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, বিদেশে রক্ষিত আমানত রক্ষার উদ্দেশ্যেই তার এ যাত্রা এবং সম্ভবত তিনি আর ফিরে আসবেন না। সবকিছু আরেকটু পরিষ্কার হলে ঐ শিবিরে যে গণ-দেশত্যাগ শুরু হবে তা বলাই বাহুল্য।

আমি সব সময় একটা কথা বলি, বেগম খালেদা জিয়াই হচ্ছেন শেখ হাসিনার সবচে বড় সুহৃদ এবং চরম বিপর্যয় থেকে শেখ হাসিনাকে উদ্ধার ও রক্ষার ক্ষমতা আল্লাহ্ পাক একমাত্র খালেদা জিয়াকেই দিয়েছেন।
কাজেই শেখ হাসিনার সামনে মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষার একটিমাত্র পথই খোলা, সেটা হলো আপসহীন নেত্রীর সংগে আপস। এবং চাতুরি নয়, আপস আলোচনার মধ্য দিয়ে সকলের অংশগ্রহনে একটি গ্রহনযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ সংসদ নির্বাচনের পথ খুলে দেয়া।

সেটি এমন একটি নির্বাচন যেখানে নির্বাচনকালীন সরকার, প্রশাসন, শৃংখলারক্ষা সংস্থাসমূহ ও নির্বাচন কমিশন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মতৈক্যের ভিত্তিতে গঠিত হবে। আর খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা ক্ষমতার বাইরে একই সমতলে থেকে নিজ নিজ দলের নির্বাচনী টিম ও ক্যাম্পেইনের নেতৃত্ব দেবেন।

পরিশেষে বলি, এমন ইতিবাচক ভাবনাই সকলের জন্য কল্যাণকর। আর অন্য যে-কোনো ভাবনা হবে বিপর্যয়কর।
সময় দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। অতএব, শুভস্য শীঘ্রম!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল