খালেদা জিয়াসহ সারাদেশের নিরাপত্তা জোরদার দাবি বিএনপির – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

খালেদা জিয়াসহ সারাদেশের নিরাপত্তা জোরদার দাবি বিএনপির

প্রকাশিত: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২, ২০১৬

খালেদা জিয়াসহ সারাদেশের নিরাপত্তা জোরদার দাবি বিএনপির

13567094_812016345602646_1152834729164106605_nবিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সারাদেশের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বিশেষ করে রাজধানীর কূটনৈতিকপাড়া গুলশানের নিরাপত্তা জোরদারের আহবান জানান তিনি।

গুলশানে রেস্তোরায় জিম্মি ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া এক বিবৃতি পাঠ করে শোনান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, গতকাল রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেষ্টুরেন্টে বন্দুকধারী সন্ত্রাসীদের কর্তৃক কয়েকজন বিদেশী নাগরিকসহ অন্তত: বিশ জনকে জিম্মি করে বাংলাদেশের ইতিহাসে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরী করার নজীরবিহীন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়া।

বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, “গতরাত থেকে শুরু হয়ে আজ সকাল পর্যন্ত দুস্কৃতিকারিদের কর্তৃক সংঘটিত প্রাণবিনাশী ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ফলে সৃষ্ট অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি মিলে মিশে দেশে এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরী হয়েছে যা পৈশাচিক স্বৈরতন্ত্রে অধ:পতিত হয়েছে। যার বিকৃত প্রতিক্রিয়া সারাদেশে ফুটে উঠতে শুরু করেছে। গত রাতের দুস্কৃতিকারিদের নির্মম রক্তাক্ত অভ্যূত্থান দেশে বিরাজমান দু:শাসনেরই বহি:প্রকাশ।

তিনি বলেন, আমরা বারবার উগ্রবাদীদের অমানবিক রক্তঝরা অশুভ পরিকল্পনা মোকাবেলা করার জন্য দলমত নির্বিশেষে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের সেই আহবানকে উপেক্ষা করে বরং বিএনপিসহ বিরোধী দলের প্রতি বিষোদগারেই ব্যস্ত থেকেছে। প্রকৃত জঙ্গী দমনে কোন ধরনের ইতিবাচক তৎপরতা দেখানো তো দুরে থাক, বরং বিএনপিকে অভিযুক্ত করতে ব্লেমগেম খেলতে গিয়ে সরকার জঙ্গীদের স্বাস্থ্যবর্ধন করেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, কিছু দিন আগে জঙ্গী দমনের নামে অভিযান চালিয়ে বিএনপি’র বিরুদ্ধে ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য। সরকার প্রধান ও সরকারের লোকজন জঙ্গীবাদের দমনের নামে বেআইনী বিচারবহির্ভূত হত্যাকে জায়েজ করে বক্তব্য রেখে যাচ্ছে। এতো কিছুর পরও জঙ্গীদের বিবেকবর্জিত অপতৎপরতা থামাতে পারেনি সরকার। গতকাল ঝিনাইদহে শ্যামানন্দ দাস নামে একজন সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যা করেছে জঙ্গীরা। তাকে হত্যা এবং রাতে গুলশানের লোমহর্ষক মানুষ জিম্মি ঘটনায় প্রমানিত হলো-সরকারের সপ্তাহব্যাপী ক্র্যাকডাউনের উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি দমন, জঙ্গীবাদ দমন নয়।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আবারো সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি-এই নিষ্ঠুর বিবেকবর্জিত গণতন্ত্র ও সভ্যতা বিরোধী উগ্রবাদী শক্তিকে নির্মূল করতে দলমত নির্বিশেষে সকলের সমন্তিত প্রচেষ্টাকে কাজে লাগাই। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এখনই এই উগ্রবাদী শক্তিকে দমন করতে না পারলে এরা দীর্ঘতম যুদ্ধ চালিয়ে দেশের জনগণের শান্তি, সুস্থিতি, নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন করে তুলবে।

তিনি বলেন, গতরাতের রক্তাক্ত ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাইয়েরা যারা নিহত হয়েছেন তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। একই সাথে সারাদেশসহ কুটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই সহিংস ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দুস্কৃতিকারিদের শাস্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হবে এবং এদের নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করে তা নির্মূল করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সক্ষম হবে।”

অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতরাতে গুলশানের একটি রেষ্টুরেন্টে উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের কর্তৃক মানুষ জিম্মি করে রক্তপাতের নজীরবিহীন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গুলশানের এলাকাবাসী এবং অত্র এলাকার বাসিন্দা বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাই।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সহিংস ঘটনায় জড়িত দুস্কৃতিকারিদের আটক এবং এদের গোপন আস্তানা দ্রত সময়ের মধ্যে ধ্বংস করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সক্ষম হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, স্বেচ্চাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইমলাম, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।