খালেদা জিয়াকে খোলা চিঠি জাফরুল্লাহর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

খালেদা জিয়াকে খোলা চিঠি জাফরুল্লাহর

প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৬

খালেদা জিয়াকে খোলা চিঠি জাফরুল্লাহর

025901Zafarullah_kalerkantho_picবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে খোলা চিঠি দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে খোলা চিঠি-২’ শিরোনামের এই চিঠিতে তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিচয়, বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কমিটি গঠন ও এর বিশ্লেষণ, সরকারবিরোধী আন্দোলন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, এ রকম নানা পরামর্শ তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের কাছে ই-মেইলে পাঠানো এই চিঠিতে ‘আপনার হাতে বেশি সময় নেই’—খালেদা জিয়াকে এমন ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে জাফরুল্লাহ বলেছেন, ‘২০ দলের বাইরের বিরোধী দলগুলোকে একত্রিত করে বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে সুসংহত করার জন্য আপনার হাতে সময় আছে বড় জোড় ৯ মাস। সম্ভবত এই সময়ের মধ্যে আপনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় রাজনীতির আলোকে বিচারের রায় বেরুবে। এই কয়েক মাস পরিশ্রম করলে জনগণের রায় আপনার পক্ষে আসার সম্ভাবনা সমধিক।’ ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করায় খালেদা জিয়া প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে এমন দিনে জন্মদিনের অনুষ্ঠান বাতিল করে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখিয়েছেন। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কী মন্তব্য করেছেন তাতে কিছু যায় আসে না। আপনি জিতেছেন।’ বিএনপির ভুল নিয়ে লিখতে গিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা লেখেন, ‘৩৮ বছরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পরে জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা, কমিটির বড় সাইজ বা ক্রমানুক্রমে বয়োজ্যেষ্ঠতার হিসাব না মানা কিংবা পর্যাপ্ত নারী নেত্রীর স্থান না হওয়া অথবা নবীন তরুণদের সংখ্যাধিক্য ভুল কাজ নয়। ভুলটা হয়েছে অন্য জায়গায়। আপনার দলের কিছু চাটুকার দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছুক, সরকারের দমন নীতিতে ভীত-সন্ত্রস্ত সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যারা সম্ভবত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর তৈল এর প্রাসঙ্গিকতা ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করে দলের মহাসচিব থেকে শুরু করে পুরো জাতীয় কমিটির মনোনয়নের দায়িত্ব আপনার ওপর চাপিয়ে দিয়ে আপনাকে আপাতদৃষ্টিতে বিশ্বাস ও সম্মান প্রদর্শন করছে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা তাদের দলের প্রতি আনুগত্যের অভাব ও দায়িত্ব এড়ানোর প্রচেষ্টা মাত্র। এসব আপনাকে সবার চোখে আপনার দায়িত্ব পালনে আপনি ব্যর্থ—এমন  প্রমাণের সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া। এসব নেতা প্রকৃতপক্ষে ভীত মেষশাবক সমতুল্য। বিভিন্ন অজুহাতে তাঁরা আপনাকে আন্দোলনের পথে না নিয়ে গুলশানের দুই বাড়িতে অন্তরীণ করে রেখেছেন।’ তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনার স্থায়ী কমিটির নেতাদের উচিত ছিল আপনাকে অযথা তেল না দিয়ে, গঠনতন্ত্রের নির্ধারিত বিষয়সমূহ আপনার সামনে তুলে ধরা এবং গঠনতন্ত্র মোতাবেক আপনার ক্ষমতা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দেওয়া।’ তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের বিএনপি সৃষ্টির পেছনে ২৯ লক্ষ্য ও আদর্শ অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যার ১৭টি গঠনতন্ত্রে রয়েছে। কোথাও বলা হয়নি বা লেখা হয়নি যে চেয়ারপারসন একলা সব কমিটির সদস্যদের মনোনয়ন দেবেন। সব মনোনয়নদানের জন্য গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তবে পরিষ্কারভাবে লিখিত আছে, ‘দলের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে চেয়ারম্যান দলের সর্বময় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন।’ একলা দুই-তিনজন কাছের মানুষের কান কথা শুনে এত বড় একটা জাতীয় কমিটি গঠন করার পরও সবার মন রক্ষা করতে পারেননি। যার কারণে যুগ্ম মহাসচিব সাতজনের মধ্যে একজন মহিলাও নেই, আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদকের ক্ষেত্রে সাতজনের মধ্যে একজনও মহিলা নেত্রী নেই। ধর্ম বিষয়ে তিনজনসহ সম্পাদকের যৌক্তিকতা নিয়েও জাফরুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলে ১৫ জন উপদেষ্টা থাকার কথা, তাই বলে কি অতিরিক্ত ৫৮ জন উপদেষ্টা? অধ্যাপক এমাজউদ্দীনকে খালেদা জিয়ার প্রধান উপদেষ্টা করলে বিএনপির লাভ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি সদস্য নন অথচ বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও সুদক্ষ ব্যক্তিদের কোঅপ্ট করার বিধান রাখার পরামর্শ দিয়ে এসব বিষয়ে অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আহমেদ কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক ফেরদৌস আজিম, উপাচার্য পারভীন হাসান, নারী পক্ষের শিরীন হক, সুজনের বদিউল আলম মজুমদার, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক আইনুন নিশাত, অধ্যাপক (ড.) এম আর খান, বারডেমের ডা. এ কে আজাদ খান, আন্তর্জাতিক পানি বিশেষজ্ঞ ড. এস এ খান, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, বিআইডিএসের বিনায়ক সেন, সাবেক আমলা আলী ইমাম মজুমদার, সাদত হোসেন, শওকত আলী, আলী আকবর খান প্রমুখ বিশিষ্টজনকে কমিটিগুলোতে কোঅপ্ট করার কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় ভুল চিহ্নিত করতে গিয়ে বিএনপিপন্থী এই বুদ্ধিজীবী বলেন, ‘আপনি (খালেদা জিয়া) সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন, আপনার গঠনতন্ত্রের নির্দেশ মোতাবেক ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও মহানগর কমিটিসমূহ, নারী দল, ছাত্রদল ও অন্য অঙ্গসংগঠনসমূহে দুই বছর পর পর যথাযথভাবে নির্বাচন করে উৎসাহী কর্মীদের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ না দিয়ে। ঘরকুনো কর্মীরা সন্ধ্যায় আপনার গুলশান অফিসে ভিড় করবে, কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আপনার ডাকে মাঠে নামবে না। এরা সুখের পায়রা এবং কতক বয়োবৃদ্ধ। বিএনপি জাতীয় কমিটিতে পরিবারতন্ত্র জিন্দাবাদ—১০ নেতার স্ত্রী, ১১ নেতার ছেলে, ছয় ভাইবোন স্থান পেয়েছেন অথচ শিষ্টাচার বজায় রেখে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আপনি ছেলের বউকে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে স্থান দেননি। স্থায়ী কমিটিতে কমপক্ষে চারজন মহিলা রেখে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে সেখানে প্রয়োজনে ২৫ জন করলে আপত্তি কোথায়? সদস্যরা পার্টির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ভিত্তিতে দুই-তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন, মনোনীত নন। চেয়ারম্যানের মনোনয়নে আসবেন তিন-চারজন মাত্র। জাতীয় কমিটিতে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী আবদুল আলীম ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্থান অযৌক্তিক ও ভুল সিদ্ধান্ত। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে তো কোনো দলীয় রাজনীতিতে নেই।’ ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের নিয়ন্ত্রণ’ মন্তব্য করে তিনি লেখেন, ভারত সুকৌশলে হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ করছে, ভারতের জাতীয় স্বার্থে এবং ভারতকে অখণ্ড রাখার অব্যাহত প্রচেষ্টায়। ৫ জানুয়ারি (২০১৪)-এর ভোটারবিহীন নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার কৃতজ্ঞতায় আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধুত্বের নামে নতজানু নীতি মেনে নিয়েছে, মধ্যে মধ্যে আপনিও ভারতের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করছেন, যা দেশবাসীর চোখে সুবিধাবাদী রাজনীতি বলে মনে হয়েছে। এই সরকারের বদান্যতায় প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে চার বিলিয়ন ডলার রিমিট্যান্স যাচ্ছে, প্রতি সপ্তাহে একজন বাংলাদেশি মারা যাচ্ছে বিএসএফের হাতে, রামপালের উল্টোদিকে পশ্চিমবাংলার সুন্দরবন এলাকা রাঙ্গাবালীতে (যা অতীতে আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি) কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উত্পাদন কেন্দ্র না করে মাত্র ১৫ শতাংশ মূলধন দিয়ে ভারত রামপালে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উত্পাদন করে আমাদের পরিবেশ ধ্বংস করতে উদ্ধ্যত। আপনি এ সম্পর্কে মৃদু প্রতিবাদ করেছেন, আপনার দলকে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির আন্দোলনে ব্যাপকভাবে যোগ দিতে নির্দেশ দেননি। ধারণা করা হয় যে সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় গোয়েন্দার অনুচর রয়েছে বাংলাদেশে, প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে। তারা গুলশানে জঙ্গি ঘটনা প্রতিহত করেনি। জেনারেল মঞ্জুর হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়ে জাতীয় পার্টির এরশাদকে আওয়ামী লীগের অনুগত করিয়েছেন। ভারতের ইঙ্গিতে ১৪-১৫ হাজার বিএনপিকর্মী এখনো জেলে আছে। তাদের পুরো তালিকা আজও প্রকাশিত হয়নি। পুলিশের ঘুষবাণিজ্য বন্ধের বিরুদ্ধে একবারও রাস্তায় নামার চেষ্টা করেননি। আপনাকে বিব্রত করার জন্য সরকার জামায়াত ইস্যু প্রায়ই তুলে ধরছে। আপনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ইস্যু এনে যোগ করাচ্ছে। খালেদা জিয়াকে তাঁর করণীর কী তা বাতলে দিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঘোষণা ও গঠনতন্ত্রের  সংশোধন প্রয়োজন। এই নিমিত্তে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন, দিলারা চৌধুরী, আসিফ নজরুল ও মাহবুবুল্লাহ প্রমুখকে দিয়ে কমিটি করে দিন, সময় দিন ১৫ দিন। তাঁদের সুপারিশগুলো আলোচনা করুন জাতীয় কাউন্সিল ও স্থায়ী কমিটির জরুরি মিটিংয়ে। পরপরই ইউনিয়ন, উপজেলা ও মহানগর কমিটিগুলো এবং  ছাত্রদল, নারী দল ও শ্রমিক দলে নির্বাচন দিন। ২৫ বছরের অধিক বয়সী কেউ ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকবে না। পার্টিতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করুন। স্থায়ী কমিটি ও উপদেষ্টাদের মেয়াদ দুই বছরের মেয়াদে সীমিত করুন। জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরো বলেন, দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, সিনিয়র নেতা, ছাত্রদল, যুবদল ও মহিলা নেত্রীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে স্থির করা ‘জনগণের সনদ’। জনগণের সদস্যদের রূপরেখার খসড়া দুই মাসের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা করে চূড়ান্ত করুন। এই মসনদের মধ্যে রয়েছে, সামরিক বাহিনীর দলে সব শ্রমিক ও দরিদ্র পরিবারের রেশন সুবিধা প্রদান, প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে শুরুতে দুজন এবং ২০২৫ সালের মধ্যে চারজন গ্র্যাজুয়েট ডাক্তারের সার্বক্ষণিক অবস্থান নিশ্চিতকরণ, হজরত আয়েশা, আবুবকর, ওমর, হাজী মুহাম্মদ মহসীন, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, সূর্যসেন, ইলামিত্র, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া, মুজিবপত্নী ফজিলাতুননেসা, সব জাতীয় নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের বীর ও বীরাঙ্গনাদের কাহিনী পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিয়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশকে ১০টি প্রদেশ বা ১৭টি স্টেটে ভাগ করে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা, কোনো রাজনৈতিক কর্মী সরাসরি খুনে জড়িত না হলে, অভিযুক্ত রাজনৈতিক কর্মী এক মাসের মধ্যে জামিন পাবে। ভারতীয় সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক আগ্রাসন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিসাব আদায় করা হবে প্রতিবেশী ভারত থেকে, নতুবা কোনো  ট্রানজিট নয়। হাতে সময় নেই অংশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরো বলেন, অনৈতিক কমিশন নেওয়ার মামলায় আদালত তারেক জিয়ার সাত বছরের জেল দিয়েছে। এটা কি সুষ্ঠু বিচারের রায় না রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? এর ফয়সালা ছাত্রদলের ২০-৩০ জনের মিছিলে হবে না। ফয়সালা হবে মূলত সুষ্ঠু গণতন্ত্রের আন্দোলনে এবং উচ্চ আদালতে। স্মরণযোগ্য যে বিচারপতিদের মধ্যে সাবেক ছাত্রলীগের কর্মীদের বাহুল্য রয়েছে। তা হলেও কতক জজসাহেবদের বিবেক নিশ্চয় এখনো কার্যক্ষম এবং স্বল্পসংখ্যক বিচারপতির ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী স্বচেষ্ট রয়েছেন। মান্না, মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমানের জামিন না দেওয়া এবং আমার দেশ ও অন্যান্য কয়েকটি মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়ার কারণ অনুসন্ধানের জন্য ভবিষ্যতে বিচারকদের জনতার আদালতে বিচার হতে পারে। ভবিষ্যৎ আন্দোলনের স্বার্থে নিয়মিতভাবে সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত আপনার বাড়িতে তৃণমূল কর্মীদের সাক্ষাৎ দিন। কর্মীদের দেখভাল করার জন্য একজন ৫০ অনূর্ধ্ব উচ্চশিক্ষিত, রাজনীতির ভাষা ও শিষ্টাচারের সঙ্গে পরিচিত কিন্তু খয়ের খা নয়, এরূপ একজন মহিলা বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বিশেষ দায়িত্ব হবে বিভিন্ন কমিটির কার্যকলাপের সার সংক্ষেপ এবং অন্ততপক্ষে ১০টি দৈনিক পত্রিকার মুখ্য সংবাদগুলো নিয়ে আপনার সঙ্গে প্রতিদিন আলোচনা করা। আপনার রাতের গুলশান অফিসের সময় সন্ধ্যায় করলে ভালো হবে। প্রতি মাসে আপনাকে বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে ন্যূনতম দুটি করে জনসভা করতে হবে। একই তথ্য বিশেষত ভারতের অনৈতিক কার্যকলাপের কথা বারে বারে বলতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিভাগ বিলুপ্ত করে জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন কেন্দ্রিকতার বিপরীতে কিভাবে ‘স্থানীয় এলাকার সরকার’ প্রদেশ বা স্টেট সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে অধিকতর দেশ পরিচালনায় সম্পৃক্ত করবেন তা জনসাধারণকে অবহিত করুন।  অন্যান্য বিরোধী দলকে একত্রে করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অচিরে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে সম্মিলিত বিরোধী দল হিসেবে অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বাসদের খালেকুজ্জামান, জাসদের আ স ম আবদুর রব প্রমুখদের সঙ্গে নিয়ে এক মাসের মধ্যে প্রথম জনসভায় অংশগ্রহণের ঘোষণা দিন। বিএনপির বর্তমান জোটের নেতারা তো থাকছেনই, আপনি জেলে থাকলেও সম্মিলিত বিরোধী দলের বিজয় সুনিশ্চিত। কেন্দ্রিকতা নয়, নির্বাচিত স্থানীয় সরকারই লক্ষ্য।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল