গণতন্ত্র এখন নাজিমুদ্দিন রোডে বন্দী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গণতন্ত্র এখন নাজিমুদ্দিন রোডে বন্দী

প্রকাশিত: ৬:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

গণতন্ত্র এখন নাজিমুদ্দিন রোডে বন্দী

গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে। গণতন্ত্র এখন নাজিমুদ্দিন রোডে বন্দী। গণতন্ত্রের মা এদেশের আন্দোলন সংগ্রামে আপোষহীন একজন সাহসী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ষ্ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর সাঁজা দিয়ে সাধারণ কয়েদীর মতো নাজিমুদ্দিন সড়কে পুরনো কারাগারে বন্দী রেখেছেন। যেই কারগারটি কিছু আগে পরিত্যাক্ত ঘোষণা দিয়ে কারাগারে থাকা সব আসামীদেরকে কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানে এদেশের সাবেক সফল রাষ্ট্রনায়ক, রনাঙ্গনে যুদ্ধ ও নেতৃত্ব দিয়ে যিনি বীর উত্তম উপাধি পেয়েছেন, বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা সাবেক সেনা প্রধান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সহধর্মীনী যিনি নিজেও এদেশের জনগণের রায়ে তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, দুই বারের বিরোধী দলীয় নেতা। যতবার নির্বাচন করেছেন, সারা বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে কোন নির্বাচনে পরাজিত হননি।

সেই জনপ্রিয়, জননন্দিত বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে মানসিকভাবে যে নির্যাতন করছে তাতে এ জাতি কখনো ভুলবে না। যেই রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেই জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট এর চেয়ারম্যান কিংবা নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্বে ছিলেন না। তিনি সেই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মামলায় যে টাকা আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে, সেই টাকার শুধুমাত্র ট্রাষ্টের নামে না রেখে ব্যক্তিনামে রাখার অপরাধে এই শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। অথচ সেই টাকা আজও ব্যাংকে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। গত ১০ বছরে এদেশে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, ভোটারবিহীন সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী প্রায় বলে থাকেন “রাবিস” তিনি বলেন ৪ হাজার কোটি টাকা কোন টাকাই না। যে দেশে হলমার্ক দুর্নীতি, ডেসটিনি দুর্নীতি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের দুর্নীতিসহ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে যায়, যারা সরাসরি দুর্নীতিতে জড়িত তাদের যেখানে বিচার হয় না, সেখানে কেন সুপরিকল্পিতভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদন্ড দিলেন। ভোটারবিহীন সরকার সবচেয়ে বেশী ভয় পায়, জিয়া পরিবারকে এবং তার চেয়ে বেশী ভয় পায় বেগম খালেদা জিয়াকে। ভোটার বিহীন সরকার বিশ্বাস করে যদি বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং সারাদেশে সাধারন ভোটারদের কাছে পৌছাতে পারে তাহলে বিএনপির বিজয় বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আর সে কারণেই নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা আবারো পাকাপোক্ত করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলা দায়ের করে থাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ১৪ হাজার কোটি টাকার দূর্নীতির মামলাগুলো বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটিয়ে তুলে নেওয়া হয়। বর্তমান সরকার যেভাবে ভেবেছিল বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাটিয়ে হিতে বিপরীত হয়েছে।

 

কারণ বর্তমান সরকারের গালগপ্প কেউ বিশ্বাস করে না। কোন পাগল কেও যদি বলা হয়, নিজের স্বামীর নামে ট্রাষ্টের ব্যক্তিগত অনুদানের টাকা মেরে দিয়েছে, তাহলে তা হবে পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। মুক্ত খালেদা জিয়ার চেয়ে বন্দী খালেদা জিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী। সরকার ভেবেছিল তাদের ফাঁদে বিএনপি সহ ২০ দলীয় জোট পা দিবে। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ বিএনপি যে কর্মসূচী দিচ্ছে তা জনগণ নির্ভর অহিংস কর্মসূচী। সেখানে জ্বালাও পোড়ানোর কোন গল্প চলবে না। রাত যত গভীর হউক না কেন, নতুন সূর্য্য উঠবেই। সরকারের পাতানো খেলায় আর কেউ পা রাখবে না। দুঃশাসনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। পতন অনিবার্য। গণতন্ত্রকে নাজিমুদ্দিন কারাগারে বন্দী করা যাবে না দীর্ঘদিন। আরেকটি মজার ব্যাপার হলো যেদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় হয়েছে সেদিন রাজপথে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ-যুবলীগ অস্ত্রের মহড়া করেছে। হুন্ডা চালিয়ে রাজপথে প্রকাশ্যে গুন্ডামি করেছে। সারাদেশে আনন্দ সমাবেশ করেছে। অন্যদিকে পুলিশ বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ মিছিলে বার বার আক্রমন করছে। কোন কোন জায়গায় পুলিশও আওয়ামীলীগ যৌথভাবে হামলা করছে। এই পর্যন্ত সারা দেশ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করেছে এবং হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেছে। বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের কোন নেতাকর্মী ঘরে থাকতে পারছে না। গত ১০ বছর গুম আর খুনের মধ্য দিয়ে বিরোধী দলকে তছনছ করে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চালিয়েছে তা সফল হয়নি। প্রতিদিন মিছিল হচ্ছে আর মিছিল থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হচ্ছে। তবুও মিছিল ক্রমন্নয়ে গণমানুষের সম্পৃক্তি বাড়ছে। ১২ই ফেব্রুয়ারী মানববন্ধন, ১৩ই ফেব্রুয়ারী অবস্থান ধর্মঘট এবং ১৪ ইং ফেব্রুয়ারী গণ অনশনে লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মীরা উপস্থিত হয়ে বন্দী দশা থেকে গণতন্ত্র মুক্ত করে আনবেই।