গণতন্ত্র ফি‌রিয়ে আনতে প্র‌য়োজনে জীবনের শেষ রক্ত‌ বিন্দু দেবো: মির্জা আলমগীর – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

গণতন্ত্র ফি‌রিয়ে আনতে প্র‌য়োজনে জীবনের শেষ রক্ত‌ বিন্দু দেবো: মির্জা আলমগীর

প্রকাশিত: ২:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৬

গণতন্ত্র ফি‌রিয়ে আনতে প্র‌য়োজনে জীবনের শেষ রক্ত‌ বিন্দু দেবো: মির্জা আলমগীর

2-26-349-696x411৩১ অক্টোবর ২০১৬, সোমবার: অ‌ধিকার আদা‌য়ের প্রশ্নে কোনো আপোস (কম্প্রোমাইজ) করা হবে না বলে মন্তব্য করে বিএন‌পির মহাস‌চিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র ফি‌রিয়ে আনতে প্র‌য়োজনে জীবনের শেষ রক্ত‌ বিন্দু দেবো।

‌সোমবার বি‌কেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) গণসাংস্কৃ‌তিক দ‌ল আয়ো‌জিত রাজনী‌তিবিদ অ‌লি আহাদের চতুর্থ মৃত্যুবা‌র্ষিকীর আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, সরকার গণতা‌ন্ত্রিক সব সম্ভাবনা বিনষ্ট করেছে। তাদের রাজনী‌তি জা‌তিকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। কোনো রকম জবাব‌দি‌হিতা ছাড়া মানুষ হত্যা চলছে। যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ভাষা সৈনিক অলি আহাদকে স্মরণ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ন্যায় ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিলো অলি আহাদের লড়াই। মনে রাখতে হবে আমাদের একটা সত্ত্বা রয়েছে। সেই চেতনাকে সামনে রেখে আমরা স্বাধানীতা যুদ্ধ করেছি। আর সে চেতনা হচ্ছে গণতান্ত্রিক চেতনা। সেই গণতন্ত্র আজ নেই। এ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপি লড়াই করছে। এ ব্যাপারে ‘নো কম্প্রোমাইজ’। প্রয়োজনে জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু হলেও লুট হয়ে যাওয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লড়াই করে যাবো।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক সব সম্ভাবনা বিনষ্ট করেছে। তাদের রাজনীতি জাতিকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। কোনো রকম জবাবদিহিতা ছাড়া মানুষ হত্যা চলছে। যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আজকে দেশে যে রাজনীতি চলছে-তা সত্যিকার অর্থে নিঃস্ব জাতিতে তৈরী করছে। এ জাতির মধ্য থেকে ভাল কিছু আসছে না। বিবেক আসছে না। যখন দেখছি, একটি জবাবদিহিতা ছাড়াই কোনো মানুষ রুদ্ধ করা হচ্ছে। যে কারণেই হোক সে, ক্রিমিনাল বা জঙ্গি হতে পারে। কিন্তু প্রত্যেকটি মানুষের অধিকার রয়েছে ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার পাবার।

তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা জোর করে চেপে বসেছে। যার কারণে সংবাদ মাধ্যমও সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। চতুরদিকে ভয়ভীতি আর ত্রাস। যাদেরকে দেখতাম একসময় ন্যায়ের পে কথা বলতো তদেরকে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এভাবে দেশের গণতান্ত্রিক সম্ভাবনাকে পিছনে গভীর গহবরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনটা আমরা পঞ্চাদশ সংশোধনী সময়ই আশঙ্কা করছিলাম।

আমরা আমাদের বীরদের সঠিকভাবে স্মরণ করছি না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন,এটা আমাদের জন্য জাতীয় লজ্জার। এ দিনে অলি আহাদের মত এতো বড় একজন মানুষের স্মরণের কোথায় কোনো ক্রোড়পত্র বা লেখা ও আলোচনা দেখতে পাচ্ছি না। আসলে সময়টাই এখন নষ্ট সময় চলছে। কোনটা সঠিক বা ঠিক না, কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায় তা যেন জাতি হারিয়ে ফেলেছে। গোটা বিশ্বই নষ্ট সময় পার করছে। এ অবস্থায় ন্যায় ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশের তরুণ ও বিবেকমান মানুষদের ঐক্য হতে আহ্বান করছি।

সংগঠনের সভাপতি এস আল মামুনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু, অধ্যাপক আব্দুল গফুর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, দলের ঢাকা জেলা সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু, ছড়াকার আবু সালেহ, বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্য সেলিম ভ‚ইয়া, অলি আহদের কন্যা বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার ফারহান রুমিন প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল