খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা, পাঁচ সাংবাদিক আহত – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা, পাঁচ সাংবাদিক আহত

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৭

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা, পাঁচ সাংবাদিক আহত

ফেনী প্রতিবেদক: রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার পথে ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। কমপক্ষে ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এর মধ্যে গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়িও রয়েছে। এতে একাত্তর টিভি, সময় টিভি, বৈখাশী টিভি, বাংলাভিশনের রিপোর্টার ও চ্যানেল আইর ক্যামেরাম্যানসহ পাঁচ সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

শনিবার বিকালে চৌদ্দগ্রাম পেরিয়ে ফেনী জেলার সীমানার শুরুতে মোহাম্মদ আলী বাজারে এই হামলা হয়। ফেনী জেলা শহরের ৬-৭ কিলোমিটার আগে এই স্থানটি। হামলার শিকার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণমাধ্যমসহ বহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি।

একাত্তর, ডিবিসি, চ্যানেল আই, বৈশাখী ও যমুনা টেলিভিশনের গাড়ি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী মারধরের শিকার হন। একাত্তর টিভির এক কর্মী ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনিও মারধরের শিকার হন। এছাড়া বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে বিকাল ৫টার দিকে খালেদা জিয়া ফেনী জেলা শহরের পৌঁছেছেন বলে তার সঙ্গে থাকা বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িসহ বহরের ৩০টির মতো গাড়ি মোহাম্মদ আলী বাজার অতিক্রমের পরপরই ১৫-২০ যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে উঠে আসে। কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে।

তাদের রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে ফেনীতে যাত্রাবিরতির সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সড়কে অবরোধ করে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে বলেন, খালেদা জিয়া ‘উস্কানি দিয়ে গোলযোগ বাঁধাতে’ সড়ক পথে এই সফর করছেন।

চট্টগ্রামমুখী খালেদা জিয়ার বহরে দেড় শতাধিক গাড়ি রয়েছে। ফেনী সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতির পর সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামের পথে রওনা হন বিএনপি চেয়ারপারসন।

ফেনী সার্কিট হাউজে খালেদাকে স্বাগত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ফেনী জেলা সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিস্টার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক রেহানা আখতার রানু প্রমুখ।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাত কাটিয়ে রোববার বেলা ১১টায় সড়ক পথে কক্সবাজারে উদ্দেশে রওনা হবেন বিএনপি নেত্রী। সেখানে সার্কিট হাউজে রাত কাটিয়ে সোমবার উখিয়ার বালুখালী, বোয়ালমারা ও জামতলী রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে রওনা হওয়ার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা খালেতার সঙ্গে ছিলেন।

এই কর্মসূচি সফলে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে ফখরুল সকালে বলেছিলেন, “আমরা আশা করি, পথিমধ্যে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা পাব। পুলিশ মহাপরিদর্শক আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, তারা দেশনেত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং তার সফর যাতে সুন্দরভাবে হয়, তাতে সহযোগিতা করবেন।”

বিএনপি মহাসচিব জানান, খালেদার এই সফরে ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরুর পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ২২ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে কক্সবাজারের যাওয়ার পথে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকে আটকে দেওয়া হয়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, ‘নিয়ম মেনে’ জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটির মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের আটকানো হয়েছে। এর আগে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামে হামলার শিকার হয়েছিল বিএনপি মহাসচিব ফখরুলের গাড়িবহর।